শিরোনাম

২৮ বছরেও নতুন বিনিয়োগ হয়নি চট্টগ্রামের ট্যানারি শিল্পে

চট্টগ্রাম ব্যুারো  |  ২৩:৪২, আগস্ট ১৮, ২০১৯

শিল্প ও বাণিজ্যের শহর চট্টগ্রাম। তবে গত ২৮ বছরে এ জেলায় নতুন কোনো ট্যানারি গড়ে ওঠেনি। উল্টো বন্ধ হয়ে গেছে ১৫টির অধিক। অথচ সহজে কাঁচামাল (চামড়া) প্রাপ্তি, সস্তা শ্রমিক, কারখানার জন্য জায়গা, পরিবহন সুবিধা, ব্যাংক ঋণ সুবিধাসহ সব ধরনের অবকাঠামোগত সুযোগ আছে এখানে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি, প্লান্ট, স্থাপনা ও চলতি মূলধন মিলে ৮০ কোটি টাকা হলে ভালো মানের একটি ট্যানারি স্থাপন করা যায়। কিন্তু সব সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও কেন ট্যানারি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি কিংবা এ খাতে বিনিয়োগ আসছে না—তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তারা।

ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে সর্বশেষ ট্যানারি স্থাপন করে টি.কে. গ্রুপ। নগরীর কালুরঘাট শিল্প এলাকায় ১৯৯১ সালে স্থাপিত হয় রিফ লেদার লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বছরে এক লাখ পিস পর্যন্ত কাঁচা চামড়া কিনে থাকে।

আর কাঁচা চামড়া থেকে উৎপাদিত চামড়াজাত পণ্য শতভাগ বিদেশে রফতানি করে। এ প্রতিষ্ঠানের পর আর নতুন করে কেউ ট্যানারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বিনিয়োগ করেনি। পাশাপাশি পাকিস্তান আমলে স্থাপিত ট্যানারিগুলো একে একে বন্ধ হতে থাকে।

এসময় প্রায় ১৫টি ট্যানারি নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে আড়তদার সমিতি সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামে ট্যানারি ছিল ২২টি। পরিবেশগত কারণ ও লোকসানে পড়ে বিভিন্ন সময় একে একে বন্ধ হয়ে যায় ২১টি।

সর্বশেষ মদিনা ট্যানারি গত বছর পরিবেশগত ঝামেলার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত থাকে টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিফ লেদার। এ ট্যানারি ব্যবসায়ীদের ১০ শতাংশেরও কম চামড়া কিনতে পারে। বাকি ৯০ শতাংশ ঢাকায় বিক্রি করতেন ব্যবসায়ীরা।

যদিও এবার আগ্রহী ক্রেতা না পেয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পচা চামড়ার স্তূপ রেখে ফিরে যান ঘরে। এসব স্তূপে পাওয়া যায় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার চামড়া।

আর প্রতিটির গড় মূল্য ৫০০ টাকা হলেও এসব চামড়ায় নষ্ট হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) একদিন সময় নিয়ে এসব চামড়া নগরের আবর্জনার ভাগাড়ে ফেলতে হয়, যা নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া যেসব চামড়া সংগ্রহ হয়েছে, তাও বিক্রি হয়নি। আড়তদাররা বলেন, চট্টগ্রামের আতুরার ডিপোতে মূলত বেশিরভাগ আড়তের অবস্থান। এখানে কোরবানির দিন থেকে শুরু করে দু-তিন দিন কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া আসতে শুরু করে।

কিন্তু এবার তাদের আগ্রহ না থাকায় ইচ্ছা থাকার পরও চামড়া কিনতে পারেননি। তারা বলেন, প্রথমে ৩০০ টাকায় বড় চামড়া কিনেছিলেন। এরপর ২০০-১০০ টাকায় নেমে আসে।

পরে আর ক্রেতার দেখা মেলেনি বাজারে। ফলে শেষদিকে চামড়া নিয়ে যেসব ট্রাক এসেছিল, অনেকে ভাড়াটাও তুলতে পারেননি চামড়া বিক্রি করে। একপর্যায়ে ট্রাকভর্তি চামড়া ফেলেই পালিয়ে যান তারা।

এছাড়া চট্টগ্রামের আড়তদাররা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে গত বছরের যে বকেয়া টাকা পাওনা ছিলেন, তার সিকিভাগও দেননি। এ কারণে পর্যাপ্ত লবণ, শ্রমিক জোগাড় করতে পারেননি। ফলে এ খাতে ধস নেমে আসে।

যদিও চট্টগ্রাম জেলায় এ বছর প্রায় আট লাখ পশু কোরবানি হয়। এর মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সদস্যরা চার লাখের কম চামড়া সংগ্রহ করেছেন।

রিফ লেদারের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মার্কেটিং) মুখলেসুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে যেসব ট্যানারি ছিল, এর প্রায় সবগুলোই পাকিস্তান আমলে গড়ে উঠেছিল। শুধু রিফ লেদার স্থাপিত হয় ১৯৯১ সালে।

আমরা আগে প্রায় এক লাখ পিস পর্যন্ত কাঁচা চামড়া কিনতাম। তবে এবার এখনও পর্যন্ত কোনো কাঁচা চামড়া কিনিনি। তবে বাজার পরিস্থিতি বুঝে আস্তে আস্তে কিনব।

দীর্ঘদিন এ খাতে বিনিয়োগ না আসার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এ ধরনের ব্যবসায় অভিজ্ঞতা লাগে, যা পাকিস্তান আমলে যেসব ব্যবসায়ী ছিলেন, তাদের বংশপরম্পরায় অভিজ্ঞতা ছিল।

তারা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কাঁচা চামড়া ভালোভাবে দেখে ও বুঝে কিনতেন। এছাড়া চামড়া প্রক্রিয়াজাত থেকে সম্পূর্ণ পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত ভালো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। না হলে এ খাতে সুবিধা করা কঠিন হয়ে যাবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত