শিরোনাম

লালপুরে ব্যাগিং পদ্ধতিতের আম-লিচুর চাষ

মো. আশিকুর রহমান টুটুল, লালপুর (নাটোর)  |  ১২:৫৩, মে ২৫, ২০১৯

নাটোরের লালপুরে এবার বাণিজ্যিক ভাবে বিষমুক্ত নিরাপদ ফল উৎপাদন ও বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে ৫০ হাজার আম ও লিচুতে (বিশেষ ধরনের কাগজের ব্যাগ দিয়ে মোড়ানো) ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের চাষী কামরুজ্জামান লাভলু গত বছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে ৩২ হাজার আমে ফ্রুট ব্যাগিং করে সফলতা পেয়ে এবছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে ৩৫ হাজার (আম ‍রুপালি, খিরসাপাতি, লক্ষণা, লেংড়া, ফজলি ও আশ্বিনী) জাতের আম ও ১৫ হাজার বুম্বায় ও চায়না থ্রিরি জাতের লিচুতে ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন।

জানাগেছে, গত বছর লালপুর উপজেলায় আমে পরীক্ষা মূলক ভাবে চীন থেকে আমদানিকৃত ৩২ হাজার ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহর করে সফলতা পাওয়ায় এবছর ৩৫ হাজার আমের সঙ্গে ১৫ হাজার লিচুতে ফ্রুট ব্যাগিং করা হচ্ছে। আম ও লিচু গুলি ব্যাগের ভিতরে থাকায় কীটনাশক প্রয়োগের ছাড়াই পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

এই পদ্ধতিতে আম ও লিচু নষ্টও কম হয় এবং উৎপাদিত আম ও লিচুর ফলনও বৃদ্ধি পায়। স্বল্প খরচে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির মাধ্যমে মানসম্পন্ন আম ও লিচু উৎপাদন করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। পাশাপাশি মানবদেহ ও পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করেন এখনকার চাষীরা।

সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাবুই পাখির বাসার মতো গাছে গাছে সাদা ও হলুদ রংএর কাগজের ব্যাগ ঝুলছে। বাগানের ভিতরে গিয়ে দেখা যায় বাগান মালিক গাছের আম ও লিচু ব্যাগের ভিতরে প্যাকিং করছেন।

এসময় বাগানের মালিক কামরুজ্জামন আমার সংবাদকে বলেন, ‘গত বছরে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩২ হাজার আম ফ্রুট ব্যাগিং করে বেশ সফলাতা পেয়েছি। সেই অভিজ্ঞতায় এবছর ৩৫ হাজার আম ও ১৫ হাজার লিচুতে ফ্রুট ব্যাগিং করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘চীন থেকে আমদানিকৃত এই ব্যাগ গুলি সাড়ে ৩ টাকা খরচ পড়েছে। ব্যাগগুলি দুইবার ব্যবহার করা যাবে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করায় আম ও লিচুর বাগানে বর্তমানে আমাকে কোনো বাড়তি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি। গত বছরের মতো এবছরও ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম ও লিচুর চাহিদা বেশি থাকায় দেশ ও দেশের বাহিরে রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, আম ও লিচু চাষী কামরুজ্জামান লাভলু গত বছর থেকে এই উপজেলায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম উৎপাদন শুরু করেছেন। গত বছর সফলতা পাওয়ায় এবছর তিনি প্রায় ৫০ হাজার আম ও লিচুতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। বিষমুক্ত নিরাপদ ফল উৎপাদনে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে উপজেলা কৃষি বিভাগ হতে কৃষকদের সব রকম পরামর্শ ও সহায়তার উদ্যেগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।’

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত