আজ বিশ্ব মা দিবস

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিনিধি  |  ০১:৪৮, মে ১২, ২০১৯

মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, এর চেয়ে নামটি মধুর ত্রিভুবনে নাই। কবি ঠিকই বলেছেন। মা নামটি মতো মধুময় এবং ভালোবাসার শব্দ পৃথিবীতে আর একটিও নেই। আজ রোববার ‘বিশ্ব মা দিবস’। বিশ্বের সকল মাকে উৎসর্গ করা দিন আজ। প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার এই দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়।

মা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন। এই পৃথিবীতে মা ছাড়া কেউ তার সন্তানকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে না। মায়ের ভালোবাসার মধ্যে আছে প্রকৃত সুখ। দূর গাঁয়ে ফেলে আসা মায়ের মুখ, মায়ের স্নেহ ছায়ায় বেড়ে ওঠার সুখ, মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকার বেদনা, কিংবা আকাশের ওপারে আকাশ, বাতাসের ওপারে বাতাস পেরিয়ে দূর অজানায় পাড়ি জমানো মায়ের স্মৃতি।

এসবই আমাদের পোড়ায় প্রতি নিয়ত। হু হু করে ওঠে বুকের ভেতরটা। আর যখনই মায়ের কথা মনে পড়ে মনের অজান্তেই চোখ ভিজে যায়। ইচ্ছে করে ছুটে যাই মায়ের কাছে। কিন্তু কর্মব্যস্ততা যেতে দেয় না। বিশ্ব মা দিবসে সকল সন্তানের পক্ষ থেকে মায়ের জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একযোগে আজ মা দিবস পালিত হচ্ছে। আধুনিক পশ্চিমা বিশ্বে প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে বিশ শতকের শুরুর দিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়।

তবে মাকে ভালোবাসার জন্য বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না। তার পরও এই দিনে সন্তানেরা নানাভাবে মাকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেন। মা দিবসের উদ্দেশ্য, প্রতিটি মাকে যথাযথ সম্মান দেয়া। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেয়া। যিনি জন্ম দিয়েছেন, লালন-পালন করেছেন সেই মা অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলিত। ঘরে-বাইরে সর্বেক্ষত্রে মায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষেই দেশে দেশে মা দিবস পালন করা হয়। ইউরোপ-আমেরিকায় দিবসটি পালন করা হয় অতি সম্মানের সাথে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে দিবসটি পালিত হয়। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় রোববার নরওয়েতে, মার্চের চতুর্থ রোববার আয়ারল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাজ্যে এবং বাংলাদেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্ব মা দিবসে আজ সকাল ১০টায় ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ৩৫ জন রত্নগর্ভা মায়ের হাতে ‘রত্নগর্ভা মা অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান আজাদ প্রোডাক্টস। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সাল থেকে এ অনুষ্ঠান শুরু করে।

এবারের ১৬তম এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি। আজাদ প্রোডাক্টসের ডিজিএম দেবাশীষ সরকার আমার সংবাদকে বলেন, অনুষ্ঠানটি সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সকলের দোয়া চাই। বিশেষ করে রত্নগর্ভা মাদের জন্য দোয়া চাই। তিনি আরও বলেন, মায়েদের চাহিদার ভিত্তিতে আমরা এ অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকি। সাধারণত আমরা ২৫ জন মাকে এটা দেই। তবে মাদের চাহিদার ভিত্তিতে আরও ১০ জনকে বাড়তি দেয়া হবে।

এ দিনে সন্তানরা মাকে বিভিন্ন উপহার দিয়ে থাকেন। এদিন মায়ের হাতে তুলে দেন তার প্রিয় রঙের শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ। উপহারের তালিকায় থাকে অর্নামেন্টস, ওয়ালেট, কফি মগ, জুতো কিংবা স্ন্যাকস ট্রে’র মতো সামগ্রী।

এছাড়া মাকে চমকে দিতে অনেকে তার প্রিয় খাবারটি নিজের হাতে রান্না করে খাইয়ে থাকেন। আদতে অপরিশোধ্য মাতৃঋণের বদলে মাকে ক্ষণিকের আনন্দ দিয়ে খুশি হয় সন্তানরা। দূরে থাকায় মায়ের স্পর্শ যারা সব সময় পান না, তারা দ্বারস্থ হন সেলফোনের।

বর্তমানে প্রচলিত মা দিবসের সূচনা হয় ১৯০৮ সালে। শতাব্দীর শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এক স্কুলশিক্ষিকা অ্যানা জারভিস সেখানকার পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা দেখে মর্মাহত হয়ে মায়ের জন্য বিশেষ দিন পালনের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করার কথা ভাবলেন। তার সে ভাবনা বাস্তবায়নের আগেই ১৯০৫ সালের ৯ মে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা এম জারভিস মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশে কাজ শুরু করেন।

বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে ১৯০৮ সালে তার মা ফিলাডেলফিয়ার যে গির্জায় উপাসনা করতেন, সেখানে সব মাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মা দিবসের সূচনা করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মায়েদের জন্য উৎসর্গ করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়।

তবে মা দিবসের প্রবক্তা আনা জার্ভিস দিবসটির বাণিজ্যিকীকরণের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, মাকে কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর অর্থ হলো, তাকে দুই কলম লেখার সময় হয় না। চকলেট উপহার দেয়ার অর্থ হলো, তা নিজেই খেয়ে ফেলা।