শিরোনাম

বৃষ্টিপাতে বাড়ছে ডেঙ্গু ঝুঁকি ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৪৬০

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৩৭, আগস্ট ১৮, ২০১৯

ঈদের পর থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সূচক দেশের পুঁজিবাজারের মতো ওঠানামা করছে। গত ১০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মিশ্র সূচকে ভর করছে। কোথাও স্থির নয়।

আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে কিংবা কমছে কোনটিই বলা যাচ্ছে না। পাঁচদিন আক্রান্তের সূচক দুই হাজারের ঘর ছাড়িয়েছে আবার পাঁচদিন এক থেকে দেড় হাজারের মধ্যে অবস্থান করছে। ওঠা-নামার মধ্যেই এ সূচক অবস্থান করছে।

তবে এখনও বড় ধরনের ঝুঁকিমুক্ত হতে পারছে না বাংলাদেশ। কারণ চলতি মাসের বাকি দিনগুলো এবং আগামী মাসের একটি দীর্ঘ সময় ধরে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে মাঝারি থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। তাই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার ঝুঁকিও থাকে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বেশি।

গতকাল শনিবার সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪৬০ জন। যেখানে গত ৮ আগস্ট সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৩২৬ জন। এরপর ৯ তারিখে ঠেকেছে ২ হাজার ২ জনে। ১০ তারিখে আবার সূচক একটু ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ২ হাজার ১৭৯-এ ওঠে।

সেখানে ১১ তারিখে ২ হাজার ৩৩৫-এ পৌঁছায়। এরপর ১২ তারিখে সেই সূচক ২ হাজার ৯৭-এ এসে দাঁড়ায়। পরদিন ১৩ তারিখ ঈদ ছুটিতে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালমুখী হয় মাত্র ১ হাজার ২০১ জন। এটাকে ইতিবাচক বার্তা ধরা সম্ভব হয়নি।

কারণ ঈদের কারণে মানুষ ডেঙ্গু চিকিৎসা নিতে বেশি আগ্রহ দেখায়নি। তারা ঈদ আনন্দ বিনিময়ে বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠে। তবে ১৪ তারিখে আবার হাসপাপতালে আসতে শুরু করে ডেঙ্গু আক্রান্তরা।

সেদিন এক হাজার ২০১ থেকে গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৮৮২ জনে। ১৫ তারিখে সূচক অবস্থান করে এক হাজার ৯৩৩ জনে। তারপর থেকে সূচক নিম্নমুখী। গত ৭২ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা শুধু কমছে। গত শুক্রবার ১৬ তারিখে এক হাজার ৭২১ জন আক্রান্ত হয়েছে।

ডেঙ্গুতে একের পর এক মৃত্যু
কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি ডেঙ্গু। সরকারিভাবে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৪০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিভিন্ন জেলার চিকিৎসকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে সারা দেশে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে বহুপ্রাণ হারিয়েছে। গতকাল শনিবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকায় দুজন ও ফরিদপুরে একজন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গতকাল সকালে সুমন বাশার রাজ (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সুমন বাশার রাজ মাগুরা জেলার চাঁদপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি মাগুরা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বুলু জানান, গত ১২ আগস্ট বিকালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সুমন এই হাসপাতালে ভর্তি হন। সুমনের ডেঙ্গুর সংক্রমণ মস্তিষ্কে আঘাত হানে। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আমরা তাকে সুস্থ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সুমনসহ এ বছর মাগুরায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে গত শুক্রবার রাত (১৭ আগস্ট) ১:২৫ মিনিটে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে ছয় মাস বয়সি শিশু আয়াজুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। শিশু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহিন শরীফ শিশুটির মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেন ।

তিনি বলেন, আয়াজুর রহমানকে ১৪ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ নিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১১ শিশুর মৃত্যু হলো। অপরদিকে গত শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মনোয়ারা বেগম (৪৫) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায়।

দেশে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, গতকাল শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৪৬০ জন। এদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি আছে ৬২১ জন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৭ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৬৫ জন, সরকারি শিশু হাসপাতালে ১০ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৩ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৪ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩২ জন এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ২৮ জন। এছাড়াও বিভিন্ন বেসকারি হাসপাতালে ২৪৪ জন ভার্তি আছে এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকেভর্তি আছে ৮৩৯ জন।

ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ২১৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭০, খুলনা বিভাগে ১০৯, রংপুর বিভাগের ৫১, রাজশাহী বিভাগের ১০৫, বরিশাল বিভাগে ১৩৮, সিলেট বিভাগে ১৩ ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩৪ জন ভর্তি হন।

চলতি বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৫১ হাজার ৪৭৬ জন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে রয়েছে ৭ হাজার ৮৫৬ জন। চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৩ হাজার ৫৮০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শুধু ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে ৩২ হাজার ৩৩ জন। হাসপাতালে আছে ৪ হাজার ৪৩ জন। আর বাড়ি ফিরেছে ২৭ হাজার ৯৫১ জন।

শুধু বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৪ হাজার ৬২৮ জন। এদের মধ্যে এখনো হাসপাতালে আছে এক হাজার ৩২১ জন। আর বাড়ি ফিরেছে ১৩ হাজার ২৭৪ জন। ঢাকার বাইরে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছে ১৯ হাজার ৪৪৩ জন ।

এদের মধ্যে এখনো চিকিৎসাধীন আছে তিন হাজার ৮১৩ জন। আর বাড়ি ফিরেছে ১৫ হাজার ৬২৯ জন। শুধু আগস্ট মাসের ১৭ দিনে আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ১৫ জন।

চলতি মাসে সরকারি হিসেবে আক্রান্ত হয়ে ১০ জন মারা গেছে। জুলাই মাসে ১৬ হাজার ২৫৩ জন আক্রান্ত হয়ে ২৪ জন মারা গেছে। জুনে ১ হাজার ৮৮৪ আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা যায় এবং এপ্রিল মাসে ৫৮ জন আক্রান্ত হলেও দুইজন মারা যায়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত