শিরোনাম

ঈদের পর কাঁচাবাজারে ক্রেতা সংকট

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী  |  ০৭:২২, আগস্ট ১৭, ২০১৯

ঈদের পর চারদিন পার হলেও এখনো জমেনি রাজধানীর কাঁচাবাজার। ঈদ করতে যারা ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি গেছেন, তাদের অধিকাংশই এখনো ফেরেননি। ফলে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা সমাগম তেমন নেই।

তবে ক্রেতার সঙ্কট থাকলেও সবজি ও পণ্যের দাম কমেনি। যদিও কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন সবজির যে দাম রাখা হচ্ছে, অন্যান্য বাজারে বিক্রেতারা তার চেয়ে বেশ কিছুটা বেশি দাম হাকছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা দোকান খুলে বসলেও দু’চারজন ক্রেতা ঘুরেফিরে বাজার করছেন। কয়েকটি দোকানে কোনো ক্রেতাই নেই।

সেখানে বিক্রেতা ফয়েজ আলী বলেন, ঈদ করে এখনো মানুষ ঢাকায় ফেরেনি। এই এলাকায় স্থানীয় যারা আছে, তারাই কেউ কেউ বাজারে আসছে। তার পরিমাণও খুব বেশি না।

আগামী রোববারের আগে বাজার জমার সম্ভাবনা নেই। এ সময় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দাম টমেটোর। সেখানে প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।

এছাড়া গাজর ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। সেখানে ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বেশি মাংস খাওয়া হচ্ছে। তাই আজ সবজি কিনতে এসেছি। কিন্তু সব ধরনের সবজির দামই আগের মতো বেশিই রয়েছে।

চাহিদা না থাকলেও কোনো কিছুরই দাম কমছে না। আর সালাদ জাতীয় সবজি টমেটো-গাজর-শসার দাম অনেক বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে প্রতি কেজি করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বিক্রেতারা বাজারে নতুন ওঠা শিমের দাম চাইছেন প্রতি কেজি ১০০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এ বছর সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম। তারপরও কয়েকটি সবজি ও কাঁচামরিচের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

কাঁঠালবাগান বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। একই মরিচ কারওয়ান বাজারে মিলছে ১০০ টাকা কেজি। অন্যান্য সবজির দামও কারওয়ান বাজারে কিছুটা কম দেখা যায়। দেশি পেঁয়াজ আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি আর ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। তবে মাংসের বাজারের আগের চিত্র পুরো পাল্টে গেছে।

কারওয়ান বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দোকানে সাধারণ কোনো ক্রেতা চোখে পড়েনি। বেশ কিছু মাংসের দোকান এখনো বন্ধ রয়েছে। বিক্রেতা আব্দুল মজিদ জানান, কুরবানি ঈদের পর মাংসের বাজারে বেশ কিছু দিন তেমন ক্রেতার দেখা মিলবে না।

শুধু হোটেলের জন্য কেউ কেউ মাংস কিনতে আসছে। এ ছাড়া সাধারণ ক্রেতা নেই। তিনি জানান, মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের মতোই গরুর মাংস ৫৫০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি এবং পাকিস্তানি কক ও লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। আর প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত