শিরোনাম

কর্মব্যস্ত হচ্ছে রাজধানী

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৪৮, আগস্ট ১৮, ২০১৯

টানা ছুটির পর আবার কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষগুলো। অধিকাংশ প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানেই গতকাল প্রথম অফিস ছিল। যে কারণে গত শুক্রবার থেকেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা।

গতকাল রাজধানীর অধিকাংশ অফিসেই গিয়ে ঈদের আমেজ দেখা যায়। রাস্তাঘাটে তেমন জ্যাম না থাকলেও গত দুদিনের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। পথচারীদের পদচারণা কম থাকলেও অফিসগুলো ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে ঢাকা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অলিগলির দোকানপাটগুলো ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে।

তবে এখনো অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা দোকানগুলোও এক-দুই দিনের মধ্যে খোলা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন খোলা থাকা দোকানের ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে গাড়ি চলাচল কম থাকলেও স্টেশনগুলোতে গতকালও ছিল উপচেপড়া ভিড়। সরকারি অফিসের চাকরিজীবী ও ব্যাংক কর্মকর্তারা অধিকাংশই গতকাল ঢাকায় ফিরেছেন।

আজ থেকে পুরোদমে অফিস হওয়ার কারণে গতকালই তারা ঢাকায় চলে এসেছেন। কমলাপুল রেলস্টেশনে কথা হয় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসাইনের সাথে।

তিনি বলেন, ‘অফিস আরও আগে খোলা হলেও আমি ছুটিতে ছিলাম। আজ ছুটি শেষ হওয়ায় কাল থেকে অফিস করতে হবে। যে কারণে আজই চলে এসেছি।’ এদিকে রাস্তার ভোগান্তি গতকালও পিছু ছাড়েনি ঢাকাগামী যাত্রীদের।

ঈদের আনন্দের ইতি টেনে স্বজনদের ছেড়ে জীবিকার তাগিদে যখনই বাড়ি থেকে রওনা হয়েছেন, তখনই ঈদের সকল আনন্দ মাটি হয়ে গেছে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় দেখে। দৈনন্দিন ব্যস্ততা ভুলে কিছুদিনের জন্য সবাই হারিয়ে গিয়েছিল অন্য এক জগতে। যেখানে ছিল শুধু আনন্দ আর আনন্দ।

ভালো ভালো খাবার-দাবার, আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়ানো আর পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সাথে ঘুরাফেরা করা। যেখানে বসের কোনো প্যারা ছিল না। ছিল না সহকর্মীদের সঙ্গ। ছিলনা টাইম মেন্টের কোনো ঝামেলা। এভাবেই আবেগাপ্লুত হয়ে মনের ভাব প্রকাশ করছিলেন রংপুর থেকে আশা

ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করা শাহিন। তিনি বলেন, যেহেতু চাকরি করি সেহেতু চব্বিশ ঘণ্টাই একটা সময়সূচি মেনে চলতে হয়। কিন্তু বাড়িতে সেটা ছিলো না। যখন মন চায় ঘুম থেকে উঠতাম। যখন মন চায় খেলতে যাইতাম। যখন মন চায় ঘুরতে যাইতাম। এটা এক বিশাল আনন্দ।

আজ থেকে সেটা আবার বন্ধ হয়ে যাবে। আবারো সময়সূচি মেনে চলতে হবে। তবে আগামী কয়েকদিন পরিবারের সাথে কাটানো সময়গুলোকে খুব মিস করব। ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছেড়ে কয়েকদিনের জন্য বাড়ি চলে যাওয়ায় বদলে গিয়েছিল ঢাকার চিরচেনা রূপ।

রাস্তায় যানজট ছিল না, ছিল না মানুষের ব্যস্ত ছুটে চলা। সেই সঙ্গে গণপরিবহনও চলেছে হাতেগোনা। কিন্তু এই ফাঁকা ঢাকা চিত্রের পরিবর্তন শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। উচ্ছ্বাস নিয়ে বাড়ি ফিরে ঈদ আনন্দ উপভোগ শেষে তারাই আজ ইট-পাথর আর কংক্রিটের শহরে ফিরছেন।

এদিকে কমলাপুরে যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীতে পৌঁছতে গতকালও অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের।

গতকাল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছলো খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি। যেই ট্রেনটি ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে কমলাপুর আসার কথা ছিল। ট্রেনটি বিলম্বে ছেড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর পৌঁছায়।

একইভাবে সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জানানো হয়েছে, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে কমলাপুর এসে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু এটি আসার সম্ভাব্য সময় ১০টা ২০ মিনিটে দেয়া হলেও সে সময়েও পৌঁছাতে পারেনি। রংপুর থেকে ছেড়ে আসা রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টা ৫ মিনিটে কমলাপুর আসার কথা ছিল।

কিন্তু এটি পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় দেয়া হয়েছে বিকাল সাড়ে ৩টা। এভাবেই ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ঈদের আনন্দটা ম্লান হয়ে যায়। তবে সবকিছু ভুলে আজ থেকে রাজধানী ঢাকা আবারো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সবাই।

তারা বলেন, ইতোমধ্যেই প্রাইভেট ও সরকারি সবারই প্রায় বাড়তি ছুটিসহ সব ছুটিই শেষ হয়ে গেছে। যে কারণে আজ থেকে আবার চিরচেনা রূপ পাবে রাজধানী ঢাকা। পল্টনের একটি গলিতে চায়ের ব্যবসা করেন সুরুজ মিয়া।

তিনি বলেন, মানুষজন আসতে শুরু করেছে। এখনো ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হয়নি। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সব আগের মতই হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করে এই ব্যবসায়ী।

এদিকে সিডিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, ঈদ শেষে ঢাকায় ট্রেনে ফিরতি পথে যাত্রীদের চাপের কারণে ট্রেন আসতে বিলম্ব হচ্ছে।

প্রতিটি স্টেশনে যাত্রীদের ওঠার জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এছাড়া যেসব ট্রেন বিলম্বে ছেড়েছে সেই ট্রেনগুলো বিলম্বে ফিরে আসছে ঢাকায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত