শিরোনাম

প্রস্তাবিত বাজেটে এবারো হতাশ পোল্ট্রি শিল্পোদ্যোক্তারা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক   |  ০৫:২২, জুন ১৯, ২০১৯

অন্যান্য বছরের মত এবারও আশা ভঙ্গ হয়েছে পোল্ট্রি খামারি ও উদ্যোক্তাদের। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পোল্ট্রি ফিডের অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল ‘ভূট্টা’ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর এবং ‘সয়াবিন অয়েল কেক’ এর উপর থেকে রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার না হওয়ায় এবং সব ধরনের পণ্য আমদানিতে নতুনভাবে আগাম কর (এটি) আরোপ চরম হতাশ তারা।

বুধবার মহাখালিতে প্যারাগন হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পোল্ট্রি নেতারা বলেন- উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাজারে প্রবেশের যে স্বপ্ন তাঁরা দেখছিলেন প্রস্তাবিত বাজেটে তা পূরণ হয়নি।

ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) এবং ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ফিআব সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান, সাধারন সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান, বিএবির সভাপতি রকিবুর রহমান টুটুল, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমানসহ অন্য শীর্ষ নেতারা।

ফিআব সভাপতি এহতেশাম শাহজাহান বলেন- সয়াবিন অয়েল কেক এর উপর আরোপিত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, কটন সীড ও পাম নাটসের উপর থেকে ৫ শতাংশ সিডি ও ৫ শতাংশ এটিভি এবং ভূট্টার ওপর থেকে ৫ শতাংশ এআইটি প্রত্যাহারই ছিল এবারের অন্যতম দাবি।

এসব দাবি পূরণ হলে পোল্ট্রি ফিড এবং ডিম ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে। এহতেশাম বলেন- প্রস্তাবিত বাজেটে ফিডের উপকরণ হিসেবে যে ৩টি উপকরণে কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

অ্যামোনিয়া বাইন্ডার, লিভার প্রটেকটর, রেনাল প্রটেকটর, রেসপিরেটরি প্রটেকটর, এবং ভ্যাকসিন স্ট্যাবিলাইজার (থিওসাফফেট)। সেগুলোর সাথে ফিড ইন্ডাষ্ট্রি’র কোন সম্পর্ক নেই। এরফলে কার্যত তেমন কোন সুফল আসবে না।

বিএবির সভাপতি রকিবুর রহমান টুটুল বলেন-অর্থ বিল ২০১৯ এ সব আমদানিকৃত পণ্য সরবরাহের উপর ৫শতাংশ হারে আগাম কর ধার্য্য করা হয়েছে। যা পোল্ট্রি খাতের উপর প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। এটা করা হলে পোল্ট্রির ডিম ও মাংস উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাই সার্বিকভাবে পোল্ট্রি খাতের জন্য এ বিধান রহিত করার অনুরোধ জানান টুটুল।

বিপিআইসিসি সভাপতি মসিউর রহমান বলেন- জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর থেকেই ‘পোল্ট্রি ফিডের দাম কমবে’ বলে গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হচ্ছে এতে সাধারণ খামারিরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পোল্ট্রি সংশ্লিষ্টরা বলেন- বিগত কয়েক বছর ধরে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়ন এবং ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে বাজেটে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলে অনুরোধ জানিয়ে আসছেন তাঁরা।

একই সাথে তাঁদের দাবির যৌক্তিকতাও উপস্থাপন করে আসছেন। কিন্তু কার্যত তেমন কোন সুফল পাচ্ছেন না। গত মে মাসে “কৃষির বাজেট কৃষকের বাজেট” অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ‘পোল্ট্রি বীমা’ চালু’র আশ্বাস দিলেও বাজেটে তার প্রতিফলন নেই।

মূল্যের ডিম ও মুরগির মাংসের যোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশী পোল্ট্রি পণ্যের প্রবেশ সহজতর করতে পোল্ট্রি শিল্পের যৌক্তিক দাবিগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানান পোল্ট্রি সংশ্লিষ্টরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত