শিরোনাম

খুনিরা যেখানেই থাকুক ফাঁসিতে ঝুলাবো: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৫:২৩, আগস্ট ১৬, ২০১৯

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই চলছে। তারা যে যেখানেই থাকুক, তাদের ধরে এনে ফাঁসির রশিতে ঝুলাবো।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে সভায় কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কায়সার ভূইয়া জীবন, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক ভূইয়াসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ১৫ আগস্টে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা কে কোথায় আমরা জানি। চারজনের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আমেরিকায় যিনি আছেন, তাকে আমরা ফিরিয়ে আনব। দেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের মূলোৎপাটন করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের ভয়ঙ্কর কালো দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ছয় আসামির মধ্যে চারজনের অবস্থান শনাক্ত হয়নি। বাকি দুজনের অবস্থান বিদেশে শনাক্ত হলেও তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে চলমান আলোচনায় এখনো কোনো সুফল আসেনি।

১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে।

দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। এই হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ২০১০ সালে। বাকীদের একজন মারা গেছেন এবং ছয়জন পলাতক আছেন।

এরা হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা আছে।

এদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় এবং এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বলে নিশ্চিত রয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।বাকিরা কোথায় আছে সেবিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা না থাকলেও সম্ভাব্য যে সব দেশে তাদের অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে এনসিবি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমদ (আর্টিলারি), বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিনের (ল্যান্সার) ফাঁসি কার্যকর হয় ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি। আজিজ পাশা ২০০১ সালের মাঝামাঝি জিম্বাবুয়েতে মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। তারপর ইনডেমিনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারের পথও রুদ্ধ করে দেয়া হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খোলে; মামলার পর বিচার শুরু হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফের শ্লথ হয়ে যায় মামলার গতি। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দণ্ডিত পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত