শিরোনাম

সৌরভের ফোন থেকে কল এসেছিল

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:০৯, জুন ২০, ২০১৯

অপহূত সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভের ফোন থেকে কল এসেছে বলে জানিয়েছেন তার মামা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। তিনি বলেন, ‘কিন্তু কেউ কথা বলেনি। গত মঙ্গলবার রাত ২টা ২০ মিনিটে সৌরভের ফোন থেকে তারা বাবা ও মায়ের কাছে কল আসে।

কিন্তু তারা ফোন ধরার পর কেউ কথা বলেনি।’ গতকাল বুধবার দুপুরে ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি এই তথ্য জানান। ফেসবুক লাইভে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা সারারাত ঘুমাইনি। এখনো অপেক্ষা করছি, সৌরভের ফিরে আসার জন্য।

গত (মঙ্গলবার) রাতে আমরা এক জায়গায় গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। তাতে আমরা সন্তুষ্ট। গতকাল রাত আড়াইটার দিকে আমার মামাতো বোন আমাকে ফোন করেন। আমি মানিক (সৌরভের বাবা) ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বলি।

তারা আমাকে জানান, সৌরভের ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাদের ফোনে কল এসেছে। দুই-তিনবার, কিন্তু কে অন্যদিকে ছিল, সেটা শোনা যায়নি। তারা অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনো শব্দ শোনা যায়নি।

পরবর্তী সময়ে তারা কয়েকবার সৌরভের ওই নম্বরে কল করেছেন, কিন্তু কেউ ফোন ধরেনি।’ সৌরভের বাবা মানিক ও মা ইয়াসমিন বলেন, ‘‘২টা ২০ মিনিটে কল আসে। কল আসার সঙ্গে সঙ্গে কলটা ধরি। আমি বারবার হ্যালো হ্যালো বললাম। কিন্তু ওই প্রান্তে কেউ কথা বলে না। আমি পরে কল কেটে দিয়ে আবার ফোন দেই।

তখন রিং হচ্ছিল, কিন্তু কেউ ধরেনি। এখনো কল করেছি, রিং হচ্ছে, কিন্তু কেউ ধরছে না। তার মানে সৌরভের ফোন খোলা রয়েছে। এরপর আমি আমার ছেলেকে একটা মেসেজ দিয়েছি। ‘বাবা তুমি কোথায়? কী অবস্থায় আছো? তুমি বলো কোথায় আছো? দরকার হলে আমরা গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসবো।’

এই মেসেজেরও কোনো উত্তর পাইনি আমি। ডিসি কাউন্টার টেররিজম, ডিসি নর্থ এবং ওসি পাঁচলাইশকে জানিয়েছি। ফোন ট্র্যাক করে ফোন কোথায় আছে, সেটি জানার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে তারা জানিয়েছেন।’ সবশেষে সোহেল তাজ বলেন, ‘আমরা তাদের প্রতি আস্থা রেখেই অপেক্ষা করছি।

কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে দ্রুত জানাবেন। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। তবে আমরাও থেমে থাকবো না। আমরাও চেষ্টা করে যাচ্ছি। কারণ এই ধরনের ঘটনা কাঙ্ক্ষিত না। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেদিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশে আমরা সবাই মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বেঁচে থাকতে চাই।

সেটাই ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য। এ জন্য হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা জীবন দিয়েছিলেন। আমি আশা করবো, সেই রকম একটি বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আমরা পাবো।’ প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন চট্টগ্রামে চাকরির সিভি জমা দিতে গিয়ে নিখোঁজ তরুণ সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভের খোঁজ এখনো মেলেনি।

পরিবারের দাবি, তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করানো হয়েছে। সৌরভের পরিবার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা। সৌরভ ব্র্যাক ও ইউনিসেফের জনসচেতনতামূলক শর্ট ফিল্ম বানাতেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত