শিরোনাম

ধামরাইয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে মেম্বার লাঞ্চিত

আব্দুল কাদের, ধামরাই  |  ১৯:৫৮, জুন ১৯, ২০১৯

ঢাকার ধামরাইয়ে এলজিএসপি প্রকল্পের বিল চাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান বেদম পিটিয়ে আহত করেছে এক ইউপি মেম্বারকে। ওই ইউপি মেম্বারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেছেন বলেও জানা গেছে। ভুক্তভোগী ওই ইউপি সদস্যের নাম আব্দুর রহিম। তিনি ধামরাই সদর ইউনিয়নের ০১নং ওয়ার্ডের সদস্য।

এ ঘটনায় সকল ইউপি মেম্বারসহ এলাকাবাসী অসন্তুষ্ঠ প্রকাশ করেছেন। উক্ত ঘটনায় ওই ইউনিয়নে থমথমে ভাব বিরাজ করছে বলেও জানা গেছে। এছাড়াও যে কোন মূহুর্তে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আসতে পারে অনাস্থা প্রস্তাব এমন ঘোষণা দিয়েছে ইউপি মেম্বারগণ।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ই জুন) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটেছে ধামরাই সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ভেতরে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দ্বায়ের করেছে বলে জানা গেছে পুলিশ সূত্রে।

এব্যাপারে প্রক্ষদর্শীরা জানান, ধামরাই সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য মোঃ আব্দুর রহিম তার নির্বাচনী এলাকায় এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ইট বিছানোর (ইট সলিং) রাস্তার কাজ করে। যার ব্যয় মূল্য প্রায় ১লাখ টাকা।

গতকাল বিকাল ৫টায় আবদুর রহিম মেম্বার ইউনিয়ন পরিষদে এসে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিনের কাছে উক্ত প্রকল্পের টাকা দাবি করলে ইউপি চেয়ারম্যান উক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করেন।

এনিয়ে দু'জনের মধ্যে তুমুল বাকযুদ্ধ শুরু হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলে নির্বাচিত মেম্বার মোঃ আব্দুর রহিমকে বেধরক মারধর করে বলে জানান এলাকাবাসী।

এতে সে গুরুতর ভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রহিম মেম্বাবারের ডাক চিৎকারে অন্যান্য ইউপি সদস্যরাসহ স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসালয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এব্যাপারে ধামরাই থানায় ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আহত মেম্বারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি।

এব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি মেম্বার মোঃ ফারুক হোসেন জানান, আব্দুর রহিম মেম্বার ইউনিয়ন পরিষদে এসে তার কাজের বিল চায়। ইউপি চেয়ারম্যান তা দিতে অস্বীকার করে। ফলে ব্যাপক কথাকাটি হয় দু'জনের মধ্যে।

একপর্যায়ে বিল না দিয়ে ওই ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদ থেকে যেতে চাইলে ওই ইউপি মেম্বার তার পথ গতিরোধ করে। এরপর তিনি ক্ষুব্দ হয়ে ওই ইউপি মেম্বারের ওপর চড়াও হয়ে নিজে এবং ছেলে মিলে বেধরক মারধর করে। কোনমতেই মারধর ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিন বলেন, এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় কোন কাজ সদস্যরা করতে পারেনা। তারা(মেম্বারগণ) প্রকল্পের সভাপতি থেকে একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করাবেন। কিন্তু তা না করানোর কারণেই তার বিল দিতে অস্বীকার করি। তাছাড়া সে আমার সঙ্গে অসদাচরণ করে। ফলে বাধ্য হয়ে তার ওপর চড়াও হতে বাধ্য হই।

তিনি আরো জানায়, আমি বর্তমানে সরকারি লোক, রানিং চেয়ারম্যান। একজন মেম্বার কোন আইনে আমার নামে অভিযোগ দিয়েছে। তাছাড়া আমার ছেলের নামেও নাকি অভিযোগ দিয়েছে যেটা মস্ত বড় অন্যায়। আমিও ওই মেম্বারের নামে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। সকল মেম্বারগণ আমার সঙ্গে রয়েছে কেবল মাত্র সে ছাড়া।

এ ব্যাপারে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিপক চন্দ্র সাহা দৈনিক আমার সাংবাদকে বলেন, অভিযোগনুসারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত