শিরোনাম

কোটি টাকার ধান পানিতে, খোঁজ নেই কৃষি অফিসের

জামাল মিয়া, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)  |  ১৬:২০, আগস্ট ০৫, ২০১৯

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টি পাতের ফলে ভৈরবের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের রোপিত আউশ ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় একমাস ধরে এসব ধানি জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় বর্তমানে ধানগাছে পঁচন ধরেছে।

এমন পঁচন ধরা জমির পরিমাণ কমপক্ষে ৪শত হেক্টর। ফলে এবছর মোট উৎপাদিত ফসল থেকে ৫৪ হাজার মন ধান কম উৎপাদিত হবে বলে ধারনা করছেন স্থানীয়রা। বাজারমূল্যে যার ক্ষতির পরিমাণ দাড়াবে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা।

আর এই বিরাট ক্ষতির আশংকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। এদিকে কৃষকদের এমন দূরাবস্থাতেও মাথা ব্যথা নেই স্থানীয় কৃষি অফিসের। পানির নিচে তলিয়ে থাকা ধানি জমির কোন হিসেব বা পরিসংখ্যান নেই কৃষি বিভাগের কাছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, পানি যদি অল্প সময়ে নেমে যায় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমবে। পানি বেশি দিন থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। যেখানে এত বড় ক্ষতির মুখে কৃষক, সেখানে কর্তৃপক্ষের এমন নির্বিকার-নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।

ভৈরবের শিবপুর, কালিকাপ্রসাদ, পানাউল্লাহরচর, গাজির টেক, সাদেকপুর, শিমুলকান্দি, চন্ডিবের, রামশংকরপুর, কালিপুর, ইমামেরচর, গজারিয়া ও শ্রীনগরসহ বিভিন্ন এলাকার ৯শ ৫০হেক্টর জমিতে এবার আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। সেঁচ, সার, কিটনাশক ও সঠিক পরিচর্জায় জমির ফলনও হয় বাম্পার।

তবে এ অঞ্চলে বন্যা দেখা না দিলেও সম্প্রতি টানা বৃষ্টি পাতের ফলে আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাঝারি ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে আউশ ধানের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া জমিগুলোর প্রতিটি জমিতে ধান বের হওয়া শুরু হচ্ছিল মাত্র।

এসময়ে ফসলি জমি এতদিন পানির নিচে থেকে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হওয়ার পথে। প্রতি হেক্টরে ১৩৫ মণ আউশ ধান উৎপাদিত হত। এ হিসাবে ৪শত হেক্টর জমিতে কম হবে ৫৪ হাজার মন ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পথে। বাজার দর ৫শ টাকা প্রতি মণ হলে এর ক্ষতির পরিমাণ দাড়ায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে গাজিরটেকের আব্দুল আজিজ নামে এক কৃষক বলেন, ‘গত ২০/২২দিন ধইরা আমার আউশ ধানের ক্ষেত পানির নিচে পইরা রয়ছে। সব ধান গাছ পঁচা ধরছে। কিন্তু কৃষি অফিসের কেউ আমরার খবর নিচ্ছে না।’

পানাউল্লারচরের মিলন মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, লাভের আশায় ঋণ কইরা আউশ ধান করছিলাম। সব জমি পানির নিচে ডুবে গেছে। সরকার যদি আমাদের তালিকা কইরা কিছু সাহায্য-সহযোগিতা দিতো আমরা কোনো রকমে বাইচ্চা থাকতাম! এমন আক্ষেপ শুধু মিলন আর আব্দুল আজিজেরই নয়।

ভৈরবে এবার আউশ ধান রোপনকারি শিবপুরের মনির হোসেন, শ্রীনগরের ধন মিয়া, চন্ডিবের গ্রামের মাসুদ মিয়া, রামসংকরপুরের মোঃ লিটনসহ কমপক্ষে দশ হাজার কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।

কৃষকদের এমন দূরাবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে ভৈরব কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, ভৈরবে আউশ ধানের এখন পর্যন্ত তেমন ক্ষতি হয়নি। কৃষকরা যেসব জমিতে আউশ আবাদ করেছে তা সবগুলি দুই ফসলি জমি। যদি আউশ ধান নষ্ট হয় তাহলে কৃষকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

যেসব জমি তলিয়ে গেছে পানি যদি অল্প সময়ে নেমে যায় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমবে। পানি যদি বেশি দিন থাকে তাহলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তথ্যসংগ্রহের কাজ চলছে। পরবর্তীতে তালিকা করে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করা হবে।

ভৈরবে এবছর অসময়ে এ পানি ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের দূরাবস্থায় স্থানীয় কৃষি অফিসের কোনো সহানুভ’তি কিংবা সাহায্য না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।

তবে বর্তমান কৃষকবান্ধব সরকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করে প্রনোদনার ব্যবস্থা করবে এবং তাদের পাশে দাড়াবে এমনটাই কামনা করেন ভৈরবের চাষিরা।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত