শিরোনাম

পুলিশের নিরপেক্ষতা আইনের শাসন নিশ্চিত হোক

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৫:৩৪, জুন ১৯, ২০১৯

বাংলাদেশে সংঘটিত সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছিলো ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ড।

মাদ্রাসাতেই তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে তাকে হত্যা করা হয়। গত মার্চ মাসে নুসরাত জাহান রাফি তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছিলো।

সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে থানায় ডেকে নিয়ে জবানবন্দি নিয়েছিলেন।

এ ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় নুসরাতের গায়ে অগ্নিসংযোগ করা হলে তা নিয়ে সারা দেশে আলোচনা শুরু হয়। তখনই ওই জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃত্যুর পর গত ১৫ এপ্রিল ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর জন্য ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামি করে ঢাকায় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন একজন আইনজীবী।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওই অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

তদন্তের পর পিবিআই যে প্রতিবেদন জমা দেয়, সেখানে ওসি মোয়াজ্জেমের নিজের মোবাইল ফোনে জবানবন্দি রেকর্ড করা এবং তা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।

পিবিআইয়ের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

হাসপাতালে নুসরাতের মৃত্যুর পর ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রথমে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়।

পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় পুলিশ বাহিনী থেকে। ওদিকে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিলে তা তামিল করা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের মধ্যে বেশ কয়েক দিন ঠেলাঠেলি চলে।

এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমে পরিদর্শক মোয়াজ্জেমের লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার খবরও আসে। ফলে পুলিশ বাহিনী তাদের কর্মকর্তা মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তারে আদৌ আন্তরিক কি না, সেই প্রশ্ন ওঠে।

গত রোববার ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে আগামী ৩০ জুন অভিযোগ গঠনের দিন রেখেছেন।

পুলিশের আরো এক কর্মকর্তার বিষয়ে উচ্চ আদালতই প্রশ্ন তুলেছেন। পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে এখনো গ্রেপ্তার না করায় ক্ষুব্ধ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালককে ঘুষ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ডিআইজি মিজানুর রহমান দুদকের চেয়েও বেশি শক্তিশালী কি না— এমন প্রশ্ন করেছেন আদালত। ডিআইজি মিজান কিংবা ওসি মোয়াজ্জেমের মতো গুটিকয়েক কর্মকর্তার কারণে আমাদের পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও আন্তরিকতা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাসময়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পুলিশ বাহিনীর সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না।

অন্যদিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তা উদাহরণ সৃষ্টি করবে। পুলিশ নিয়ে জনমনে কোনো ভীতিও কাজ করবে না। সব কিছুুর পরও অবশ্য ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার হয়েছেন।

আমরা আশা করবো, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে জনমনে জন্ম নেয়া সব প্রশ্নের অবসান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত