শিরোনাম

ধর্ষিত হলেও প্রতিবাদ করবো না : ফেসবুক রুয়েটের শিক্ষক

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৪:৪০, আগস্ট ১৬, ২০১৯

স্ত্রীকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটেদের হাতে নিজেও লাঞ্ছিত হয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম। হয়েছেন মারধরের শিকারও।

গেল শনিবার শহরের সাহেববাজারের মনিচত্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। এসময় আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের সাহায্য চেয়েও পাননি তিনি। অসহায় অবস্থায় কাউকে পাশে না পেয়ে ওই শিক্ষক নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘সবাই দাঁড়িয়ে দেখল, কিন্তু কেউই এলো না এগিয়ে’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন।

আমার সংবাদ পাঠকদের জন্য পোস্টটি তুলে ধরা হলো, “রাজশাহী শহরে এসব বখাটের কাছে আইন দিন দিন জিম্মি হয়ে পড়ছে। মেনে নিন নয়তো দেশ ছেড়ে চলে যান। এ দেশে আপনার চোখের সামনে আপনার মা, বোন অথবা বউ ধর্ষিত হলেও প্রতিবাদ করবেন না, আশপাশে কাউকে পাবেন না। মার খেয়ে মরবেন। কারণ, আপনি একটা জানোয়ার, আমিও একটা জানোয়ার, জানোয়ারে ভরা সমাজ আমাদের।

আজকের ঘটনাটা সংক্ষেপে বলি। সাহেববাজার মনিচত্বরের মতো জনবহুল এলাকাতেও আমার বউ হেনস্তার শিকার হয়। একপাল ছেলের মধ্যে একজন আমার বউকে পেছন থেকে কয়েকবার ইচ্ছাকৃত ধাক্কা দেয়। দুই-তিনবার সহ্য করলেও পরেরবার প্রতিবাদ করি। ব্যাস, সোনার ছেলেদের দাপট শুরু। শেষে আমাকে সোনাদীঘি মসজিদের সামনে ৫-৭ জন মিলে ঘিরে ধরে মারা শুরু করে। এই পর্যন্ত না হয় মেনে নিলাম। কিন্তু ওখানে কম করে হলেও ৫০ জন আমার মার খাওয়া দেখছিল। একজনও এগিয়ে আসেনি। মার খাওয়ার এক পর্যায়ে আমি দর্শকদের উদ্দেশে বলি, ‘বাঁচান আমাকে’, কোনো রেসপন্স পাইনি। একজন মোটরসাইকেল থামিয়ে আমার মার খাওয়া দেখছিল, আমি সাহায্য চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে গেল।

মার খেয়ে কাপুরুষ আমি দর্শকদের বলি, আপনারা আজ এগিয়ে এলেন না, একদিন আপনার বউয়ের সঙ্গে এমন হলেও কেউ এগিয়ে আসবে না। ও আমার বউ, গার্লফ্রেন্ড না, কাবিননামা দেখাতে হবে আপনাদের? এ সময় একজন ভিড়ের মধ্য থেকে বলে বসল, হ্যাঁ, কাবিননামা নিয়েই চলাফেরা করতে হবে।

ধরেন, দ্বিতীয়বার আক্রমণে ওরা আমাকে মেরে ফেলল। কী করবেন? ফেইসবুকে কান্নাকাটি? জাত গেল জাত গেল রব তুলবেন? কোনোটাই করবেন না দয়া করে, এতে কিছু আসে যায় না। আর যারা করবে, তাদের গিয়ে থুথু দিয়ে আসবেন। ধরেই নিয়েছিলাম, পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরব, মা-বাবা চান না বাইরে স্যাটেল করি। এই ঘটনার পর দ্বিতীয়বার ভাবব অবশ্যই।”

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত