শিরোনাম

বকেয়ার সমাধান না হলে চামড়ার ভবিষ্যৎ আরো নাজুক হবে

প্রিন্ট সংস্করণ॥অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  |  ০৭:৫৫, আগস্ট ২০, ২০১৯

কাঁচা চামড়া কেনায় বাজারে কোনো সিন্ডিকেট হয়নি। প্রতিবছরই ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেটের কথা বলেন, এটা সঠিক নয়। তাদের কাছে আমাদের পাওনা (বকেয়া) টাকা যখন আমরা পাই না, তখনই সমস্যা তৈরি হয়।

সব ব্যবসায়ীর কাছে টাকা থাকলে বাজারে প্রতিযোগিতা থাকতো, ফলে চামড়ার দামও বাড়তো। ১৯৯০ সাল থেকে ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পড়ে আছে। এ সমস্যার সমাধান না হলে চামড়ার অবস্থা ভবিষ্যতে আরও নাজুক হবে।

গতকাল রাজধানীর লালবাগ পোস্তায় নিজ কার্যালয়ে এসব কথা বলেন ঢাকার চামড়া আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি আমাদের কাছে টাকা নেই। অনেকেই ধার-দেনা করে চামড়া কিনেছেন, অনেকেই কিনতে পারেননি। তবে ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে পোস্তায় চামড়া এলে অবস্থা আরও ভয়াবহ হতো। আমরা হয়তো সেগুলো কিনতে পারতাম না।

ট্যানারি মালিকরা বলছেন সিন্ডিকেট, তাহলে বকেয়া দিয়ে দেখেন কতো দামে চামড়া কিনি। টাকা থাকলে প্রতিযোগিতা থাকে। এমন অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা এ পেশা ছেড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাচ্ছেন।

তাদের কাছে ১৯৯০ সাল থেকে মোট ৪০০ কোটি টাকা বকেয়া আছে। ২০১৫ সালের দিকে কিছুটা বকেয়া কমেছিলো, তবে গত দুই বছরে আবার বেড়ে গেছে। আমাদের টাকা কী কাগজ? আমাদের টাকা নিয়ে ঘুরবেন এটা হতে পারে না, এর শেষ দেখতে চাই,’ বলেন দেলোয়ার হোসেন।

চামড়া কেনা শুরু হয়েছে বকেয়া রেখেই এ বিষয়ে তিনি বলেন, আজ থেকে চামড়া কেনা শুরু হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ হয়তো ঢাকার চামড়া কেনা হবে।

এরপর ঢাকার বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনা হবে। তবে ২২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) এফবিসিসিআই’র সঙ্গে সভা আছে। সে সভায় আমাদের বকেয়া দেনা-পাওনা দেওয়া হলে অবশ্যই এখাত আবার চাঙ্গা হবে। যদি সমাধান না হয় তাহলে অবস্থা আরও নাজুক হবে।

পোস্তার হাজি দিল জাহান আড়তের মালিক সহিদুল ইসলাম বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে আমার চার কোটি টাকা বকেয়া। এরপরও আমরা ৯০০ চামড়া কিনেছি খুব কষ্টে। কিন্তু চামড়া কেনা হলেও লবণের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চামড়ায় পর্যাপ্ত লবণ দিতে পারিনি। এর ফলে ৯০০ চামড়ার মধ্যে মাত্র ১০০ চামড়া ভালো ছিল, বাকি সব পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

সাজ্জাদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক সাজ্জাদ বলেন, আমাদের অনেক টাকা বকেয়া আছে। এরপরও ৭০০/৮০০ টাকা দরে চামড়া কিনেছি। আজ থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে কিছু নগদ কিছু বাকি টাকাতে। জানি না এ বকেয়া কবে নাগাদ পাবো। তবে ট্যানারি মালিকরা সময়মতো টাকা পরিশোধ করলে আমরা ভালো দামে চামড়া সংগ্রহ করতে পারি। এতে কারো লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এবারের ঈদুল আজহায় সরকার ও ট্যানারি মালিকরা মিলে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন অনেক আগেই। এ বছর গতবছরের দামই নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা হারে নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকায় সংগ্রহ করতে বলা হয় ব্যবসায়ীদের। তবে ট্যানারি মালিকদের বকেয়ার কারণে অনেক কম দামেই কিনতে হয় আড়তদারদের।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখায়াত উল্লাহ বলেন, আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুই দিন চামড়া কেনা হয়নি। আজ থেকে কেনা শুরু হয়েছে যা আগামী তিন মাস পর্যন্ত চলবে।

আর বকেয়ার বিষয়টি আগামী ২২ আগস্ট এফবিসিসিআই’র মাধ্যমে সমাধান হয়ে যাবে। পুরনো বকেয়া কিভাবে দেওয়া যায় সেটা ঠিক করা যাবে ওইদিন। তবে সব জটিলতা শেষে সরকার নির্ধারিত দামেই আমাদের চামড়া কেনা শুরু হয়েছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত