শিরোনাম

সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন শেখ হাসিনা!

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:২৩, জুন ১৩, ২০১৯

বৃহস্পতিবার (১৩জুন) অসুস্থ বোধ করায় জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ সম্পন্ন করতে পারেননি অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। এরপর স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে বাকি অংশ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাজেট বইয়ে অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সফলতা ও অর্জন নিয়ে দক্ষ নেতৃত্বের কারণে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ’ উল্লেখ করা হয় বেশ কয়েক বার। শেখ হাসিনা বাজেট পেশের সময় তা পড়তে থাকেন। এক সময় পাঠ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিজেই ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মজা করে বলেন, ‘এখানে যেসব জায়গায় আমাকে ধন্যবাদ দেয়া হয়েছে তা কিন্তু আমি ভুলে পড়ে ফেলছি। এটা অর্থমন্ত্রীর হয়ে আমি পড়ছি।’ পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বাজেট বইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে যেসব জায়গায় ধন্যবাদ জানানো হয়েছে তা পাঠ করতে বলেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনাকে।

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। মূল বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১৮ শতাংশ বেশি।

আর বিদায়ী অর্থবছরে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দিয়ে যাওয়া বাজেটের আকার ছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ২৫ শতাংশ বেশি এবং জিডিপির ১৮.৩ শতাংশের সমান।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামার আশা করছেন, নতুন অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ তিনি রাজস্ব খাত থেকে পাবেন। তার প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এই অংক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১৯ শতাংশের বেশি।

এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ অর্থ ধরা হয়েছে যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে। ৬৪ হাজার ৮ শত ২০ কোটি টাকা যোগাযোগ ও সড়ক পরিবহন খাতে ধার্য করা হয়েছে। বাজেটে দ্বিতীয় ব্যয় ধরা হয়েছে অভ্যন্তরীন সুদ পরিশোধে, ৫৭ হাজার ৬৮ কোটি টাকা।

এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন কামাল। ফলে এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ১৬.২৮ শতাংশ।

গতবারের মত এবারও সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে, এক লাখ ২৩ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। এই অংক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭.২১ শতাংশের মত।

বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ১ লাশ ১০ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

আয়কর ও মুনাফার উপর কর থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা।

এছাড়া নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৩৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৪৮ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৫৪ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী সংসদের সামনে যে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন, তাতে আয় ও ব্যয়ের হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশের সমান। অর্থনীতিবিদরা বাজেট ঘাটতির এই পরিমাণকে গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যেই ধরেন।

এই ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রীর সহায় অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক ঋণ। তিনি আশা করছেন, বিদেশ থেকে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ করে ওই ঘাটতি মেটানো যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত