শিরোনাম

একাধিক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে স্ত্রী, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১৪:৪২, আগস্ট ১৯, ২০১৯

মানসিক সমস্যার ঘোরে একাধিক পুরুষের সঙ্গে নিজের অজান্তেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন স্ত্রী। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হন স্বামী। ভুল বুঝে স্ত্রী নিজেই স্বামীর থেকে ‘তালাক’ চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলেন স্বামী। ভালোবাসার কাছে হার মানল স্ত্রীর এই আবেদন।

এরপর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সর্বত্র ছুটেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এসএসকেএমের ‘ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি’ তে এসে কয়েক মাসের চিকিৎসার পরে আপাতত সুস্থ সেই নারী। হাসি ফুটেছে স্বামীর মুখেও।

সোমবার (১৯ আগস্ট) কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসার এমন বহি:প্রকাশ’ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ইন্সটিটিউট অব সাইকায়াট্রির ডাক্তার প্রদীপ সাহা জানান, তরুণী আক্রান্ত হয়েছিলেন নিম্ফোম্যানিয়াক ডিজ়িজ উইথ সাইকোটিক ডাইমেনশনে।

ওই রোগে শরীরে অস্বাভাবিক যৌন চাহিদা তৈরি হয়। তরুণীর ক্ষেত্রে দ্বৈত সত্তা কাজ করত। মনস্তত্ত্বের এই পর্যায়কে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না।

তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এ ধরনের মাত্র দু’টি ঘটনা পেয়েছি।

ওই নারীর স্বামী জানান, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে তাদের পরিচয়। এর পরে বিয়ের সিদ্ধান্ত। বিয়ের সাত মাস সব ঠিক ছিল। এক দিন হঠাৎ খুব হিংস্র হয়ে যায়। দেখে মনে হবে, কেউ যেন ভর করেছে।

তার দাবি, কারণ অনুসন্ধানে নেমে জানতে পারেন, আট বছর বয়সে তার স্ত্রী চোখের সামনে এক বালককে লরির চাকার পিষ্ট হতে দেখেছিলেন। তার পর থেকে যাবতীয় অদ্ভুত আচরণের সূত্রপাত। ছায়া নামে এক বান্ধবীর গল্প স্ত্রী প্রায় বাড়ির লোকদের বলতেন।

পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ছায়া নামে কেউ ছিল না। সবটাই কল্পনা। কয়েক মাস অন্তর হঠাৎ করে উগ্র হয়ে যেত। সেই সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করত। স্ত্রীর অতীত জানার পরে তাকে মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে লাভ হয়নি। স্ত্রীর অসুস্থতা প্রভাব ফেলেছিল দাম্পত্য জীবনে।

স্বামী জানান, তিনি দুবাইয়ে থাকতেন। স্ত্রী থাকতেন দেশে। দু’ জনের মধ্যে ব্যবধান কমলে যদি সমস্যার সমাধান হয়, সেই আশায় স্ত্রীকে নিয়ে তিনি দুবাইয়ে চলেও যান। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। উল্টো তিনি জানতে পারেন তার অনুপস্থিতিতে একাধিক পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, স্ত্রীর বলেছিলেন কেউ যেন ওঁকে ডাকত। ঘরের মধ্যে অন্য কেউ রয়েছে বলে চিৎকার করত। আবার ঘোর কেটে গেলে নিজেই কেঁদে বলত ও আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। ওঁকে যেন আমি ছেড়ে দিই।

প্রদীপসাহা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, অসুস্থ মানুষটি ঘোরের মধ্যে কী করছেন, কার সঙ্গে যাচ্ছেন, তা বোঝার মতো অবস্থায় থাকেন না। উনি যে বিপদে পড়তে পারেন সেই ভাবনাও আসত না। একে বলে অডিটরি হ্যালুসিনেশন। মেয়েটি মনে করত কেউ তাকে ডাকছে। অবচেতন মনে অবাঞ্ছিত দৃশ্য তার চোখের সামনে ভেসে উঠত।

স্বামী বলেন, অন্য জনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে প্রথমে ১৩ দিন কথা বলিনি। যখন বুঝলাম ও অসুস্থ, তখন অভিমান দূরে রেখে ভালবেসেই বুকে জড়িয়ে ধরেছি!

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত