শিরোনাম

ভোলায় ১১ ইউপি ও এক পৌরসভায় কয়েক মেয়াদে নির্বাচন বন্ধ

ফরহাদ হোসেন, ভোলা  |  ১৯:২১, জুলাই ০৯, ২০১৯

ভোলায় এক পৌরসভাসহ আরও ১১টি ইউনিয়নে দীর্ঘ কয়েক মেয়াদ নির্বাচন বন্ধ থাকায় মেয়র, চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের চেয়ারে যুগ যুগ ধরে আসীন রয়েছেন। আদালতে সীমানা নির্ধারণের জনৈক ব্যক্তিদের পাতানো মামলা থাকার কারণে এসব এলাকায় নির্বাচন হচ্ছে না।

এক চেয়ারম্যানসহ একাধিক ইউপি সদস্যর মৃত্যুবরণ করলেও পূরণ হচ্ছে ওই সকল না শূন্য পদ। একই ব্যক্তি দীর্ঘ বছর ধরে ক্ষমতার চেয়ারে বসে থাকার ফলে সকল প্রকার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে অনেকটা বঞ্চিত হচ্ছে এমটাই মনে করেছে বাসিন্দারা।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, তজুমদ্দিন উপজেলার বড় মংলচড়া, সোনাপুর ইউনিয়ন, লালমোহন পৌর সভা ও একই উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ, কালামা, চরভ‚তা ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন, দৌলখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়ন, চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ, আহাম্মদপুর, আসলামপুর, ওমরপুর ইউনিয়নে সীমানা নির্ধারণের সংক্রান্ত জটিলতার মামালা থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বন্ধ রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় গত ২০০৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন হানসান মাসুদ বাবুল। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ দায়িত্বে থাকার পর চেয়ারম্যান হাসান বাবুল গত ১২ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন জানান, চেয়ারম্যান ও ৪ জন ইউপি সদস্য মৃত্যুবরণ করায় ভোটাররা তাদের নাগরিক সুবিধা থেকে অনেটাই বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশের এলাকার সাথে সীমানা নির্ধারণের মামলা থাকায় এখানেও নির্বাচন বন্ধ রয়েছে।

একই দিনে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন বড় মলংচড়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন মো. নুরনবী সিকাদর। তারপর থেকে এই ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরনবী সিকাদর বলেন, তার ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ও পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের জটিলতার মামলা থাকার কারণে এই ইউনিয়নে গত ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচন হচ্ছে না। তবে মামলার বাদিকে এমন প্রশ্নে তিনি তাকে চিনেন বলে জানান চেয়ারম্যান।

২০১১ সালে ইউনিয়নটির একটি ভোট কেন্দ্র বিচ্ছিন্ন চর কচুয়াখালীতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যানের বিশ্বস্ত কর্মী সিরাজুল হক নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে উচ্চ আদালতে দায়িত্ব ভোগের জন্য এই মামলাটি ইউপি চেয়ারম্যানেই করান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যার কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে ইউনিয়নটিতে বন্ধ রয়েছে নির্বাচন।

এ ছাড়া লালমোহন পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০ ডিসেম্বর ২০১০ সালে। এতে মেয়র পদে নির্বাচিত হন এমদাদুল ইসলাম তুহিন। বরিশাল বিভাগে ২৪টি পৌরসভা ৯টি করে ওয়ার্ড দিয়ে গঠিত করা হলেও বর্তমান পৌর মেয়র তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর নয়া কৌশল অবলম্বন করে ৯টি ওয়ার্ড থেকে ১২টি ওয়ার্ড বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় মন্ত্রণালয় আবেন করেন। তার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ১৩ জুন গেজেট প্রকাশ করলেও অদৃশ্য কারণে এখনো নির্বাচন হচ্ছে না এ পৌর সভায়।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন বলেন, পার্শ্ববর্তী কালমা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কিছু অংশকে পৌর ১০ ও ৬ নং ওয়ার্ডের কিছু অংশকে পৌর ১১ নং ওয়ার্ড ও চরভ‚তা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডকে পৌর ১২ নং ওয়ার্ড করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সাড়ে তিন বছর আগে গেজেট প্রকাশ করা হলেও এখনো কেন নির্বাচন হচ্ছেনা।

লালমোহন উপজেলার আরও তিনটি ইউপি নির্বাচন হয় সর্বশেষ ২০১১ সালের ৩১ মার্চ। এর মধ্যে কালমা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. আকতার হোসেন, চরভ‚তা ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জান টিটব, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া।

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের সাথে সিমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিরোধ দেখিয়ে নিজেদের কাছের আত্মীয় ব্যক্তি দিয়ে উচ্চ আদলতে মামলা করিয়ে ক্ষমতার চেয়ার নিয়ে বসে আছেন এসব চেয়ারম্যানরা এমটাই অভিযোগ করেছেন স্থানীয়বাসিন্দারা।

চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০১১ সালের ২ জুন। এতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. মোস্তাফিজুর রহমান। একই ইউনিয়নের কিছু অংশ কেটে নতুন আহম্মদপুর ইউনিয়ন নবগঠিত হওয়া জনৈক ব্যক্তি মামলা করায় নির্বাচন বন্ধ রয়েছে।

একই উপজলের আসলামপুর ইউনিয়নে নির্বাচন হয় ২০১১ সালের ২ এপ্রিল। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন একেএম সিরাজুল ইসলাম। এই ইউনিয়নের কিছু অংশ কেটে নতুন ওমরপুর ইউপি গঠিত হওয়ায় সীমানা নির্ধারণের মামলা থাকায় নির্বাচন বন্ধ রয়েছে এই ইউনিয়নেও।

দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়ন সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০১১ সালের ২৯ মার্চ। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. মোশারফ হোসেন। এসকল ইউনিয়নের স্থানীয় ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একই ব্যক্তি বারবার ক্ষমতার চেয়ারে থাকায় তারা পরিষদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন মনগড়া ভাবে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাইয়েব বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়েও জনগণের মৌলিক চাহিদা আমাদের আগে দেখতে হবে। কারণ জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য তারা জনপ্রতনিধি নির্বাচিত করেন।

ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উচ্চ আদালতে মামলা থাকার কারণে আমরা ১টি পৌরসভাসহ আরও ১১টি ইউনিয়ন নির্বাচন করা যাচ্ছে না। এর আগে আমরা ৪টি বন্ধ থাকা ইউনিয়নে মামলা নিষ্পত্তি হাওয়ার পর নির্বাচন সম্পন্ন করেছি।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত