চট্টগ্রাম কাস্টমসে সিপিসির অপব্যবহার রাজস্ব অব্যাহতি বাড়ায় কমছে আহরণ

প্রিন্ট সংস্করণ॥চট্টগ্রাম ব্যুরো  |  ০১:১০, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

দেশের শিল্প খাতের বিকাশে এসআরওর আওতায় কাস্টমস প্রসিডিউর কোড (সিপিসি) সুবিধায় আমদানিকারকদের রাজস্ব অব্যাহতি প্রদান করে সরকার। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের পণ্য আমদানিতেও এ সুবিধা প্রযোজ্য। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ কমে যাওয়ার পেছনে সিপিসি সুবিধার আওতা বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে আমদানি-রফতানিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিপিসির আওতা বৃদ্ধি প্রধান কারণ নয়। তারা জানান, শুল্ক-কর রেয়াতের এ সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে না এমন অনেক প্রতিষ্ঠান সিপিসি ভোগ করছে। আবার যেসব পণ্যে সিপিসি দেয়ার নিয়ম রয়েছে, তার বাইরে অন্য পণ্য আমদানিতেও এ সুবিধার অপব্যবহার হচ্ছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা মূল্যে আমদানিকৃত ৩৭ হাজার টন পণ্যের শুল্কায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে এসআরও সুবিধা নিয়ে সাতটি সিপিসির আওতায় শুল্কায়ন হয়েছে ৮৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১২ হাজার ২৭৩ টন পণ্যের। এতে মোট ১২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকার রাজস্ব অব্যাহতি পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। শুল্ক-কর রেয়াতে সরকার বিভিন্ন সময় যেসব সুবিধা প্রদান করে, সেগুলো কয়েকটি কোডে বিন্যস্ত করে আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন করা হয়। এসব কোড সিপিসি বা কাস্টমস প্রসিডিউর কোড নামে পরিচিত। আমদানির খাত ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন সিপিসির বিপরীতে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পান ব্যবসায়ীরা।চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আগমন ও পণ্য হ্যান্ডলিং প্রতি বছর বাড়ছে। ফলে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণেও প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে উল্টো কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩ শতাংশ কম রাজস্ব আহরণ হয়েছে। এ সময়ে ২৭ লাখ ৭২৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব এসেছে ২১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এ ব্যর্থতাসহ আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার কারণ হিসেবে বিভিন্ন এসআরওর আওতায় সিপিসি সুবিধায় রাজস্ব অব্যাহতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, আমদানি পর্যায়ে বিভিন্ন খাতে সরকার ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে থাকে। ব্যবসায়িক সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য এ পদক্ষেপ যৌক্তিক। কিন্তু এ সুযোগের অপব্যবহার হচ্ছে, যা প্রতিরোধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট হতে হবে। পণ্য আমদানি প্রক্রিয়ায় সিপিসি সুবিধার ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে বলে একে ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে খোদ চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষই। চট্টগ্রাম কাস্টমসের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত একটি কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিল অব এন্ট্রি নোটিংয়ের সময় আমদানিকারকের প্রতিনিধিরা (সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট) তাদের পছন্দ অনুযায়ী সিপিসি দেয়। পরে কোনো সমস্যা দেখা দিলে শুল্কায়ন নোটিস প্রিন্ট হয়ে যাওয়ার পর সিপিসি পরিবর্তনের আবেদন করে। এক্ষেত্রে প্রায় সময়ই সেই সিপিসির প্রাপ্যতা রয়েছে কিনা, তা যাচাই হয় না। ফলে রাজস্ব ঝুঁকি তৈরি হয়।
কাস্টমস নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব অনিয়ম ধরা পড়ে পণ্য ছাড়করণের পর পরিচালিত নিরীক্ষায় (পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট)।