শিরোনাম

পীরগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি তদন্তে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টিম

আব্দুল করিম সরকার, পীরগঞ্জ (রংপুর)  |  ০১:১৪, মে ২৪, ২০১৯

রংপুরের পীরগঞ্জে জমি আছে ঘর নেই, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অনিয়ম, দুর্নীতি সরেজমিন তদন্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ রংপুর জেলা প্রশাসকের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল তদন্ত করেছেন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে বেঠক শেষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে এই তদন্ত করেন।

সূত্রে জানা গেছে, জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের আওতায় এ বছর পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রথম পর্বে ২২৫টি ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে কাবিলপুর ইউনিয়নের হলদিবাড়ীর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত শাখাওয়াতের বিধবা স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও একই গ্রামের শুকুর উদ্দিনের তালাকপ্রাপ্তা কন্যা মমেনা বেগমের নামে দুটি ঘর বরাদ্দ হয়।

সিডিউল মতে, ১৭৫ বর্গফুট আয়তনের মূল টিনের ঘরে ১২টি পিলার, বারান্দায় পাঁচটি এবং ল্যাট্রিনে চারটিসহ ঘর নির্মাণে এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। ঘর নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকল্প কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম এ মমিন প্রকল্প বাস্তবায়নে তার পূর্বের কর্মস্থল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে ৫৬ জন মিস্ত্রি-লেবারকে ঠিকাচুক্তি দেন। মিস্ত্রি শফিকুল ইসলাম কোনো প্রকার ঢালাই ছাড়াই পিলার স্থাপন করে।

মেঝেতে তিন ইঞ্চি ঢালাই দেয়ার কথা থাকলেও দেড় বস্তা সিমেন্ট দিয়ে মাত্র এক ইঞ্চি ঢালাই দেয়ার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আহসান হাবিবসহ এলাকাবাসীরা বাধা দেন। ফলে বাকবিতণ্ডের একপর্যায়ে পীরগঞ্জ থানার এসআই বুলবুল, এএসআই সোলায়মানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

এতে গ্রামবাসীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এক সময় পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশ ও গ্রামবাসীর উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে। ফলে গতকাল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহারুল আলম, মনিটরিং কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল, উপসহকারী প্রকৌশলী তমিজ উদ্দিন ও রংপুর জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এডিসি (রাজস্ব) শরিফ মোহাম্মদ ফয়জুল আলম তদন্ত করেন।

এ সময় তদন্ত টিমের সাথে ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান, নির্বাহী কর্মকর্তা টি এম এ মমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, উপজেলা প্রকৌশলী মজিবর রহমান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ ইউপি চেয়ারম্যানরা তাদের সাথে ছিলেন।

সরেজমিন তদন্তে রায়পুর ইউনিয়নের সাতগড়া গ্রামের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের সুবিধাভোগী তারা মিয়া (৬০) ও কাবিলপুর ইউনিয়নের হলদীবাড়ি গ্রামের ফাতেমা বেগমের নির্মাণাধীন ঘর পরিদর্শন করেন।

সুবিধাভোগী ফাতেমা বেগম তদন্ত টিমকে জানান, ঘরের মেঝেতে মাটি ভরাটসহ ঘরের উপকরণসমূহ পরিবহন করে নেয়ার পরও ঘরে নিম্নমানের কাজ করেছে। তদন্ত টিমের প্রধান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহারুল আলম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি দেখতে এসেছি। সিডিউল মোতাবেক কাজ হয়েছে কি না তা আমরা খতিয়ে দেখব।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত