শিরোনাম

ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর অতিমূল্যায়নে কারসাজি!

সঞ্জয় অধিকারী  |  ২৩:২৯, আগস্ট ১৪, ২০১৯

চলতি বছরে শেয়ারবাজারে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অতিরিক্ত বেড়েছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি রয়েছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জ থেকেও কোনো কারণ খুঁজে পায়নি।

এসব ক্ষেত্রে কারসাজি করে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ডিএসইর ওয়েবসাইট থেকে দেখা গেছে, চলতি বছরে কিছু কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন হয়েছে। সেখানে কোনো কারণ ছাড়াই সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ৩৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা যায়।

বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বিভিন্ন সময় অত্যাধুনিক সার্ভিলেন্স সফটওয়্যার স্থাপন করার দাবি জানালেও, এ ক্ষেত্রে কারা জড়িত তা শনাক্ত করতে পারেনি কমিশনের সার্ভিলেন্স বিভাগ।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, কারসাজিকারী চক্র কৌশলে এসব কোম্পানির দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অত্যাধুনিক সার্ভিলেন্স সিস্টেমেও কিছু ধরা পড়েনি। তাদের নাকের ডগায়ই কারসাজি করে পার পেয়ে যাচ্ছে কারসাজিকারীরা।

এতে মুষ্টিমেয় কয়েকজন লাভবান হলেও হাজার হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারী লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্তেও বিভিন্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার দরে অস্বাভাবিক উত্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএসই কর্তৃপক্ষ সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ও রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থানের কোনো কারণ খুঁজে পায়নি। ডিএসই শুধু নামমাত্র তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। এই দর বাড়ানোর পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনেনি।

জানা গেছে, চলতি বছরে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সর্বনিম্ন দাম ছিলো ১৫.৩০ টাকা। যা সর্বোচ্চ ৬৭.৩০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। কোম্পানিটির দাম বৃদ্ধির হার ৩৪০ শতাংশ।

একইভাবে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স ২৫.৭০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৩.৮০ টাকা (দাম বৃদ্ধির হার ২২৬ শতাংশ), প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ১৭.৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৩.২০ টাকা (দাম বৃদ্ধির হার ১৫০ শতাংশ), অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স ১৭.৬০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৩.২০ টাকা (দাম বৃদ্ধির হার ১৪৩ শতাংশ), এশিয়া ইন্সুরেন্স ১৮.৬০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৮.৭০ টাকা (দাম বৃদ্ধির হার ১০৮ শতাংশ) ও রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ১৮.৯০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৩.৪০ টাকা (দাম বৃদ্ধির হার ৭৭ শতাংশ) পর্যন্ত ওঠে।

বিএসইসির সার্ভিলেন্স সিস্টেমস পর্যালোচনায় রয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান। তিনি জানান, বাজার চলাকালে লেনদেন পর্যালোচনা করা হয়।

কোনো কোম্পানির শেয়ারে সংঘবদ্ধ কারসাজি হচ্ছে কি না এমন সূক্ষ্ম হিসাব করা খুব কঠিন। তবে শেয়ারের চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতেই শেয়ার দামে উত্থান-পতন হয়। কিন্তু লেনদেনের ধরন দেখে কারসাজি হচ্ছে কি না সেটা বোঝা যায়।

এমন কিছু ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়। এটাতে কারসাজি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়।

কোনো চক্র এর পেছনে থাকতে পারে। যারা কলকাঠি নেড়ে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে নিয়েছে। বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্ব বাজারের স্বার্থেই তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত