শিরোনাম

মাদকের চোরাগলিতে পুলিশ! নির্মূলে সদিচ্ছার বিকল্প নেই

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১২:২৪, জুন ১৭, ২০১৯

মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন মিডিয়ার শিরোনাম দেখা যায়, ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেপ্তার। পুলিশ যদি এভাবে মাদক কারবারের সাথে জড়িত হয়ে থাকে, তাহলে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের ব্যবসা এখন আর সাধারণ পাবলিকের মধ্যে নেই। এ ব্যবসা এখন উচ্চপর্যায়ে চলে গেছে।

ইয়াবা ব্যবসা নিজের বাসনা ও সুবিধামতো করার সুযোগ ও সাহস দেশে কারোরই নেই। কতিপয় অসৎ পুলিশই পাবলিক দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করিয়ে থাকে। এ কারণেই দেশে ইয়ারা ব্যবসা জমজমাট।

প্রশাসনের লোকজন জড়িয়ে পরার কারণেই সারা দেশে মাদকদ্রব্য এখন সহজলভ্য! কতিপয় পুলিশই নির্বিঘ্ন পাচারের নিরাপত্তা বেষ্টনীর সাথে সাধারণ মানুষের সহযোগে দেশে মাদক ব্যবসা জিইয়ে রেখেছে।

সমপ্রতি চট্টগ্রামের সিজিএস কলোনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ছিদ্দিকুরকে ১০ হাজার ইয়াবা ও ৮০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট চট্টগ্রামের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আর কেউ জড়িত আছেন কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।

এর আগে গত বছরের ৩১ আগস্ট নগরীর কোতোয়ালি থানার লালদীঘির পাড় পুরোনো গির্জা লেনের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৮০০ ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলো— জহিরুল ইসলাম, পলাশ ভট্টাচার্য ও আনোয়ার হোসেন। তাদের মধ্যে জহিরুল পুলিশ কনস্টেবল। তিনি চট্টগ্রাম আদালতের পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন (জিআরও) শাখায় কর্মরত ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর তিনি কোতোয়ালি থানার পুলিশকে জানান, বিক্রির জন্য ইয়াবাগুলো তার কাছে রেখেছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবদুল ওয়াদুদ। পলাশ ও আনোয়ার এগুলো কেনার জন্য এসেছিল। মাদকদ্রব্য পরিবহনের কাজ পুলিশে নয়।

পুলিশের কাজ, মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ ও আটক করা। কিন্তু কতিপয় পুলিশ আটকে গেছে মাদকের অধিক মুনাফার চোরাগলিতে! একটি বিষয় ভাবতে অবাক লাগে!

এই পুলিশই আবার মাদকের খোঁজে ও তল্লাশির নামে হয়রানি করে থাকে নিরীহ মানুষদের। পুলিশ নিজের পকেটের ইয়াবা সাধারণ মানুষের পকেটে পুড়িয়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে, মামলা ও ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে থাকে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘মাদকের কারবারিতে যারা রাঘববোয়াল, রুই-কাতলা বা গডফাদার হিসেবে পরিচিত, সরকারের মাদক নির্মূল অভিযানের কারণে তরা কেউই এখন মাঠে নেই। কতিপয় অসৎ পুলিশ এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে।’

দেশজুড়ে মাদকের ভয়াবহ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে, হাটে, বাজারে, গঞ্জে, বন্দরে মাদকের খদ্দের ব্যাপকের সাথে ব্যবসাও জমজমাট। সে কারণে নির্দ্বিধায় বলা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রতিটি এলাকার স্থানীয় প্রশাসন, কে বা কারা এই নেশাজাতীয় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা ভালো করেই জানেন। কিন্তু অজানা কারণে তাদের ধরা হচ্ছে না।

একমাত্র সরকারের সদিচ্ছায় হতে পারে মাদকের সর্বগ্রাসী বিস্তার প্রতিরোধ। মাদক নির্মূলের জন্য সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কারণ প্রশাসন জানে কে মাদক সরবরাহ করে, কে আমদানি করে, কে বিক্রয় করে, কে গ্রহণ করে। কোনাটাই তাদের নজরদারির বাইরে নয়। এক সময় আমাদের প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে মাদক মারাত্নক সমস্যা তৈরি করেছিল।

থাই সরকার ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্বে যুদ্ধ ঘোষণা করে সেনাবাহিনী নামায়। সেনাবাহিনী মাদক নেটওয়ার্ক ও সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে ২৫০০ মূল মাদক কারবারিকে হত্যা করে। বাকি ইয়াবা গডফাদাররা প্রাণে বাঁচতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টও মাদক বিক্রেতাদের গুলি করে মারার ঘোষণা ও মৃত্যুদণ্ড আইন করেছিলেন। দেশ এখন মাদকের আধারে নিমজ্জিত।

যাদের দেশ গড়ার ধ্যানে মগ্ন থাকার কথা, সেই তরুণ যুবসমাজ আজ মাদক সেবনে ব্যস্ত। মা-বাবা হত্যাশহ তারা কোনো অপরাধ করতেই দ্বিধাবোধ করে না। ইতোপূর্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম শিকদার বলেছিলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই বেশি ইয়াবা সেবন করে’।

যে তরুণ যুবশক্তি দেশের প্রাণ, মেরুদণ্ড, নেশার ছোবলে আজ সেই মেরুদণ্ড ভেঙে মৃত্যুতে ঢলে পড়ছে, ধ্বংস হচ্ছে পরিবার ও সামাজিক শান্তি। তরুণরা হাতের কাছেই মাদক পেয়ে যাচ্ছে।

এর দায় অবশ্যই সরকারের। আমাদের পুলিশ, বিডিআর, আর্মি বিভিন্ন পর্যায়ে সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত আছেন। এরপরও মাদক ঢুকছে কিভাবে? কেননা মাদকের প্রবাহ ও উৎস নিয়ন্ত্রণ না করে মাদক পান ও গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত