শিরোনাম

আখের বকেয়া টাকা না পেয়ে অন্য ফসলে ঝুঁকছেন কৃষকরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥গোলাপ হোসেন, জয়পুরহাট  |  ০২:০৪, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

জয়পুরহাট চিনিকলে আখ বিক্রির তিন মাস পরও ৬ হাজার কৃষক টাকা পাচ্ছেন না। তারিখের পর তারিখ দিয়েও টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না চিনিকল কর্তৃপক্ষ। ফলে রোপণ করা আখ নষ্ট করে অন্য ফসল চাষ করছেন আখচাষীরা। সময় মত টাকা না পাওয়ায় এরই মধ্যে চিনিকলের আওতাভুক্ত সাড়ে তিনশ একর জমিতে রোপণ করা আখের চারা নষ্ট করে অন্য ফসল চাষ করার খবর পাওয়া গেছে। চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, গত মাড়াই মৌসুমের ডিসেম্বর মাসে জয়পুরহাট চিনিকলে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কুইন্টাল সাড়ে তিনশ টাকা দরে বাকিতে আখ ক্রয় করা হয়। মৌসুম চলাকালে কিছু টাকা পরিশোধ করা হলেও মৌসুম শেষে এলাকার ৬ হাজার কৃষকের কাছে চিনিকলের মোট বকেয়া হয় ১২ কোটি টাকা। যা গত তিন মাসেও পরিশোধ করতে পারেনি চিনিকল কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের দাবি, আখ হলো দীর্ঘমেয়াদির ফসল। অনেক টাকা খরচ করে তারা আখচাষ করেন। সেই আখ চিনিকলে বিক্রি করে টাকা দেওয়ার নামে গত তিন মাস থেকে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা বলেন এক গাড়ি আখ জমি থেকে চিনিকল পর্যন্ত পৌঁছাতে তাদের শ্রমিক এবং পরিবহনের বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। বিক্রির টাকা পেলে সেখান থেকে বাড়তি টাকা পরিশোধ করা হয়।কিন্তু চিনিকল কর্তৃপক্ষ টাকা না দেওয়ায় তারা শ্রমিক এবং পরিবহনের টাকাও পরিশোধ করতে পারছেন না। চিনিকলের কৃষি ব্যবস্থাপক আব্দুল বারী বলেন, ‘গত মৌসুমে ছয় হাজার একর জমিতে আখচাষ হলেও কৃষকরা সময় মত আখের মূল্য না পাওয়ায় এবার সাড়ে চার হাজার একর জমিতে আখচাষ হয়েছে। যার মধ্যে অনেক কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় সাড়ে তিনশ একর আখের চারা নষ্ট করে অন্য ফসল চাষ করছেন’। চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল ফারুক বলেন, ‘জয়পুরহাট চিনিকলে ১৯ কোটি টাকার চিনি এবং ৪ কোটি টাকার চিটাগুড় মজুত আছে। যা বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে কৃষকদের সমস্যার সমাধান হবে।তিনি বলেন, ‘আখের বর্তমান মূল্যে কৃষকরা লাভবান হলেও আখ বিক্রির টাকা পরিশোধে গড়িমসি করার কারণে আখ চাষে তারা উৎসাহ হারাচ্ছে’।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত