শিরোনাম

রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভোগদখলের মহাযজ্ঞ ও দুদকে সাধু শয়তান

প্রিন্ট সংস্করণ॥এ.কে.এম শামছুল হক রেনু  |  ০০:২২, জুলাই ১০, ২০১৯

প্রাচীনকাল থেকেই সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম দেশ ও জনগণের অভাব, অভিযোগ ও সমস্যা সমাধান নিরসনকল্পে সবিশেষ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। ভারত বর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন স্বাধীনতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তানের শাসক ও ২৩ পরিবারের শোষণ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

দেশের মানুষ আজও এক সময় দৈনিক আজাদ ও এক সময়ে দৈনিক ইত্তেফাকে নিয়মিত প্রকাশিত মুসাফির, লুব্ধক, ভীমরুল, স্পষ্টভাষী ও অন্য একটি কাগজে খোলা জানালাসহ আরও অনেক বস্তুনিষ্ট কলামের কথা স্মরণ করে।

এ সমস্ত কলামে দেশের যে সমস্ত জ্ঞানী, গুণী, প্রতিভাবান, খ্যাতিমান ও প্রথিতযশা দেশ বরেণ্য সাংবাদিক ও কলামিস্টগণ নামে বা ছদ্মনামে যারা নিয়মিত লেখতেন তাদেরকে দেশের মানুষ আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

তদোপরি এখনও যে সমস্ত প্রতিভাবান ও দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও কলামিস্টগণ নিয়মিত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখছেন, সমাজে তাদের মর্যাদাও কম গুরুত্ব বহন করেনি। সেই সময় আজকের মতো এত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ছিল না। তখন রেডিও বা বেতার এবং গুটিকয়েক সংবাদপত্রই ছিল সংবাদ প্রচার ও প্রকাশের একমাত্র বাহন।

সেই সময় কোনো কিছু প্রচার ও সংবাদপত্রে প্রকাশ হওয়ার পরক্ষণেই যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হত। আর বর্তমানে প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াও ব্যাপক তথ্য প্রবাহের যুগে অনেক সময় আগের মতো এত গুরুত্ব দেওয়া হয়না।

তারপরও সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সংবাদপত্র জাতির দর্পন চোখ, কান, নাসিকা, ফুসফুস, কিডনি ও হূদপিন্ড হিসেবে সমধিক পরিচয় বহন করে।

এক সময় উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইদি আমিন শ্বেতাঙ্গদের কাঁধে ও পাল্কিতে চড়ে বেড়ালেও সেই উজবকও সংবাদপত্রকে যথাযথ মর্যাদা দিতে কুণ্ঠাবোধ করতনা। যদি সংবাদপত্রের বস্তুনিষ্ট সংবাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়, অনুধাবন করে থাকে তখন অনেক কিছুর উদঘাটন ও সহজেই অভাব অভিযোগ ও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে বিজ্ঞজনরা মনে করেন।

সেদিক বিচার বিশ্লেষণে গণমাধ্যমও বড় অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক সময় বড় কিছু ঘটলেও তা যেন অনেক সময় মামুলি ব্যাপার হয়ে দেখা দেয়। সেদিকে যেন কারও তেমন দৃষ্টি লক্ষ্য করা যায় না।

যদিও এসব কিছু ভেবে দেখলে অনেক কিছু যেন মনে হবে অমার্জনীয় অপরাধ বা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠি ইচ্ছানুসারে বা অন্য যে কোনো কারণে সহায় সম্পদ ফেলে একদেশ থেকে অন্য দেশে চলে যায় এবং সেই দেশের নাগরিক হিসেবে সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে তবে ফেলে যাওয়া সহায় সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও মিল ফ্যাক্টরির মালিকানার দাবি বৈধ নহে।

এই পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক রাষ্ট্র। আর যদি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠি পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক দাবি করে থাকে তবে এ ব্যাপারেও দেশের আইনানুসারে ব্যবস্থা নেবে রাষ্ট্র। এখানেও দেশের কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠি, প্রভু, ক্ষমতাসীন কেহ পরিত্যক্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভোগদখল করার আদৌ কোনো অধিকার রাখে না।

তদোপরি আইন দ্বারা পরিচালিত কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রে এমন কিছু আশা করাও অমূলক ও কল্পনার রাজ্যে বাস। এছাড়া রাষ্ট্রের পরিত্যক্ত সম্পদ ভোগদখলতো দূরের কথা রাষ্ট্রের আদেশ ব্যতিরেখে রাষ্ট্রীয় পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে যে কারও একটি সরিষার দানা ফেলানোও বড় ধরণের অপরাধ ও আইন অমান্যেরই সামিল।

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হলে, হিন্দুস্তান (ভারত) ও পাকিস্তান নামের পৃথক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তখন অনেকেই ইচ্ছা করেই সহায় সম্পদ, ব্যবসা, বাণিজ্য, বাড়ি-গাড়ি, মিল ফ্যাক্টরি ফেলে রেখে যেমনি ভারত (হিন্দুস্তান) থেকে পাকিস্তানে চলে আসে তেমনি পাকিস্তান থেকে অনেকে ইচ্ছা করে এবং অনেক অত্যাচারী ব্যক্তি, অত্যাচারী জমিদাররা জনরোষের ভয়ে ভারতে চলে যায়।

উভয়েরই সহায় সম্পদ সংগত কারণেই পরিত্যক্ত সম্পদ হিসেবে রাষ্ট্রের অনুকূলে চলে যাওয়ার কথা। যতটুকু জানা যায়, ব্রিটিশ আমলের রচিত এ আইনটি এখনও ভারত, পাকিস্তান ও ৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এখনও নাকি প্রচলিত রয়েছে।

তদোপরি ব্রিটিশ রচিত অপরাধজনিত আইনের অনেক অনুচ্ছেদ এখনও ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে নাকি বহাল তবিয়তে আছে। মোদ্দা কথা, যদি আইনের কোনো আংশিক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হয়ে থাকে তবুও একথা সুস্পষ্ট বাংলাদেশের সাংবিধানিক দৃষ্টি কোণ থেকে রাষ্ট্রের পরিত্যক্ত সম্পদের মালিক একমাত্র রাষ্ট্র।

তাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠির আদৌ ভাগ বসানো বা ভোগদখলের কোনো সুযোগ নেই। পাকিস্তানের ২৪ বছরের কায়েমী স্বার্থবাদী শাসক গোষ্ঠি ও ২৪ বছরের শোষক ও ২৩ পরিবারের লুটেরাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হানাদার পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা এদেশে টিকে থাকার জন্যে জ্বালাও পোড়াও এবং নারকীয় হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে এমন কিছু নৃশংসতা অবশিষ্ট রাখেনি।

এত অমানবিক অত্যাচার ও বীভৎসতার পরও হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী তস্কররা এদেশে টিকতে পারবে না আন্দাজ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই আদমজী, বাওয়ানী, দাউদ, গুল আহমদসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা তাদের অর্জিত সহায় সম্পাদ ও মিল ফ্যাক্টরি ফেলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও দেশের অন্যান্য স্থান থেকে রাতারাতি পিআইএ ও চট্টগ্রাম থেকে জাহাজ যোগে স্বদেশে (পাকিস্তানে) পাড়ি দিয়ে থাকে। সেই সময় আদমজী কিশোরগঞ্জের ন্যাশনাল সুগার মিলও ফেলে রেখে যায়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এক শ্রেণির লোক রাজধানী ঢাকার চকবাজার, মৌলভী বাজার, পুরান ঢাকা, মীরপুর, মোহাম্মদপুর, নারায়ণগঞ্জ, সৈয়দপুর, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীসহ সারাদেশে পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া বা পরিত্যক্ত সহায় সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, গাড়ি-বাড়ি, শিল্পকারখানা অতি উৎসাহে কিছু লোক দখল করে নেয়।

এরই মধ্যে তাদের ফেলে যাওয়া বা পরিত্যক্ত উল্লেখযোগ্য কিছু শিল্প কারখানা জাতীয় স্বার্থে রাষ্ট্রায়ত্ব বা জাতীয়করণ করা হয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও পরিত্যক্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ অনেকেই কুছনেহি পরওয়া করে কাবুলী ওয়ালার হালুয়ার মতো করে দেদারছে আজও বাপ দাদার সম্পদের মতো ভোগদখল ও ব্যবহার করে আসছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

অনেকে এটাকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের বনভোজন ও মহাযজ্ঞ বলেও আখ্যায়িত করে। যদিও ওদের কোনো দল নেই, দর্শন নেই ও আদর্শ নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন ওরা নাকি এদলই সমর্থন করে।

যাদেরকে অনেকেই রাজনীতি অঙ্গনের বিষফোঁড়া বা অনেকেই কৌতুক করে হাইব্রিড রাজনীতিকও বলে। অনেকে আবার এ শ্রেণিটাকে পিজিপি বা প্রেজেন্ট গর্ভনমেন্ট পার্টিও বলে।

ওদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভোগ দখল করে যাতে বংশানুক্রমে টিকে থাকা যায়। যদিও বাসস্থানের অভাবে মুুক্তিযুদ্ধের অতন্দ্র প্রহরী দেশ মাতৃকার সূর্য সন্তান আহত মুক্তিযোদ্ধা, অগণিত নিহত মুক্তিযোদ্ধার অসহায় পরিবার পরিজন, অগণিত অভাজন ও শিক্ষিত বেকার সমাজ কত যে দুর্বিসহ অমানবিক জীবনযাপন করছে এর যেন শেষ নেই। তাদের খবরই রাখে বা কজনা।

সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে যেমন এর অবসান হওয়া দরকার তেমনি সারা দেশে পরিত্যাক্ত সহায় সম্পদ, বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যবসা-বাণিজ্য মিল ফ্যাক্টরি ইত্যাদি কে বা কাহারা ভোগদখল করে আছে ওরা কারা এবং ওদের পরিচয়ই বা কি, তা দেশের মানুষের জানতে ইচ্ছা করলেও, স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

যা জাতির জন্য দুঃখ বেদনার মহাকাব্য ছাড়া কিছু নয় বলে দেশের মানুষ মনে করে থাকে। বেশ কয়েকবার অনেকেই এ ব্যাপারে পরিত্যক্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদের ভোগদখলকারী মহাযজ্ঞদের নাম পরিচয় প্রকাশ করার কথা বললেও কেন যেন অজ্ঞাত কারণে তা প্রকাশিত হয়নি।

যদিও এ বিষয়টিকে কোনোভাবেই হেলাফেলা করে ধামাচাপা ও ঢেকে রাখা যৌক্তিক নয়। রাষ্ট্রীয় সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নয়। ইহা যেমন জাতীয় সম্পদ তেমনি ষোলো কোটি মানুষের জানার অধিকারসহ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার মহান শহীদদের আত্মার শান্তিও কম কথা নয়।

কয়েকদিন আগে টাঙ্গাইলের কালীহাতীতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলে আবু সাঈদ চৌধুরী, শাহজাহান সিরাজ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকীসহ টাঙ্গাইলের কালীহাতীর আরও অনেকের কথা উঠে আসে। আলাপকালে জনৈক ব্যক্তি বললেন, কাদের সিদ্দিকী, আবু সাঈদ চৌধুরী, শাহজাহান সিরাজ ও লতিফ সিদ্দিকীর মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের অবদান ভুলে যাওয়ার নয়।

তবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মোহাম্মদপুরের যে আলীশান বাসাটিতে বসবাস করেন সে বাসাটি পাকিস্তানে চলে যাওয়া এক অবাঙ্গালির ছিল। যা রাষ্ট্রীয় পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে পরিগণিত। অপরদিকে তার বড় ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীও কালীহাতির এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন।

তিনি পাটমন্ত্রী থাকাকালীন বগুড়ায় কমমূল্যে জুট কর্পোরেশনের জায়গা লিজ দেয়ার কারণে একটি অভিযোগের মামলায় কারাগারে। আলাপকালে আরও অনেকে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পরিত্যক্ত সম্পত্তি ভোগদখলে শুধু কাদের সিদ্দিকীই নয়, তালিকা প্রকাশ হলে দেশের আরও কত রতি মহারতির নাম বেড়িয়ে আসে ইহাই দেখার বিষয়।

আরেকজন বললেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী যদি সরকারের অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিত্যক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে বসবাস করেন তাতে দোষের কিছু না থাকারই কথা। তবে দরকার রাষ্ট্রীয় পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা প্রকাশ।

তাতে যদু, মধু, কদু, লাল মিয়া, কালা মিয়া, ধলা মিয়া কারও নাম গোপন থাকবে না। যার ফলে ইচ্ছা করলেই এ ব্যাপারে আলাপ, আলোচনা ও সমালোচনায় কাহাকেও টেনে আনার সুযোগ হয়তো থাকবে না। কথায় বলে বাঘে ছুঁইলে ১৮ ঘা, দুদকে ছুঁইলে ৩৮ ঘা।

বাঘে ছুঁইলে ছাড়ে, দুদকে ছুঁইলে ছাড়ে না। দুর্নীতি দমন ব্যুরো এবং ২০০৪ সালে গঠিত দুদক নিয়ে অনেক কথা থাকলেও বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অক্লান্ত পরিশ্রম করে দুদককে আজ মানুষের আস্থা ও দোড়গোড়ায় আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ইতোমধ্যে দুদকের কিছু অসৎ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেড়ও করে দিয়েছেন।

সদ্য সাময়িক বরখাস্তকৃত, বিতর্কিত ও বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি মামলা তদন্তে এক পর্যায়ে দুদকের পরিচালক হিসেবে কথিত খন্দকার এনামুল বাছিরকে দায়িত্ব দিলে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান গত ৯ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া বক্তব্যে খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ কেলেংকারীর কথা তুলে ধরে।

এ ব্যাপারে শৃংখলা ভঙ্গ ও আসামির নিকট তথ্য পাচারে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে দুজনের ঘুষ কেলেংকারীর ঘটনা তদন্তের জন্য দুদক তিন সদস্যের টিম গঠন করলে দুজনের অডিও ক্লিপের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য এটিএনসিতে পাঠানো হয়।

এই পরীক্ষায় দুজনের কথোপকথন ও ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত সব বিষয় পরীক্ষা করে প্রমাণ পাওয়া যায়। খন্দকার এনামুল বছিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে চিত্র ফুটে উঠেছে অনেকে এটাকে দুদকের পেটে সাধু শয়তান বলে মন্তব্য করতে কুণ্ঠাবোধ করছে না।

যদিও দুদককে এ জায়গায় ফিরিয়ে আনতে দুদক চেয়ারম্যানের বিশাল অর্জনকে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ম্লান করে দিয়েছেন। একটি সূত্রে জানা যায়, ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছিরকে সামনা সামনি নাকি এ ব্যাপারে অচিরেই জিজ্ঞাসা বাদ করবে দুদক। দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে শেষ হয়।

গত ২৭ জুন অন্য এক মামলার রুলের শুনানিতে বিচারপতি এফ.আর.এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের বেঞ্চ দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দুদকে যদি কোনো দুর্নীতিবাজ থাকে তাহলে তাকে বাদ দিন।

এ জায়গাটিতে দুর্নীতিবাজ থাকা উচিত না। দুদকে দুর্নীতিবাজ ক্যানসার থাকলে ছেঁটে ফেলুন। অপরদিকে জানা যায়, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে দুদক যে অভিযোগ আনে ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা, ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং আইনের ৪ (২) ধারা এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারার একটি অজামিনযোগ্য মামলা।

গত ১ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস.এম কদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে উপস্থিত হলে ডিআইজি মিজানের আগাম জামিন আবেদন খারিজ করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে থাকেন।

এ ডিআইজি পুলিশের ইমেজ পুরোপুরি নষ্ট করেছে, ঘুষ দেয়ার ব্যাপারে ডেসপারেট বক্তব্য দিয়েছে বলেও আদালত মন্তব্য করেছে বলে জানা যায়।

পরিশেষে বলব, রাষ্ট্রীয় পরিত্যক্ত সম্পদের তালিকা প্রক্রাশ করে যেমন ভোগদখলকারীদের মুখোশ উন্মোচিত করা উচিত তেমনি দুদকের এনামুল বাছিরই নহে যদি আরও কেহ দুদকে সাধুবেশী শয়তান থেকে থাকে তাদের মুখোশও উন্মোচিত হওয়া উচিত। দুদক দেশের মানুষের আশা ভরসার প্রতীক।

যদি দুদকের সাধু শয়তানদের কারণে মধ্যপথে দুদকের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয় তবে শুধু দেশের আশাবাদী মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রত্যাশাকেও যথেষ্ট আশাহত করবে।

লেখক : কলামিস্ট

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত