শিরোনাম

লতি বিক্রি করে স্বাবলম্বী আব্দুর রহমান

প্রিন্ট সংস্করণ॥মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)  |  ১১:১৫, জুন ২৭, ২০১৯

ময়মনসিংহের ত্রিশালে লতি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছে কৃষক আব্দুর রহমান। জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বীর রামপুর গ্রামের খেটে খাওয়া ৮ সদস্য পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল অভিভাবক কৃষক আব্দুর রহমান।

গত পঁচিশ বছর থেকে লতির ব্যবসা শুরু করেন তিনি। সেসময় লতিচাষ করে কোন রকম চলত আব্দুর রহমানের সংসার। অভাবী সংসারে ২ ছেলে ৩ মেয়ের লেখা পড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিল আব্দুর রহমান। দমকে না গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন তিনি।

আজ সে লতিচাষ করার পাশাপাশি লতির ব্যবসা করে এলাকায় জমি ক্রয় করে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখার খরচ করেও সংসার চালাচ্ছে। এখন আর অভাব কি জিনিষ তার পরিবারের সদস্যদের বুঝতে হয়না।

দশম শ্রেণি পড়ুয়া দুই মেয়ে ও সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া দুই ছেলের লেখা পড়ার খরচ দিয়ে সুখেই জীবন কাটাচ্ছে আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, আমি কৃষকদের লতিক্ষেত ক্রয় করে ঢাকার কাওরান বাজার, টঙ্গী সুইস গেইটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করি।

আমি মূর্খ মানুষ কিন্তু আমার স্বপ্ন আছে, আমি যেন আমার ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করিয়ে অনেক বড় অফিসার বানাতে পারি। আমার বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসাসহ ৫ ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ দিয়ে আমার যে আয় থাকে তাতে সুখেই চলছে আমার সংসার জীবন।

লতির ব্যবসায়ী রহমান আরো জানান, আমার লতির ব্যবসায় ৮জন শ্রমিক বান্ডেলের কাজ করে এতে তাদের সংসারও চলছে ভালোভাবেই।

রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া রহিম জানায়, লেখাপড়ার পাশাপাশি আব্দুর রহমান চাচার সাথে লতি বান্ডেলের কাজ করছি। আমাকে প্রতিদিন দুইশ টাকা দেয়, এতে শুধু আমার লেখাপড়ার খরচই চলছেনা আমার সংসারের খরচেরও যোগান হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত