শিরোনাম

সমৃদ্ধির পথযাত্রায় আমার সংবাদ বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রত্যাশা

প্রিন্ট সংস্করণ॥মোতাহার হোসেন  |  ১০:৩৮, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

দেশের এবং জনগণের কল্যাণ মাথায় রেখে পত্রিকা প্রকাশ করার কোনো উদ্যোগ নিলে তা নিঃসন্দেহে মহতি উদ্যোগ। এর পাশাপাশি দরকার রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অখ-তা, স্বাধীনতার প্রশ্নে আপসহীন হওয়া। এই চরিত্র থাকলে ওই পত্রিকাকে একই সাথে জনবান্ধব, দেশ ও স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের পত্রিকা হিসেবে পাঠক হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লেবাসে তলে তলে, কৌশলে এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়া এই নজির কম নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত অল্প কিছু পত্রিকা নিজেদের প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের এবং স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থা নিতে দেখা যায়। অথচ সব পত্রিকার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের পক্ষের, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষে শক্ত অবস্থানে থাকা। আবার অনেকে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে রাষ্ট্রের এবং জনগণের বিপক্ষে চলে যায়। এর নজিরও ভুরি ভুরি। এটা দুঃখজনক, পীড়াদায়ক। অথচ আমরা অনেকেই বেমালুম ভুলে যাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও তার আহ্বানে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মাহুতি, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাই আমাদের সবরকম সুযোগ, সম্ভাবনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন অর্জনের পথ খুলে দেয়। আর এর বদৌলতেই মূলত বর্তমানে দেশে সর্বাধিক সংবাদপত্র, অনলাইন, টেলিভিশনের সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে। এটা অস্বীকার কার উপায় নেই, বর্তমানে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সংবাদপত্রসহ সকল প্রচারমাধ্যম সর্বাধিক স্বাধীনতা ভোগ করছে। একই সাথে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারি উদ্যোগে নেয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। এর মধ্যে সাংবাদিকদের কল্যাণে গঠন করা হয়েছে সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ড, বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে নবম ওয়েজবোর্ড। এ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে অর্থাৎ ছয় বছর আগে জন্ম হয় ‘দৈনিক আমার সংবাদ’ নামের একটি নতুন পত্রিকা। এই পত্রিকার প্রকাশ মূলত নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা, নতুন প্রত্যাশা নিয়ে। এই পত্রিকার স্লোগান হচ্ছে ‘সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন’। সত্যের সন্ধান করতে গিয়ে এই পত্রিকাকে, পত্রিকার প্রকাশক, সম্পাদক এবং সংশ্লিষ্টদেন নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এই প্রত্যাশা করছি। জন্মলগ্ন থেকে এই পত্রিকা নিজেদের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের, দেশের, দশের স্বার্থকে, সর্বাগ্রে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংবাদ, সম্পাদকীয় প্রকাশ করছে এটা সুখবর অবশ্যই। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি এ পত্রিকা প্রতিটি পাঠকের কাছে, তাদের নিজেদের পত্রিকা হবে, নিজেদের পছন্দের খবর, বিনোদন, খেলাধুলা, আন্তর্জাতিক সব রকমের খবর থাকবে এই পত্রিকায়। বাস্তবে এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই পত্রিকাটির জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। অনেক সময় এ-ও দেখা যা,য় একটি পত্রিকার জন্মকালের অঙ্গীকার পরবর্তীতে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষীর কাছে নত হতে হয়। স্বার্থের কাছে, সত্যের, পাঠকের চাহিদার অপমৃত্যু হয়। আত্মসমর্পণ করতে হয় স্বার্থান্বেষী মহলের কাছে। কিন্তু এই পত্রিকা শুরু থেকে যে অঙ্গীকার নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে, তা শত প্রতিকূলতা, বাধার মুখের কক্ষচ্যুত হয়নি সত্য প্রকাশে। এর কারণ, এই পত্রিকার সম্পাদক হাশেম রেজা নিজে একজন প্রথিতযশা সংবাদকর্মী। তিনি হাটে-মাঠে-ঘাটে, নগরে-বন্দরে-শহরে ঘুরেছেন, নানা ঘটনাপ্রবাহ তার জানা। তাকে আমি মূলত এভাবেই জানি। আমার বিশ্বাস, তিনি সম্পাদক হিসেবে অদূর ভবিষ্যতে পেশাদারিত্ব নিয়ে আরো এগিয়ে যাবেন। তবে সেই এগিয়ে যাওয়ার পথ হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা, নৈতিক, সামাজিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই। তার কাছে, তার পত্রিকা কাছে একজন সংবাদকর্মী এবং সর্বোপরি একজন পাঠক হিসেবে প্রত্যাশাটাও একটু বেশি। আজ থেকে ছয় বছর আগের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্ম নিলো সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন পাঠকের সঙ্গে থাকার। আর এই ১২ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি সপ্তম বর্ষে পদার্পণ করবে। সত্যের সন্ধানে থাকা এই প্রত্যয় নিয়েই মূলত বাজারে এলো ‘দৈনিক আমার সংবাদ’। আজকের এই শুভ ক্ষণে, শুভ দিনে প্রত্যাশা থাকবে এই পত্রিকা সত্যের সন্ধানে সাহসের সাথে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাঠকের কাছে সমান জনপ্রিয়, সমান গ্রহণযোগ্য থাকবে। তবে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, পাঠকের অন্তরজুড়ে থাকা তারুণ্যই বাঙালি জাতির প্রাণশক্তি আর অহঙ্কার। তারুণ্যই তার আত্মপরিচয়। একটি সংবাদপত্র কিংবা গণমাধ্যমের বয়স অবশ্যই অঙ্কের হিসাবে নির্ণয় করা যায় না। নির্ণয়ের বড় মাধ্যম কোন পত্রিকা পাঠকের কাছে আস্থা আর বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছে তার ওপর। এই বিবেচনায় উত্তীর্ণ আমার সংবাদ। তবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিটি পাঠকের কাছে তাদের নিজের সংবাদ অর্থাৎ আমার সংবাদ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে যেতে হবে আরো বহুদূর। কারণ নিজেরে আবিষ্কার, আর সত্যের সন্ধান নিত্য অনুসন্ধানের, নিত্যদিনের আবিষ্কারের বিষয়ও বটে। কেননা এই সত্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লাখ লাখ পাঠকের অস্তিত্ব, তাদের ছায়া উপস্থিতি। জন্মের শুভক্ষণে এই অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সূচিত সেই সাহসী পথপরিক্রমা এখনো অব্যাহত। দেশের অন্যতম কবি পুরুষ শামসুর রাহমানের পঙ্ক্তির স্মরণ নিয়ে আমরা বলতে পারি ‘এখনো দাঁড়িয়ে আছি এ আমার এক ধরনের অহঙ্কার/বেজায় টলছে মাথা, পায়ের তলায় মাটি সারাদিনমান পলায়নপর/...এখনো দাঁড়িয়ে আছি এ আমার এক ধরনের অহঙ্কার।’ (এক ধরনের অহঙ্কার : শামসুর রাহমান)। এই পত্রিকার অর্জন অহঙ্কারÑ এখন প্রয়োজন এই অঙ্গীকারে অটল থাকার। যদিও একুশশতকের বাস্তবতা, প্রতি মুহূর্তে পাল্টে যাচ্ছে সবকিছু। পায়ের তলার মাটিই শুধু নয়, মাথার ওপরে যে আকাশ, সেটিও মুহূর্তে মুহূর্তে রং বদলাচ্ছে। সেই সতত বদলে যাওয়া বিশ্বে টিকে থাকতে হয় প্রচ- যোগ্যতায়। আর সেটাই হবে এই পত্রিকার অহঙ্কার। বদলে যাচ্ছে সমাজ, বদলে যাচ্ছে দেশ, বদলে যাচ্ছে বিশ্ব বদলে যাচ্ছি আপনি আমি সবাই। সেই বদলে যাওয়ার ঘূর্ণিপাকে এই পত্রিকার জন্য আরেকটি নতুন বছর। আজ আরও এক নতুন বাস্তবতায় এসে দাঁড়ালাম আমরা।জীবন এক বহতা নদী। এক ধারায় নয়, বহু ধারায় বয়ে চলে। যদি রুদ্ধ হয় তার একটি ধারা, সে অন্য ধারায় বয়ে চলে সমুদ্রের দিকে। জীবন বহুমাত্রিক, বহুরৈখিক। দশ দিগন্তে তার সর্বব্যাপী বিস্তার। সভ্যতার ইতিহাস, পরিবর্তনশীল বিশ্বের জাতিগুলোর ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দিলে সেটা স্পষ্ট উপলব্ধি করা যায়। আমরাও এই নিয়ম আর নিয়তির বাইরে নই। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অভিযাত্রাও নানা অভিজ্ঞতায়, নানা মাত্রায় পল্লবিত। মূলত আমরা যেন এই সত্য বিস্মৃত হয়েছি যে, নবীনের উদ্যম আর প্রবীণের অভিজ্ঞতা এই পরম্পরাকে পুঁজি করেই এগিয়ে যায় পৃথিবী, এগিয়ে যায় সভ্যতা, এগিয়ে যাবে আমার প্রিয় বাংলাদেশ। এখানে কেউই হিসাবের বাইরের নয়। যে হিসাব সমষ্টির, সেই হিসাবের অংশীদার অন্য সবাই। এই হিসাব ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে। সবাইকে নিয়ে, সবার জন্য বলে যথার্থই গণতান্ত্রিক। গণতন্ত্র মানে পাঁচ বছর পর পর শুধু একদিন ভোট দানের অধিকার নয়, প্রতিদিন জীবনের দাবি বুঝে নেয়ার অধিকার।স্বাধীন দেশে জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙচুর এবং হরতাল, অবরোধ, অসহযোগের, ঔপনিবেশিক আমলের যে সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতি থেকে ক্রমাগত বেরিয়ে আসছে রাজনীতি। দেশ ও জনগণ। এই ধারা চির বহমান রাখতে সংবাদমাধ্যমকে সমাজের দর্পণের ভূমিকা নিতে হবে এই পত্রিকাটি যেন এই অবস্থান থেকে দূরে সরে না যায় তা-ও প্রত্যাশা। একটি পরাধীন দেশে নিপীড়িত মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল সেটা বিজাতীয় দখলদারদের বিরুদ্ধে। আজ আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম। অতএব প্রশ্ন, ওই ধরনের আত্মঘাতী, আত্মবিনাশী কর্মসূচি কার বিরুদ্ধে? এদেশ তো আমার, আপনার, আমাদের। অতএব রাজনীতিকে হননের হাতিয়ারে পরিণত করা নয়, বরং সৃজনের হাতিয়ারে পরিণত করতে হবে, সহমত, সহাবস্থানের, শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়নের পক্ষে প্রবাহিত হবে রাজনৈতিক দলসমূহের কর্মসূচি। স্বাধীন দেশের প্রকৃত গণতন্ত্রে অসহযোগের নয়, প্রয়োজন সহযোগ, সহমর্মিতা, ও সংযোগের। সময় দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যদি আত্মঘাতী সংস্কৃতিতে আবর্তিত হতেই থাকি, তাহলে বঞ্চিত হবো সভ্যতার অধিকার থেকে। আমাদের দ্বারে অবিরাম কড়া নাড়ছে এই শতকের চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের আহ্বান। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের দক্ষ করে তৈরি করতে হবে সেই বিপ্লবের শরিকানা ও নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠার জন্য। পরিশেষে দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে আমার সংবাদের সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা ভবিষ্যতেও সমানভাবে অব্যাহত থাকবে চিরজীবী বাংলাদেশের কল্যাণের লক্ষ্যে।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত