শিরোনাম

শ্রীলংকার বোমা হামলার পেছনে সরকারি মদদের তথ্য ফাঁস!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১৩:০৩, জুন ১৩, ২০১৯

শ্রীলংকায় খ্রিস্টান চার্চে বোমা হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদীরা সরকারের গুপ্ত এজেন্সি থেকে অর্থ আদায় করেছিল বলে দেশটির প্রভাবশালী এক নেতা পার্লামেন্ট তদন্ত কমিটিকে অবগত করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন মতে গত সপ্তাহে শ্রীলংকার পশ্চিমাঞ্চলের গভর্নর পদ থেকে ইস্তফা নেয়া আজাদ সালেহ একটি বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। সেখানে তিনি ১২ এপ্রিলের বোমা হামলায় নিরাপত্তা ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন। যে হামলায় ২৫৮ জন মানুষ নিহত হয়। 

উল্লেখ্য, বোমা হামলার পরিকল্পণাকারী জাহরান হাশেম উগ্রবাদী সংগঠন শ্রীলংকা তাওহিদ জামাত (এসএলটিজি) থেকে পৃথক হয়ে জাতীয় তাওহিদ জামাত নামে নিজে আরেকটি সংগঠন দাঁড় করিয়েছিলেন।

আজাদ সালেহ শ্রীলংকার পার্লামেন্ট সিলেকশন কমিটিকে জানিয়েছেন, তিনি বেশ কয়েকবারই প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল সিরিসেনকে ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় তাওহিদ জামাতের জন্য তহবিল নির্ধারণ করেছে এবং পুলিশও তাওহিদ জামাতের সঙ্গে কাজ করছিল। অথচ স্বয়ং প্রেসিডেন্টই দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরো জানান, তাওহিদ জামাতকে সরকার এ তহবিল দিত অন্যান্য গ্রুপগুলোর খোঁজ খবর দেয়ার জন্য।

আজাদ সালেহ জানান, হামলার এক সপ্তাহ আগে তিনি উচ্চতর স্বরাষ্ট্রসচিবদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তিনি উগ্রবাদীদের ব্যাপারে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পুলিশ যদি সেসময় আমার তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিত তাহলে এমন ট্রাজেডির মুখোমুখি হতে হতো না আমাদের।

প্রসঙ্গত, এতোমধ্যেই শ্রীলংকার পার্লামেন্ট সিলেকশন কিমিটি, উচ্চতর প্রতিরক্ষা পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তারা স্বীকার করে নিয়েছেন, হামলার ব্যাপারে বিভিন্ন আশঙ্কার তথ্য আগে থেকে জানতে পেরেও কার্যকর নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে কর্মকর্তারা।

এছাড়া শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করে দিয়েছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল সিরিসেন এমন একটি উগ্রবাদী হামলার তথ্য পেয়েও কোনো প্রকার নিরাপত্তা বৈঠক ডাকতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

দেশটির প্রতিরক্ষা ও পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিরিসেন বোমা হামলার গোয়েন্দা তৎপরতা থেকে বাঁচার জন্য সুস্পষ্ট কোনো কর্মপন্থা গ্রহণ  করেননি।

শ্রীলংকায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের ইতিহাস এমনিতেই খুব ভালো নয়। গত বছর ক্যান্ডি ও আশপাশের বেশ কিছু শহরে মসজিদ এবং মুসলিম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কট্টর বৌদ্ধদের হামলার পর সাময়িক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল।

 ২৬ বছর আগে শ্রীলংকার তামিল টাইগাররা মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আত্মঘাতী হামলা পরিচালনা করেছিল। এছাড়া ২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ অবসানের এক দশক পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ হামলা ঘটল। গত বছরের মার্চেও কয়েকটি মসিজদ ও মুসলিমদের কয়েকটি দোকানে সিংহলি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের হামলায় একজন নিহত হয়েছিলেন।

ইস্টার সানডেতে গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার পর শ্রীলংকার কয়েকটি মসজিদেও বোমা হামলার ঘটনায় শ্রীলংকান মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝেও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির পুত্তালুম জেলায় একটি মসজিদে পেট্রলবোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

এ ছাড়া বান্দারাগামা এলাকায় মুসলিম মালিকানাধীন অন্তত দুটি দোকান ভাঙচুরের পর আগুন দেয়া হয়। এসব হামলার পর দেশটির মুসলিমদের মধ্যেও আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা এপ্রিলের হামলার লজ্জা ও বিব্রতবোধ কাটাতে না পেরে সিংহলি ও তামিলদের অবিশ্বাস দূর করতে নিজেরাই একটি মসজিদে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করলেন গত কয়েকদিন আগে। দেশটিতে ইস্টার সানডেতে হামলার ঘটনার পর থেকেই সেখানকার মুসলিমদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অমুসলিমরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

এছাড়াও শ্রীলঙ্কায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ৯ মন্ত্রীর সবাই ইস্তফা দিয়েছেন ইতোমধ্যে। একইসঙ্গে দুই মুসলিম গভর্নরও পদত্যাগ করেছেন। ইস্টার সানডের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর উগ্র বৌদ্ধদের দাবির মুখে তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

 

ডন নিউজ অবলম্বনে সুলাইমান সাদী

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত