শিরোনাম
ভারতের লোকসভা নির্বাচন

আবারো মোদির জয়জয়কার

প্রিন্ট সংস্করণ॥আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ০৮:৩০, মে ২৪, ২০১৯

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের চালকের আসনে বসতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র দামোদর মোদি। ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে ৫৪২টি আসনের মধ্যে ৩৩৭টি আসনেই ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জয়জয়কার।

অপরদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ এগিয়ে আছে ৯২টি এবং অন্যান্য বিরোধী দল এগিয়ে ১১৩ আসনে। ভারতে কোনো দলকে সরকার গঠন করতে হলে ২৭২টি আসনে জয়ী হতে হয়। বেসরকারি ফলাফলে ইতোমধ্যে এই ম্যাজিক ফিগার পার করে ফেলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার অপেক্ষা। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ২৮২টি আসন পেয়েছিল।

এবারের নির্বাচনে বিজেপির মূল স্লোগান ছিল ‘ফির একবার, মোদি সরকার’। স্লোগান নয়, অঙ্গীকার। একেবারে অক্ষরে অক্ষরে সেই অঙ্গীকার মিলে গেছে। ফলাফলের আগেই বিভিন্ন বুথফেরত জরিপে বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত ছিল। তবে ওই সব সমীক্ষা নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভোট গণনা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বোঝা যায়,

পাঁচ বছর আগের ভোটের রায়ের সঙ্গে এবারের রায়ের অমিল তেমন কিছু নেই। পাঁচ বছর আগে দেশের মানুষ চোখ বন্ধ করে নরেন্দ্র মোদির হাতে ভারতের ভার তুলে দিয়েছিল। পাঁচ বছর পরও সেই আস্থা অটুট রয়েছে।

মোদির টুইট
লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরুর পর সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে বেশি আসন নিশ্চিত হওয়ার পর মোদি ‘ভারত আবারো জয়ী হলো’ বলে টুইট করেন। টুইটে তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে বড় হই। একসঙ্গে সমৃদ্ধ হই। একসঙ্গে আমরা শক্তিশালী এবং অন্তর্ভুুক্তিমূলক ভারত গড়ে তুলব। ভারত আবারো জয়ী হলো। বিজয়ী ভারত।’

মমতা ও বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন
এদিকে, মোদির দল আবারো ভারতের ক্ষমতায় আসছে নিশ্চিত হওয়ার পর বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পরেই এক টুইট বার্তায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান মমতা। টুইট বার্তায় মমতা বলেন, বিজয়ীদের অভিনন্দন। তবে সব হেরে যাওয়াই ব্যর্থতা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এক টেলিগ্রাম বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। চিরবৈরী প্রতিবেশী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও এক শুভেচ্ছা বার্তায় মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভিত নড়ে গেল তৃণমূলের
এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ২৩ আসনে, বিজেপি ১৮ এবং কংগ্রেস ১ আসন। বিজেপির ফলাফলেই বোঝা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের পায়ের তলায় মাটি শক্ত করেছে তারা। ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে বেশি করে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

তার ফল হাতেনাতেই পেয়েছে বিজেপি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে মাত্র দুটি আসনে জিতেছিল বিজেপি। তখন থেকেই এ রাজ্যে জোরদার প্রচারণা চালিয়ে আসছে তারা। গত দুই বছরে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিজেপি। কিন্তু তারপরও সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করে উত্থানের ইঙ্গিত দিল মোদির দল। তবে এমন অবস্থার মধ্যেও ধৈর্য হারাতে রাজি নন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সব কিছু পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এরপরই আমরা এ বিষয়ে কথা বলব। ভোট গণনা সম্পূর্ণভাবে শেষ হতে দিন।’

পৈত্রিক আসনেও কঠিন পরীক্ষার মুখে রাহুল
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে একদিকে যেমন বিপুল বিজয়ের স্বাদ নিচ্ছে বিজেপি, অন্যদিকে লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। উত্তর আমেথি বরাবরই গান্ধী-নেহেরু পরিবারের আসন হিসেবেই পরিচিত। কয়েক দশক ধরে ভারতের রাজনীতিতে ওই আসনটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এই পরিবারের সদস্যরা।

কিন্তু সেখানেই এবার পিছিয়ে পড়েছেন রাহুল গান্ধী। গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আমেথি আসনে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে পেছনে ফেলেছেন বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানি। ৪৮ বছর বয়সি রাহুল গান্ধী এই এলাকা থেকে আগে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

ভারতজুড়ে নির্বাচনি প্রচারণায় চষে বেড়ালেও আমেথিকে রাহুল গান্ধী তেমন গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। দেশটির ক্ষমতাসীন এই দল বলছে, রাহুল গান্ধী আমেথি আসনকে অবহেলা করেছে। নির্বাচনি প্রচারণার সময়জুড়ে মাত্র একবার আমেথি সফরে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেটিও তার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার দিন।

এরপর তাকে আর এই আসনের প্রচারণায় দেখা যায়নি। তবে তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আমেথিতে এবং তার মা সোনিয়া গান্ধীর আসন রায়বেরেলিতে বেশ কয়েকবার সফর করেছিলেন। গত ১১ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৯ মে পর্যন্ত মোট সাত ধাপে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

এবার মোট ভোটার ছিল প্রায় ৯০ কোটি। এক হাজার ৮৪১টি রাজনৈতিক দলের আট হাজারেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭২০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী ছিলেন চারজন। ১৯৫১-৫২ সালে ভারতের প্রথম লোকসভা নির্বাচন সম্পন্ন হতে সময় লেগেছিল তিন মাস।

পদত্যাগ করছেন রাহুল গান্ধী
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেসের ভরাডুবির পর ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী। এমনটাই সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীদের কাছে তিনি এই ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। যদিও সোনিয়া গান্ধী এইভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বারণ করেন বলে জানা যায়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকা হবে। সেখানেই রাহুল গান্ধীর পদত্যাগ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

লোকসভা ভোটের ফলাফলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট এগিয়ে রয়েছে ৮৬ টি আসনে। যার মধ্যে কংগ্রেস এককভাবে এগিয়ে রয়েছে ৫২ টির মতো আসনে। এদিন ফল প্রকাশ হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, দেশবাসীর রায় মেনে নিলাম। এই জয়ের জন্য নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন।

এদিন রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপিকে অভিনন্দন। মানুষের রায়কে স্বাগত জানাই। দেশের মানুষ চেয়েছিলো নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হোন। সেটাই হয়েছে। রাহুল এদিন জানান, কংগ্রেসের লড়াই আদর্শের লড়াই। আদর্শের সঙ্গেই বরাবর লড়াই করে আসছে কংগ্রেস। দেশবাসীর রায় মেনে নিয়ে পরাজিতদের বলছি ভয় পাবেন না। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

যে পরিস্থিতি হোক না কেন, আমি সবসময় ভালোবাসার কথাই বলবো। এদিন উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের আমেথি কেন্দ্রে পরাজন স্বীকার করে নিয়ে আমেথি কেন্দ্রের তাঁর প্রতিদ্বন্ধী বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানিকে অভিনন্দন জানান রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি, কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরা জানান, জনতার রায় মেনে নিলাম। এই বিপুল জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন

নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা ইমরান খানের
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল বিজয়ী হওয়ায় দেশটির হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।-খবর ডন অনলাইনের । এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, বিজেপির নির্বাচনী বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমার শুভেচ্ছা। দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য তার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশায় রয়েছি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণা করা হলে গান্ধী পরিবারের ফিরে আসার আশাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ভূমিধস বিজয়ের দিকে এগোচ্ছেন মোদি। বিজয় ঘোষণার পর একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

প্রায় ষাট কোটি ভোট গণনা হওয়ার পর ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, দেশটির নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩০০টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিজেপি। ক্ষমতাসীন দলটির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস পেয়েছে ৪৯টি আসন। প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, নিম্নকক্ষে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।এছাড়া দলটির মিত্ররা আরও অর্ধশত আসন দখল করতে যাচ্ছেন।

বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বলছেন, আজকের ম্যান্ডেট বলছে-ভারতে পুরোপুরি বর্ণপ্রথা, স্বজনপ্রীতির মূলোৎপাটন ও উন্নয়নকে বেছে নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। নিজের বিপুল বিজয় নিশ্চিত করার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত আবার জিতে গেল। বিভিন্ন বিষয়ে টুইটের জন্য বেশ সুনাম থাকলেও বৃহ্স্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনার শুরুর পর থেকে মোদির কোনো পোস্ট ছিল না।

তবে সরকার গঠন করতে যতটা আসন লাগে, তার চেয়ে বেশি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন। টুইটে তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে বড় হই। সমৃদ্ধও হই একসঙ্গে। কাজেই একইসঙ্গে শক্তিশালী ও সম্মিলিতভাবে ভারত গড়ে তুলব। ভারত আবারও জিতে গেল। নিজেকে চাওয়ালা পরিচয় দিয়ে বছর পাঁচেক আগে ভোটের লড়াইয়ে জিতে ভারতের মসনদে বসেছিলেন মোদি।

আর এবার ভোটের আগে শাসক পরিচয়ের বদলে নিজেকে চৌকিদার হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট গণনায় দেখা যায়, কংগ্রেস পরিবারের প্রতিনিধি রাহুল গান্ধীর পরিবর্তে চৌকিদার মোদিতেই ভরসা খুঁজেছেন ভারতের প্রায় ৯০ কোটি ভোটার।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত