শিরোনাম

বামের রাজনৈতিক সুমতি এবং ভেজাল ৫২ পণ্য

প্রিন্ট সংস্করণ॥মোমিন মেহেদী  |  ০১:৩৯, জুন ২০, ২০১৯

বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জন্য নিবেদিত থেকে ক্রমশ সাহসের সাথে এগিয়ে চলছি। ছাত্রজীবন থেকে চলতে চলতে বলতে বলতে তৈরি হওয়া আমি মনে করি, বাম রাজনীতিকদের ‘মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি’ স্টাইলের রাজনীতির কারণে নির্মমতার রাজনীতিকদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। যে কারণে পত্রিকার পাতায় লেখা হচ্ছে যে, অর্থ মন্ত্রণালয় অভিমুখে বাম জোটের বিক্ষোভ-মিছিলে জিপিওর জিরো পয়েন্টে বাধা দিয়েছে পুলিশ।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধের দাবিতে এবং অবলোপন ও রি-সিডিউলের নামে ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাতদের ঋণ মওকুফ, সুদ কমানোসহ অন্যায় সুবিধা দেয়ার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি ডাকা হয়। নিজেদের হালুয়া-রুটি ভাগাভাগির জন্য আলাদা হয়ে যাওয়া অযাচিত রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোটের শরিক দলগুলো বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে উপস্থিত হয়।

অতিতের মত এই আন্দোলন আন্দোলন খেলাটাও সরকারের পৃষ্টপোষকতায় হয়েছে বলে আমি মনে করি। অতিত ইতিহাস বলে যে, রুপপুর, সুন্দরগঞ্জ, রামপালসহ যতগুলো আন্দোলন এই বামেরা করেছে, প্রতিটি আন্দোলন ঘুমিয়ে গেছে আর জেগে উঠেছে লুটেরারা।

কারণ একটাই লুটেরাদের টাকাতেই সেই আন্দোলন আন্দোলন খেলাগুলো চলেছে প্রতারণার হাত ধরে। এখন যেমন সরকারের একটি অংশ ভাগবাটোয়ারাতে কম বেশি হওয়ায় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে-পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হওয়ায় পাণের গুঁড়া হলুদ, কারি পাউডার, লাচ্ছা সেমাইসহ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্র্যান্ডের ৫২টি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতি এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে সংস্থা দুটিকে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। যখনই এই দেশে রুটি হালুয়া নিয়ে ভাগাভাগি হয় তখনই বেরিয়ে আসে রকমারি আইন।

যদি তাই না হবে, তাহলে এতদিন কিভাবে এই পণ্যগুলো বাজারজাত হয়েছিলো? উত্তর কেউ দেবে না; বরং বলবে- বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

এদিকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, যারা খাবারে ভেজাল দেয়, তারা সমাজ ও মানবতার শত্রু। খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তাদের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। আমরা সারাবছরই জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে চাই।

দীর্ঘদিন মানহীন পণ্য বাজারে সয়লাব থাকার পর আদালত আদেশে বলেছেন, শুধু রমজানে ভেজালবিরোধী অভিযান কাম্য নয়, সারা বছর চলা উচিত। খাদ্য নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন শুধু কর্মকর্তা হিসেবে কাজ না করেন, তারা যেন দেশপ্রেমিক হিসেবে জনগণের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

আদালত আরও বলেন, যদিও এ বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের। আদালতের দেখার বিষয় না। তারপরও জনস্বার্থ বিবেচনায় আদালত এড়িয়ে যেতে পারেন না। খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ করা দরকার।

আমাদেরকে বোকা বানানো নেক সহজ, যে কারণে নিত্য নতুন কাহিনীর জন্ম দেয়ার মধ্য দিয়ে বলা হয়- বাংলাদেশ সরকার, ক্ষমতাসীন দল ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা- মাদকের বিরুদ্ধে যেমন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনি খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে যেন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার বা জব্দ চেয়ে কনসাস কনজুমার সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষে এ রিট করা হয়।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইয়ের দুই কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে আদালতে হাজির হতে বলেন। সেই অনুযায়ী বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজুল হক ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক সহদেব চন্দ্র সাহা হাজির হন।

পরে রিটের শুনানিতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যে ভেজাল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেছিলেন, তালিকায় রূপচাঁদা ও তীরের তেলসহ অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের পণ্য আছে দেখছি। প্রাণের হলুদ গুঁড়ায়ও ভেজাল তাহলে আমরা কোথায় আছি?

তার ওপর এক একটি পণ্য দুই বছর পর্যন্ত বাজারজাত হওয়ার পর আমাদের সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত বিএসটিআইয়ের ল্যাব পরীক্ষায় ধরা পড়া ৫২টি নিম্নমানের খাদ্যপণ্য দেশের বাজার থেকে পত্যাহার বা জব্দ করতে এবং বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান লঙ্ঘন করে নিম্নমানের এসব খাদ্যপণ্য পক্রিয়াজাতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল দেন আদালত।

খাদ্য, বাণিজ্য, শিল্প সচিব, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এতদিন পর এসে বলা হচ্ছে- নিম্নমানের ৫২টি পণ্য বাজারে থাকলে তা তুলে নিয়ে সেগুলো ডেস্ট্রয় (ধ্বংস) করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়।এসব কোম্পানির পণ্য বিএসটিআইয়ের মানোন্নয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। দুধের কী অবস্থা দেখুন। দুধে পানি মেশানো হচ্ছে।

আদালত বলেন, টেলিভিশনে দেখলাম, ইটের গুঁড়া দিয়ে মসলা বানাচ্ছে, ভুসি দিয়ে মসলা বানানো হচ্ছে। অথচ নামিদামি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে দেখি তাদের মসলা সবচেয়ে ভালো। এই খাদ্যে ভেজালের কারণে গত ১০ বছরে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে।

এসময় আদালত বলেন, সুস্থভাবে বাঁচতে হলে প য়োজনে হলুদ ছাড়াই তরকারি রান্না করে খেতে হবে। প্রয়োজনে সিদ্ধ ডিম খাব। আদালত ডিম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এখন তো প্লাস্টিকের ডিম পাওয়া যায়। যদিও বাস্তবতা হলো- কোম্পানিগুলো এমনভাবে বিজ্ঞাপনের প্রচারণা চালায় যে, যিনি মসলা খান না তিনিও ওই মসলা কিনতে প্রলুব্ধ হন। আদালত বলেন, এসব অভিযান নিয়েও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শোনা যায়। তাদের অভিযোগ-তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা চাওয়া হয়।

অবশ্য এ সময় আদালত বলেন, আইনে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা দেয়া আছে। কিন্তু তারা তো সেটা করে না। আপনারা ক্ষমতা পেলে আপনারা কী করবেন? আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালকের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা একজন কর্মকর্তাকে ডাকলাম। তিনি পাঠিয়েছেন এমন এক কর্মকর্তা যিনি একসপ্তাহ আগে যোগদান করেছেন।

ওই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। কেন, তিন-চার মাস ধরে আছেন, এমন কর্মকর্তাও কি নেই যাকে আদালতে পাঠানো যেত? মহাপরিচালকের এ আচরণ আদালতের সঙ্গে ফাজলামো ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন যদি ডিজিকে ডাকি তাহলে তার সমালোচনা করা হবে।

আদালত বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে ওসির ক্ষমতা দেয়া আছে। একজন মহাপরিচালক চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন। অথচ ক্ষমতাবানরা এসির মধ্যে নিশ্চুপ বসে থাকেন। ইচ্ছা নেই কিছু করার। অথবা হয়তো বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ আসে।

আদালত শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করতে ঢাকা ওয়াসার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। বিএসটিআইর মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ৫২টি নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অপসারণের পাশাপাশি এসব নিম্নমানের পণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করি সরকার খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি পাইপলাইনে সাধারণ মানুষের জন্য ওয়াসার বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতেও বলেছেন আদালত। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সমপ্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে।

এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি নিম্নমানের ও ভেজাল পণ্য রয়েছে। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিএসটিআই। বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পবিত্র রমজান মাসে খোলাবাজার থেকে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা কিনে বিএসটিআইয়ের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩১৩টি পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫২টি পণ্য পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে ৫২টি পণ্য হল- ১. সিটি অয়েলের সরিষার তেল (তীর), ২. গ্রিন ব্লিচিংয়ের সরিষার তেল (জিনি), ৩. শমনমের সরিষার তেল (পুষ্টি), ৪. বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের সরিষার তেল (রূপচাঁদা), ৫. কাশেম ফুডের চিপস (সান), ৬. আররা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার (আরা), ৭. আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার (আল সাফি), ৮. মিজানের ড্রিংকিং ওয়াটার, ৯. মর্ন ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার,

১০. ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, ১১.আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, ১২. দীঘির ড্রিংকিং ওয়াটার, ১৩. প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ১৪. ডুডলি নুডলস, ১৫.শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার (টেস্টি, তানি, তাসকিয়া), ১৬. জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ১৭. ড্যানিশের হলুদের গুঁড়া, ১৮. প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের হলুদের গুঁড়া (প্রাণ), ১৯.তানভির ফুড লিমিটেডের হলুদের গুঁড়া ফ্রেশ,

২০. এসিআইয়ের ধনিয়ার গুঁড়া, ২১. কারী পাউডার (প্রাণ), ২২. কারী পাউডার ড্যানিস, ২৩. বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুঁড়া, ২৪. মিষ্টিমেলার লাচ্ছা সেমাই, ২৫. মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, ২৬. মিঠাইয়ের লাচ্ছা সেমাই, ২৭. ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, ২৮. এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ২৯. কিংয়ের ময়দা,

৩০. রূপসার দই, ৩১. মক্কার চানাচুর, ৩২. মেহেদীর বিস্কুট, ৩৩. বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, ৩৪. নিশিতা ফুডসের সুজি, ৩৫. মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, ৩৬. মঞ্জিলের হলুদ গুঁড়া, ৩৭. মধুমতির আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৩৮. সান ফুডের হলুদ গুঁড়া, ৩৯. গ্রিন লেনের মধু,

৪০. কিরণের লাচ্ছা সেমাই, ৪১. ডলফিনের মরিচের গুঁড়া, ৪২. ডলফিনের হলুদের গুঁড়া, ৪৩. সূর্যের মরিচের গুঁড়া, ৪৪. জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, ৪৫. অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, ৪৭. দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৪৮. তিন তীরের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৪৯. মদিনা স্টারশিপ আয়োডিনযুক্ত লবণ, ৫০. তাজ অয়োডিনযুক্ত লবণ, ৫১. নুরের আয়োডিনযুক্ত লবণ ও ৫২. মোল্লা সল্ট।

এরপর খাদ্যে ভেজালকারীদের প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার অবশ্য সর্বোচ্চ চেষ্টা এক করে গণমাধ্যমকে বলেছেন, খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সবাই মিলে একযোগে, এক হয়ে কাজ করে এটিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে হবে।

আতঙ্কিত না হয়ে ভেজাল প্রতিরোধে নিজেরা যদি আরও সোচ্চার হন তাহলে ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রচলিত আইনে শাস্তির যে বিধান রয়েছে দরকার হলে আইন সংশোধন করে শাস্তির মাত্রা বৃদ্ধি করা হবে।

নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ তে খাদ্যে ভেজালের সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ বছরের কারাদন্ড ও ২০ লাখ টাকা। ইদানীং নিরাপদ খাদ্য আইন সংশোধনের একটা দাবি উঠেছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এইটুকু বলতে চাই, আইনটা প্রথম হয়েছে। আমরা প্রথমই যদি যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদন্ড দিতাম তাহলে সমালোচনা হতো।

আইনটা পাস হয়েছে অর্থাৎ বাচ্চাটার জন্ম হয়েছে। সংযোজন-বিয়োজন অনেক কিছুই করা যেতে পারে। যদি আইন সংশোধনের দরকারই হয়, তবে যাবজ্জীবন-মৃত্যুদন্ড অবশ্যই করা যেতে পারে। জনগণের স্বার্থে অনেক কিছুই করা যেতে পারে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল রোধে আমাদের তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট, সিটি কর্পোরেশনের মোবাইল কোর্ট আছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিম আছে, জেলা প্রশাসনের আছে, র্যাবের আছে আমার মনে হয় ৩০টি টিম কাজ করছে। মানুষকে ভেজালের বিষয়ে সচেতন করতে আমরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা করছি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এমনকি মসজিদের ইমাম সাহেবদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজে লাগাচ্ছি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আইন উইং ছিল না।

আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য আমরা সেই উইং চালু করেছি। এই কথা পর্যন্তই শেষ। সবগুলো পণ্যই এখন বাজারে আছে। কোন মনিটরিং টিম না করে আদালত বললেই তো আর পণ্যগুলো সরিয়ে নেবে না কর্তৃপক্ষ। বরং বাধ্য করতে হবে। জরিমানা কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনকে নির্দেশনা দিতে হবে। যার কোনটাই করা হয়নি।

খাদ্যমন্ত্রী যে উইং-এর কথা বলেছেন, তাদের কাজ হলো- কিছু টাকা পয়সা নিয়ে বৈধতা দিয়ে দেয়া। যেটি এই কয়েকদিনে হয়ে যাওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও অর্থনীতির নগণ্য একজন নিবেদিত মানুষ হিসেবে বাজারে গিয়ে ৫২ পণ্যই দেখেছি। এখান থেকে উত্তরণে পদক্ষেপ নিতে হবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদেরকে-আপনাকে-আমাকে। আসুন এগিয়ে যাই সাহসের সাথে, সত্যের সাথে...।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত