শিরোনাম

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের পদত্যাগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:০৪, জুন ১৬, ২০১৯

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল পদত্যাগ করেছেন। তবে তার পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে দুই একদিনের মধ্যে জমা দেয়া হবে বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে।

শনিবার সকালে (১৫জুন) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আগারগাঁও কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সরাতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। তবে ইফার সচিবের বাধার মুখে ফাইল ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি। এসময় ডিজিকে ঘেরাও করে রাখেন ইফার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালকে উদ্ধার করা হয়। এ খবর পেয়ে শত শত কমর্কতা-কমচারি সাপ্তাহিক বন্ধ সত্ত্বেও অফিসে এসে ডিজির রুমের বাইরে অবস্থান নেন।

উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়। ছুটে যান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোড অব গভনরস-এর সদস্য আলহাজ মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। পরে তার মধ্যস্ততায় পদত্যাগ করে সামীম আজজাল অফিস ত্যাগ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আইন উপদেষ্টা এ আর মাসউদ।

ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি কর্মকাণ্ড এবং দুর্নীতির কারণে সামীম মোহাম্মদ আফজালকে ১০ জুন শোকজ করেছিল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ডিজি পদে নিয়োগের জন্য তার চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না এবং কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয় সাত কার্যদিবসের মধ্যে। গেল ১০ জুন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (সংস্থা) জিয়া উদ্দিন ভূঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সাত কার্যদিবস শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ও মার্কেট বিভাগের পরিচালক মহীউদ্দিন মজুমদারকে সাময়িক বরখাস্ত করার কারণে তাকে শোকজ করা হয়। শোকজের চিঠিতে বলা হয়, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত, বেআইনি, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে কেন তার চুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে না তা লিখিতভাবে পত্র প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টানা ১০ বছর ধরেই গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দায়িত্ব পালন করে আসছেন সাবেক জেলা জজ।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় সামীম মোহাম্মদ আফজালকে। ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর আরও দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত মে মাসের শুরুতে সামীম মোহাম্মদ আফজালকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ পদ থেকে কেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার কারণও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি অনেকটা গোপনে হয়েছে। ২০১৭ সালের মে মাসে তিনি এই নিয়োগ পেয়েছিলেন।

এদিকে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একাধিক কর্মকর্তা সামীম মোহাম্মদ আফজালের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত