শিরোনাম

আদালতে ক্ষমা চাইলেন ভোলার এসপি

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৩:৩০, আগস্ট ২০, ২০১৯

আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মো. কায়সার। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে তথ্য না দেয়ায় গেল ১৭ জুলাই তাকে হাইকোর্ট বিভাগে তলব করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান সরকার মো. কায়সার।আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন-আইনজীবী মো. আশরাফুল আলম নোবেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি আটর্নি জেনারেল জাহিদ সরওয়ার কাজল।

তেজগাঁও থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি জুলহাস জীবিত না মৃত, সে বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারকে গত ৩ জুলাই প্রতিবেদন আকারে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলহাস ওরফে জুয়েল গত ১০-১২ বছর আগে পরিবার নিয়ে ভোলায় চলে গেছেন।

অন্যদিকে, ভোলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে হাইকোর্ট বিভাগের দুইজন বিচারপতির বরাবরে সরাসরি খামে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলায় জুলহাস নামে কোনো ব্যক্তি নেই, তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভোলা সদর এলাকায় পশ্চিম বাপতা নামে কোনো গ্রামও নেই।

‘অশীতিপর রাবেয়া; আদালতের বারান্দায় আর কত ঘুরবেন তিনি’ শিরোনামে গেলো ২৫ এপ্রিল একটি দৈনিকে খবার প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনযুক্ত করে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন আইনজীবী মো. আশরাফুল আলম।

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে অশীতিপর রাবেয়া খাতুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন ২০০২ সালের ২ জুন।

মামলা নম্বর ১৯৩৮/০২। এরপর তিনি গ্রেপ্তার হন, ছয় মাস কারাগারে থেকে জামিনও পান। পরে তাকেসহ দুই আসামি জুলহাস ও মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ শুরু হয় মামলার বিচার।

হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনায় স্থগিত করার পরেও অশীতিপর রাবেয়া খাতুনের মামলার কার্যক্রম পরিচালানার বিষয়ে আইনজীবীর মাধ্যেমে দুঃখ প্রকাশ করে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. আল মামুন।

গত ৩০ এপ্রিল এক আদেশে হাইকোর্ট ১৮ বছর আগে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় অশীতিপর রাবেয়া খাতুনের মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। মামলার নথি তলব করে বিচার বিলম্বের ব্যাখ্যা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানতে চায় আদালত।

শুনানি শেষে আশরাফুল আলম নোবেল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জানতাম রাবেয়া খাতুনের মামলায় আরেক আসামি জুলহাস মারা গেছেন। আদালত এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন জুলহাস জীবিত না মৃত।

পুলিশের পক্ষ থেকে রিপোর্ট এসেছিল জুলহাস ১০ থেকে ১২ বছর আগেই ঢাকা থেকে চলে গেছে। পরবর্তীতে তার গ্রামের বাড়ি ভোলার ঠিকানায় আবারও তদন্ত করা হয় সেখানে তিনি আছেন কি না জানতে। ভোলার পুলিশ সুপারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই নামে সেখানে কারো অস্তিত্ব নেই।

তিনি বলেন, এ মামলার বিষয়ে আজকে আমি কিছু রিপোর্ট জমা দিয়েছি। যেখানে উল্লেখ আছে, জুলহাস ২০০৪ সালে খুন হয়। সেই মামলার এজাহার ও নথিপত্র আদালতে জমা দিয়েছি। পুলিশের প্রতিবেদন ও আমার দেওয়া ডকুমেন্টের মধ্যে যেহেতু গরমিল আছে সেহেতু এ বিষয়ে পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে আদালত আদেশ দিয়েছেন।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত