শিরোনাম

বিচার বিভাগের প্রশংসনীয় দৃশ্যপট ও প্রাসঙ্গিকতা

প্রিন্ট সংস্করণ॥এ.কে.এম শামছুল হক রেনু  |  ১০:২২, জুলাই ০৪, ২০১৯

সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত ও সমাজে জনবান্ধব, স্বচ্ছ, পরোপকারী ও ভালো মানুষের কথা যেমনি শুনা যায়- তেমনিভাবে দানব, পাষণ্ড, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ শয়তানের প্রেতাত্মার অবয়ব, স্বার্থপর, তেলবাজ, চামচা, চাটুকারীতার কথাও কম শুনা যায়নি।

তারপর এই করেছি, সেই করেছি, এই করব, সেই করব, কথার বাহারী প্যাঁচালী তো আছেই। আর দেশ, জাতি ও জনস্বার্থে যারা কিছু করে থাকে তাদের ব্যাপারে স্বার্থবাজরা তা যেমন বলে না তেমনিভাবে গলাবাজদের বড় আওয়াজের কারণে তা প্রকাশও হয় না।

এছাড়া অনেকে সামান্য কিছু করলে যেমন ঢাকঢোল পেটানোর রোগ বা অভ্যাস আছে তেমনি অনেকে দেশের মানুষের স্বার্থে অনেক বড় কিছু করলেও ঢাকঢোল পেটানোতো দূরের কথা তা অনেক সময় কাছের লোককেও জানিয়ে ধন্যবাদ, মারহাবা ও সাধুবাদ নিতে চায় না।

দীর্ঘদিন ধরে অফিস আদালতে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে জ্যামিতিক হারে পণ্য, ওষুধ ও বিভিন্ন দ্রব্যে অসহনীয় পর্যায়ে ভেজাল বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের মানুষ ও ভোক্তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

এরই মধ্যে উচ্চ আদালতের বেশ কয়েকটি দ্বৈত বেঞ্চের মাননীয় বিচারক ভেজাল পণ্যের বিক্রয়, বিপণন, বাজারজাত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার, জব্দ ও বিনষ্ট করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

এ নিয়ে বিচার বিভাগ ও বিচারকদের ব্যাপারে শ্রেণি, পেশা ও দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এছাড়া দুর্নীতির মামলায় সম্পৃক্ত বিতর্কিত ও বরখাস্তকৃত পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৬ জুন অন্য একটি মামলার রিট চলাকালে দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে দ্বৈত বেঞ্চের বিচারপতি জানতে চেয়েছিলেন, ডিআইজি মিজানকে কেন গ্রেপ্তার করছেন না ?

সেকি দুদকের চাইতেও বড় ? (বর্তমানে ডিআইজি মিজান কারাগারে) এমনকি দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যানকেও প্রাণের পণ্যে ভেজাল সনাক্ত করার অভিযোগে উচ্চ আদালতে গিয়ে জবাবদিহীতা ও জামিন নিতে হয়েছে।

এছাড়া ভেজাল সনাক্ত অন্যান্য দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত কঠোর নির্দেশনা জারী করেছেন। এছাড়া আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষাপটেই কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারা নুসরাত জাহান রাফি হত্যায় সংক্ষুব্ধ আসামি ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দেশে একটার পর একটা সরকারি চাকরি নিয়োগ অহরহ প্রশ্ন ফাঁসসহ যে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেলাল্লাপনার যে দৃশ্যপট বেড়িয়ে আসছে, এই মহাযজ্ঞ ও কৃষ্ণযজ্ঞের কবল থেকে ভূক্তভোগীদের বিষাদের অশ্রু নিবারণের ব্যাপারে আজ দেশের মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে বিচার বিভাগ ও মাননীয় আদালতের সদয় দৃষ্টি কামনা করছে।

বিচার বিভাগ যেভাবে দুর্নীতি ও ভেজালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে সামনে এগুচ্ছে এমনিভাবে বিচার বিভাগ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে চাকরি নিয়োগে হ-য-ব-র-ল কেটে গিয়ে ধীরে ধীরে স্বচ্ছতা ফিরে আসতে পারে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা। অনেকে মনে করে, এ রোগ ও ক্ষত দীর্ঘদিনের। প্যারাসিটামল, নাপা, এ্যালাট্রল, অরাডিন ও এন্টাসিড খেলে এ রোগ আরোগ্য হবেনা।

এ রোগের আশপাশে গ্যাংরিন, ক্যানসার, লিভার সিরোসিসসহ আরও অনেক রোগ বাসা বেঁধে আছে। তারপরও হতাশার চেয়ে আশাবাদী হওয়াটাই বড় নিয়ামক শক্তি। আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনও কাহাকে কখনও নিরাশ করেননি।

সুরা আর রহমানে আল্লাহ রাব্বুল আল আমীন বার বার ঘোষণা করেছেন, ফাবি আইয়্যি আলা ইয়া রাব্বি কুমা তোকাজ্জীবান, অর্থাৎ আমার কোন নিয়ামতকে তুমি অস্বীকার করবে ? ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের অভিমত থেকে বিচার বিভাগের প্রতি যে প্রত্যাশা ফুটে উঠেছে, তা দেশবাসীকে অনিশ্চিতের মধ্যেও আশার কথা। আমাদের নবীজি সব সময় সাহাবীদের নিকট আশার কথা বলতেন।

তেমনি দার্শনিক সক্রেটিস, রুশো, প্লেটো, বাট্রান্ড রাসেল ও বৈজ্ঞানিক আইনস্টাইন থেকে শুরু করে মার্কস, লেনিন, স্টালিন ও মাওসেতুঙের কর্মকালেও রয়েছে অগণিত আশার কথা।

দুনিয়ার সভ্য, উন্নত, মধ্যআয়ের দেশ ও উন্নয়নশীল দেশসহ সকল দেশে শাসন, প্রশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংবিধানে যেমন রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি সুস্পষ্ট দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে তেমনি দেশের বিচার বিভাগের ভূমিকা, গুরুত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাও কম লক্ষ্য করা যায়নি।

যেদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকা, গুরুত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা যত বেশী সেই দেশের শাসন, প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃংখলা ততধিক উন্নত।

এ নিরিখে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রকে একেবারে খাটো করে দেখার সুযোগ হয়তো না থাকারই কথা। দীর্ঘদিন ধরে ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনে জাতিগত দ্বন্দ্বের কারণে স্বাধীন বিচার বিভাগের অস্তিত্ব নেই বলেই দৃশ্যতঃ সেইসব দেশে শাসন, প্রশাসন ও আইনের শাসন ভেঙে গিয়ে অরাজক রাষ্ট্রে নিপতিত হচ্ছে। বাজেট নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা নতুন কিছু নয়।

ইহা একটি পুরনো সংস্কৃতি। এই নিবন্ধে সেদিকে যেতে চাচ্ছিনা। ইতোমধ্যে বাজেট ঘোষণার পর দিন থেকে বাজেটের পক্ষে বিপক্ষে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠি, লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনীতিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী, দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদদের অভিমত প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং টকশোতে কম পরিলক্ষিত হয়নি।

এ ব্যাপারে আমার সুস্পষ্ট অভিমত, শুধু এবারের বাজেটই নয় প্রতিবারের বাজেটে জিনিসের দাম বৃদ্ধি ঘোষণার পরপরই সেই সমস্ত জিনিসের দাম সাড়া দেশে হু হু করে বেড়ে যায়। বাজেটে ঘোষিত জিনিসের দাম বৃদ্ধি যদি প্রতিফলিত হয়, তবে তা কার্যকরী হওয়ার কথা জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এ রেওয়াজ চলে আসলেও দেখার কেউ আছে বলে অনেকেই মনে করে না।

কারণ এরই মধ্যে বাজেটে বৃদ্ধি প্রাপ্ত চিনি, পাম অয়েল, সয়াবিন, গুঁড়োদুধ, সরিষা, গুঁড়া মসলা, দারচিনি, এলাচি, তৈজষপত্র, অ্যালোমিনিয়াম সামগ্রী, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবার, গাড়ির বিদেশি টায়ারসহ অনেক জিনিসের দাম রাতারাতি বৃদ্ধি পেলেও যে সমস্ত জিনিসের দাম বাজেটে কমেছে তা কমতির কোনো লক্ষণ বাজারে দেখা যায়নি।

অথচ বাজেট ঘোষণার আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, বাজেটের পর বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়বেনা। আরও বলেছিলেন, দাম বৃদ্ধির কোনো ঘটনা ঘটলে তিনি তার প্রতিকার করবেন।

এ সম্পর্কে তিনি আরও বলেছিলেন, তারপরও যদি কেউ দামবৃদ্ধি নিয়ে বিপদে পড়েন, বাজেটে যদি দিয়েও দিই তারপরও কেউ এসে অভিযোগ করলে তা পরিবর্তন করা হবে। তবে বাজারে এখন যা ঘটছে তা এখন পরিস্কার যে, শুধু বাজেটে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জিনিসই নয় সব জিনিসের দামই বাড়ছে।

এছাড়া কোরিয়ার সার্ভিস, কোচিং, বিউটি পার্লার, শপিংমল, সুপারসপ, লন্ড্রি, সিকিউরিটি সার্ভিসে নতুন করে বসেছে কর বা করের হার বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির ওপর ৫ এর হারে ল্যাগু চালু করা হচ্ছে।

ডাল, গম, পেঁয়াজ, সার আমদানিতেও অগ্রিম আয়কর ল্যাগু বসানো হচ্ছে। রাইড শেয়ারিংয়ে ৫ এর স্থলে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট বসানো হয়েছে। যদিও পণ্য ও সেবার সংখ্যা শত শত নয় হাজার হাজার। এর প্রায় প্রতিটিতেই ভ্যাট ল্যাগু হয়েছে। অগ্রিম আয়কর বসানো হয়েছে।

সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ও স্পেসিফিক ডিউটি বসানো হয়েছে। মোদ্দাকথা হচ্ছে ১ জুলাই থেকে বাজেট কার্যকরী হওয়ার নিয়ম থাকলেও বাজেট ঘোষণা ব্রডকাস্ট হওয়ার পরপরই কেনই বা জনগণ ও ভূক্তভোগীদের ওপর দাম বৃদ্ধির এ শেল বা দাম বৃদ্ধির কষাঘাত।

যাক, এ প্রসঙ্গে প্রবীণদের কাছ থেকে শুনা একটি গল্পের সামান্য অংশ এখানে তুলে ধরছি। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন লে. জে. আজম খান এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জে. আইয়ুব খান।

বাজেট ঘোষণার পর থেকেই বাজেটে বৃদ্ধি ঘোষিত পণ্যের দাম বাজারে বৃদ্ধির ব্যাপারে গভর্নর আজম খানকে জানানো হলে দেখা যায়, সারা দেশের শহর, বন্দর ও হাটে বাজারে এমন কিছু চিহ্নিত দোকানপাট ও ব্যবসা কেন্দ্র ছিলো যার প্রায়টির মালিকানায় ছিলো সরকার দলীয় (মুসলীম লীগ) সমর্থিত লোকজন। এ সমস্ত দোকানের সামনে আইয়ুব খানের ছবি ভালো করে বাঁধিয়ে টানিয়ে রাখা হতো।

যে কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংগত কারণে তেমন জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারছিলো না। মূলতঃ দোকানে আইয়ুব খানের ছবিটাই ছিলো মূখ্য ও বড় কারণ। দোকানের মালিক কোনো বিষয় ছিলো না। এসব জেনে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আজম খান নাকি আইয়ুব খানের নির্দেশে এ সমস্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলো।

এ সংবাদ জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাজেটে বৃদ্ধি মূল্যের বেচাকেনা একেবারে পূর্বের স্বাভাবিক মূল্যে নেমে আসে। আইন যদি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সবখানে একইভাবে প্রয়োগ হয়, রাজনীতি এবং স্বজনপ্রীতির উর্ধ্বে থাকা যায় তবে কোনোভাবেই আইনের শাসনকে এলাফেলা ও হেয় করার কারও সুযোগ না থাকারই কথা।

দেশে যেভাবে ভেজাল পণ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দেশের সর্বোচ্চ আদালত যদি এভাবে কঠোর নির্দেশনা ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ না করতো তবে ভেজালের সাম্রাজ্য আরও বেড়ে গিয়ে দেশকে মহাসংকটে নিপতিত করতে ভেজালকারীরা ক্ষান্ত হতনা। সে জন্য ভেজাল চিহ্নিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিচারক ও বিচার বিভাগকে সানন্দবাদ।

এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধে বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে সরকার ও দুদকের পাশে থেকে বিচার কার্য পরিচালনা করেও যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছে। চাকরি নিয়োগে অনিয়ম, প্রশ্ন ফাঁস, ঘুষখোর ও বেলাল্লাপনাদের বিরুদ্ধেও বিচার বিভাগ আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে ভূক্তভোগীরা এ মহাসংকট থেকে পরিত্রাণ ও মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশা করে থাকে।

এ নিবন্ধনটি শেষ করে কম্পিউটার থেকে বের করে লেখাটির প্রুফ দেখার সময় বাংলা সাহিত্যের ক্ষণজন্মা পুরুষ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর একটি প্রবন্ধের উদ্বৃত পংক্তির ভাবাদৃশ্যে আষাঢ়ে বর্ষার আড়ালে “রুদ হচ্ছে, বৃষ্টি হচ্ছে, খেঁক শিয়ালের বিয়ে হচ্ছে” এমন প্রাকৃতিক দৃশ্যের মধ্যে এরশাদ আমলের একজন সাবেক এমপি আমার এক সময়ের রাজনৈতিক সহকর্মী, কবি ও সাহিত্যিক কক্ষে ঢুকেই শুভেচ্ছা বিনিময় করে প্রথমেই বললেন, দোস্ত- সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ খুবই অসুস্থ। আমার এখানে আগ থেকে থাকা আরও ৩ জনসহ একসঙ্গে এরশাদ সাহেবের আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘজীবন কামনায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানালাম।

তখন উপস্থিত একজন মৃদুস্বরে বলে বসলো, এরশাদের বিদিশা নাটক, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন একতরফা দশম সংসদ নির্বাচনে ডিগবাজি, সকালে এক কথা, বিকেলে অন্য কথা এবং রাতে ঘুমে যাওয়ার আগে আরেক কথা বলার কারণে দেশের মানুষ মনে করে এরশাদ পচে গেছে। যা এ নিবন্ধে অপ্রাসঙ্গিক হলেও জনৈক ব্যক্তির কথার বাস্তবতাকে একেবারে নিরোৎসাহিত মনে করা হয়নি।

পরিশেষে বলব, আল্লাহ, রাসুল, কুরআনের বাণী, অনেক সময় মনিষিদের কথা, কর্ম, আমলনামা ও দর্শন অনেকেকেই যেমন মহান ও মহিমান্বিত করেছে তেমনি অনেককে কর্ম ও আমলনামার কারণে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতেও সংকোচিত হয়নি।

ইতিহাসের প্রাপ্তি যেমন মধুর ও আনন্দের তেমনি ইতিহাসের বিমূখতা ও দুঃখবেদনাও যাতনারই নির্মোহ অলংকার।

দেশ, জাতি ও জনস্বার্থে বিচার বিভাগের গুরুত্ব ও বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস যাতে আরও সুদৃঢ় ও বৃদ্ধি লাভ করে ইহাই জনপ্রত্যাশা। একজন মনিষি বলেছেন,সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক আর বিচার বিভাগ হচ্ছে রাষ্ট্রের চাবি।


লেখক : কলামিস্ট

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত