শিরোনাম

আষাঢ়ের বৃষ্টিতে লালপুরে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক

মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল, লালপুর (নাটোর)  |  ২০:১৭, জুন ২৯, ২০১৯

আষাঢ়ের ১২ দিন পরে লালপুরে দেখা মিলেছে স্বস্তির বৃষ্টি। বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে হঠাৎ উপড়েলা জুড়ে শুরু হয় মুষলধারে স্বস্তির বৃষ্টি। এই বৃষ্টির পর থেকে উপজেলার মাঠ জুড়ে বর্ষা মৌসুমের রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও বীজতলায় বীজ ধান রোপনে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

জানা গেছে, এই অঞ্চলে বোরো ধানের চাষ তেমন হয়না।শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভর করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন ধানের চাষ করে থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রোপা আমন চাষে বিলম্ব হয়ে গেছে। ফলে অনেক চাষী হতাশ হয়েছেন।

শনিবার (২৯ জুন) সকাল থেকে উপজেলার, লালপুর, গোপালপুর, আব্দুলপুর, ওয়ালিয়া, নান্দ, বড়ময়না, কদিমচিলান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকরা রোপা আমন ধান চাষের জন্য পূর্ব প্রস্ততি হিসেবে বীজতলা তৈরি ও বীজতলায় ধান রোপন করছেন কেউ বা ধান চাষের জমি প্রস্তুত করছেন।

এসময় শত ব্যস্ততা দেখেও কথা বলতে চাইলে উপজেলার ধান চাষী শফিকুল ইসলাম প্রতিবেদক কে বলেন, প্রতিবছর এই সময় আমাদের ধানের চারা তৈরি হয়ে যায় এবং শ্রাবণ মাসের শুরু থেকে মাঠে মাঠে রোপা আমন ধান রোপন শুরু হয়। কিন্তু এই বছর সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমরা ধানের চারা তৈরি করতে পারি নাই। দেরিতে হলেও গত বৃহস্পতিবার একটু বৃষ্টি হওয়ায় আজ বীজতলায় ধানের চারা দিচ্ছি।

ওয়ালিয়া গ্রামের ধান চাষী হাসিবুল ইসলাম বলেন, সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবছর ধানের চাষ পিছিয়ে গেছে।

ধান চাষী মজনু আলী বলেন, সেচ দিয়ে ধান চাষ অনেক খরচের বিষয়, আমাদের এই অঞ্চলের প্রায় কৃষকই বর্গা চাষী এদের নিজের জমি নেই, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষ করে থাকে। এমনিতেই যে টাকা খরচ করে ধানের চাষ করা হয় ধান বিক্রয় করে সে টাকা আয় হয় না।

এছাড়াও প্রতিটি জমিতে পানি সেচের সুব্যবস্থা না থাকায় বেশি টাকা ব্যায় করে পানি সেচ দিয়ে চাষাবাদ করার সামর্থ্য সবার নেই। তাই আমরা আষাঢ়ের বৃষ্টির পানিতেই বর্ষা মৌসুমের রোপা আমন ধানের চাষ করে থাকি।

এব্যাপারে লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম আমার সংবাদ কে বলেন, চলতি মৌসুমে লালপুর উপজেলার ৭ হাজার ২৩১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই উপজেলায় বোরো ধানের চাষ তেমন না হওয়ায় শুধু বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে এই অঞ্চলের চাষীরা রোপা আমন ধানের চাষ করে থাকেন। প্রতিটি এলাকাতেই কৃষকরা বীজ তলা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এবছর বৃষ্টিপাত একটু দেড়িতে শুরু হলেও চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষমাত্র পুরণ হবে বলে তিনি মনে করছেন।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত