শিরোনাম

প্রত্যেকদিন 'ঘি'‌ খেলে যা হয়

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৯:০৩, জানুয়ারি ১৭, ২০১৯

তরকারি বা ভাজাভুজিতে অতিরিক্ত তেল মানেই শরীরে অসুখের আনাগোনা। মুচমুচে ভাজা খেতে রিফাইন্ড অয়েলও এখন সেফ জোনে নেই। সেই তুলনায় ঘি স্বাদে ও স্বাস্থ্য গুণে অনেক এগিয়ে। প্রত্যেকদিন ঘি খেলে কী হয় নিচে তা দেওয়া হলো:

*গরম ভাতে ঘি আর কাঁচালঙ্কা!
চোখরাঙানির এই মিঠে শাসানি লোভনীয়ই শুধু নয় এর স্বাস্থ্যগুণও অনেক বেশি। যদিও অধিকাংশেরই ধারণা, ঘি মানেই ওজন বৃদ্ধির ভয়। বিশেষ কিছু ডাল বা হালুয়া বানাতে কিংবা ফ্রায়েড রাইস বা বিরিয়ানিকে আরও সুস্বাদু করে তুলতে ঘিয়ের ব্যবহার ঘরে ঘরে। তবে স্বাস্থ্যসচেতনার হিড়িকে বাঙালির ঘরে এখন ঘিয়ের পরিবর্তে স্থান পাচ্ছে রিফাইন্ড অয়েল। এটা আরও মারাত্মক। ঘি নিয়ে এমন ভুল ভাঙা দরকার। আয়ুর্বেদ মতে সেই অতীত থেকেই এই বিশ্বাস, ঘি একাধিক রোগ সারিয়ে তুলতে পারে। বর্তমানে চিকিৎসক থেকে ডায়াটেশিয়ান অনেকেরই তেলের চেয়ে ঘি-তে সম্মতি বেশি। কেন?

*গুড ফ্যাটে সমৃদ্ধ
মোটা হয়ে যাচ্ছেন? রোগা হতে গেলে প্রথমেই সকলে যা করেন তা হল ডায়েট থেকে ফ্যাট বর্জন। কিন্তু এই কাজটি যত না শরীরের ভাল করে তার চেয়ে ক্ষতি করে আরও বেশি। ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন এই তিনটি উপাদান হেলদি জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এগুলি বিনা সুস্থ থাকার চেষ্টা বৃথা। যেটা আমাদের করা উচিত তা হল, খাদ্যতালিকা থেকে এগুলি বাদ না দিয়ে খারাপের পরিবর্তে ভাল জিনিসকে গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তেলে ভাজা খাবার, জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি না খেয়ে যদি তার বদলে বাড়িতে সামান্য ঘিয়ে ভাজা খাবার খাওয়া যায় তবে তা অনেক বেশি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর। কারণ ঘি খেলে তা কোষ থেকে ফ্যাট সলিউবল টক্সিন বের করে দেয় যা ফ্যাট মেটাবলিজে সাহায্য করে। ফলে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট সহজেই এনার্জিতে পরিণত হয়। ওজন কমে দ্রুত।

*রুটিতে দিয়ে খেলে ভাল
রুটিতে ঘি মাখিয়ে খেলে রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা) কমে যায়। এছাড়া রুটি নরম থাকে ও খেলে হজমও হয় দ্রুত। শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের এক শতাংশ উৎস আসা উচিত ঘি জাতীয় খাবার থেকে।

*অন্ত্রে উপকারী
ঘি-তে উপস্থিত বিউটাইরিক অ্যাসিড আমাদের ইনটেস্টাইনাল ওয়াল বা অন্ত্র ভাল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া কোলনের কোষকে ড্যামেজ থেকে মুক্ত রাখে। তবে এক্ষেত্রে অন্ত্রে ঘিয়ের প্রয়োগ আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে বাহ্যিকভাবে হওয়া প্রয়োজন।

*হার্টের ক্ষতি করে না
অধিকাংশের ধারণা ঘি শরীর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। তা একেবারেই নয়। বরং রিফাইন তেলের চেয়ে ঘি অনের বেশি নিরাপদ। কারণ ঘি-তে যে ফ্যাট উপস্থিত সেই ফ্যাট শরীরে গিয়ে সরাসরি এনার্জিতে পরিণত হয়। অনান্য ফ্যাটের মতো তা শরীরে গিয়ে জমা হয় না। তাই ঘি খেলে হার্টের অসুখ বৃদ্ধির কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং রোজ অল্প মাত্রায় ঘি খেলে তা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় ও গুড কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে সাহায্য করে। ঘি-তে পুরোটাই থাকে ফ্যাট, কোনও কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিন থাকে না। এক চামচ ঘি প্রায় ১০০-১৫০ ক্যালোরি শক্তির জোগান দেয়। রোজ ১ থেকে দেড় চামচ ঘি খাওয়া যায়। এছাড়াও যাঁরা ডায়াবেটিস, ওবেসিটি ইত্যাদি ক্রনিক অসুখে আক্রান্ত তাঁরা অন্য তেলে ভাজা খাবারের মাত্রা কমিয়ে বা তেল খাওয়া কমিয়ে তার বদলে একচামচ ঘি নিশ্চিন্তে খেতেই পারেন। ঘি খাওয়ার সঠিক নিয়ম হল কোনও কিছু কড়া করে ভাজার ক্ষেত্রে বা কাঁচা ঘি। হালকা ভাজা খাবার খেতে হলে সেক্ষেত্রে রিফাইন্ড অয়েলে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কড়া করে ভেজে খেতে গেলে সেক্ষেত্রে ঘি-ই বেস্ট চয়েস। যেহেতু ঘিয়ের জলনাঙ্ক বা স্মোক পয়েন্ট অনেক বেশি তাই উচ্চ তাপমাত্রায় রেখে তাতে কিছু ভাজলে সেই খাবারের মধ্যে কোনও বিষাক্ত উপাদান জমা হয় না। বিশেষ করে লুচি, আলুভাজা, পরটা ইত্যাদি রিফাইন্ড অয়েল বা ছাঁকা তেলে না ভেজে মাঝে মধ্যে ঘিয়ে ভেজে খেলে ক্ষতি কম। এছাড়া রোজ অল্প কাঁচা ঘি ভাত বা ডালে ফেলে খেতে পারেন। ঘিতে অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিসেপটিক উপাদান থাকায় সর্দিতে নাক বন্ধ হলে নাকে লাগালেও আরাম মেলে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত