শিরোনাম

মুরসির মৃত্যু, জাতিসংঘের কাছে তদন্ত দাবি অ্যামনেস্টির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১৪:৪৭, জুন ১৯, ২০১৯

 

আদালতে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে নিরপেক্ষ, বিস্তারিত ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। খবর বিবিসি

২০১৩ সালে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে কারাবন্দী করা হয়। ৬৭ বছর বয়সী মুরসি স্থানীয় সময় সোমবার আদালতে মৃত্যু বরণ করার পর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

এদিকে রহস্যজনকভাবে মুহাম্মদ মুরসি আদালতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া, মৃত্যু বরণ ও দেরি করে ঘটনা ফাঁস করার পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে মিসর। মুরসির মৃত্যুর ঘটনায় জাতিসংঘের তদন্ত দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

তারা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত চেয়েছে। কাতার গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। আর তুরস্ক মুরসির মৃত্যুতে মিসরের শাসকদের দায়ী করে তাঁকে ‘শহীদ’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক সারাহ লিহ হুইটসন এক টুইটে বলেছেন, ‘মুরসির মৃত্যু ভয়ানক, তবে তা অনুমেয় ছিল।’ পরে এক বিবৃতিতে তিনি এ মৃত্যুর জন্য সরকারের উপেক্ষা, দীর্ঘ সময় ধরে একাকী বন্দী রাখা, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং পরিবারের লোকজন ও আইনজীবীদের দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।

সংগঠনটি কারাগারজুড়ে বন্দীদের ব্যাপক হারে উপেক্ষা করাসহ মিসরে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘের তদন্ত চেয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রায় ছয় বছরের একাকী বন্দিজীবনে মুরসিকে মাত্র তিনবার তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেখতে যেতে পেরেছেন। আইনজীবী ও চিকিৎসককেও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না।

পরিবার ও সমর্থকেরা আটকের পর থেকেই মুরসির শারীরিক অবস্থা এবং বেশির ভাগ সময় একাকী বন্দী রাখার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল।

জানা গেছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে তাঁকে কায়রোর কাছে সমাহিত করা হয়। সেই সময় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

মুরসির ছেলে আবদুল্লাহ মোহামেদ মুরসি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, মিসরের কর্তৃপক্ষ পরিবারের ইচ্ছা অনুসারে মুরসিকে নিজ শহরে প্রকাশ্যে জানাজা করে সমাহিত করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

মিসরের এই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব নিষিদ্ধ ইসলামি গ্রুপ মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন। ২০১২ সালে দেশটিতে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হন। তবে শাসনের এক বছরের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ওই সময় সামরিক ক্যুর মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে বন্দী করা হয়। ওই সময়ের সেনাপ্রধান আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি ২০১৪ সালে থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন।

এসএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত