শিরোনাম

রাবিতে বেপরোয়া রিকশা-মোটরসাইকেল

মুজাহিদ হোসেন, রাবি  |  ১৬:৩০, জুলাই ১১, ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান দিয়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রতিদিন চলছে বহিরাগতদের মটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাফেরা করেন সবসময়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এবিষয়ে অনেক বার বললেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করি নি তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে বড় গাড়ি এবং উচ্চগতিতে গাড়ি চলার নিয়ম নেই। কিন্তু হরহামেশায় প্রতিদিন বহিরাগতদের মটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে।

প্রতিনিয়ত নিয়ম না মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট, মেইন গেট, বিনোদপুর গেট, স্টেশন বাজার, বধ্যভূমি এবং চারুকলা গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের রাস্তায় ঢুকে মটরসাইকেলের অবাধ চলাচল বেড়েই চলেছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পিবার (১১জুলাই) রাতে বেপরোয়া রিকশা চলাচলের কারণে রাস্তার এক পাশ দিয়ে হাটা অবস্থায় চালকের ধাক্কায় আহত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রির্পোটার্স ইউনিটির সভাপতি মর্তুজা নুর।

মর্তুজা নুর বলেন, রাস্তার একবারে বামপাশ দিয়ে হাটছিলাম তবুও বেপরোয়া ভাবে রিকশাটি আমায় ধাক্কা দেয়। রিকশা বাদে অন্য কোন যানবাহন হলে শুধু আমার পাঞ্জাবি এবং সামান্য আঘাত দিয়ে যেত না অন্য কিছু ঘটতে পারত। আমি প্রশাসনের কাছে দাবি জানায়, ক্যাম্পাসের বেপরোয়া রিকশা মটরসাইকেল চালকদের আইনের আওতায় আনা হোক।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী জালাল উদ্দীন এইসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অবহেলাকে দায়ি করে বলেন, যদি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিরাগতদের মটরসাইকেল চলাচল কাম্পাসের মধ্যে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেয় তাইলে আমরা এইসব ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের এক আবাসিক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, 'আমি প্রায় প্রতিদিন টিউশনি করে সন্ধ্যার দিকে কাজলা গেট দিয়ে হলের দিকে আসি। আমি প্রায় লক্ষ্য করি যখন রাস্তায় লোক থাকে না তখন কিছু বহিরাগত বখাটে ছেলে উচ্চস্বরে মটরযানের হর্ণ বাজিয়ে আমার পাশ দিয়ে চলে যায়।

এবং অনেক বাজে ভাষায় কথা বলে। এছাড়া মাঝে মাঝে বহিরাগতরা এমন উচ্চগতিতে মটরসাইকেল এবং রিকশা চালকরা রিকশা চালায় যেটা আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের চলাচলে অনেক সমস্যা হয়।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, 'ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আমরা একেবারে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ টহলের টিম সবসময় কাজ করছে। বহিরাগতদের উচ্চ গতিতে মোটরসাইকেল এবং রিকশা-অটোরিকশা চালকদের বেপরোয়া গতি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত