শিরোনাম

রিফাত ফরাজী গ্রেপ্তার : ডিআইজি শফিকুল

বরগুনা প্রতিনিধি  |  ১০:১৮, জুলাই ০৩, ২০১৯

 

বরগুনা শহরে প্রকাশ্যে রাস্তায় স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফ নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অন্যতম সন্দেহভাজন রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে রিফাত ফরাজী ওই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডের প্রধান সহযোগী। তার ভাই রিশান ফরাজীকেও পুলিশ খুঁজছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, বুধবার সকালে পুলিশের একটি দল রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে কোথা থেকে এবং কখন রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানাননি পুলিশ সুপার।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যেহেতু মামলাটির আসামিদের ধরতে এখনো অভিযান চলছে তাই তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বুধবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সামনে রিফাতকে হাজির করা হয়।

এসময় বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর টানা সাতদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার দুই নম্বর আসামি ও অন্যতম অভিযুক্ত রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এখন পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি জয় চন্দ্র সরকার ওরফে চন্দন, ৯ নম্বর আসামি হাসান, ১১ নম্বর আসামি ওলি উল্লাহ ওলি, ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয়কে গ্রেপ্তার ও সন্দেহভাজন নাজমুল হাসান, তানভীর হোসেন, কামরুল হাসান সাইমুন, সাগর ও রাফিউল ইসলাম রাব্বিকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে তিনজনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফ নামের এক তরুণকে।

এসময় বরগুনা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা তাঁর স্বামীকে রক্ষার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালান। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাঁকে (রিফাত) উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

বিকেল তিনটার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়। জনবহুল এলাকায় এমন নৃশংস হামলার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের ঝড় ওঠে।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে নিহত রিফাতের বাবা বরগুনা সদরের বড় লবণগোলার বাসিন্দা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলায় বরগুনা শহরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড এবং তার সহযোগী রিফাত ফরাজী ও তাঁর ছোট ভাই রিশান ফরাজীসহ ১২ জনকে আসামি এবং আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার (০২জুলাই) সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ নিহত হয়েছেন।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত