শিরোনাম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

প্রিন্ট সংস্করণ॥প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ  |  ০২:২৪, জুলাই ১৫, ২০১৯

আধুনিক কৃষি শিক্ষার সূতিকাগার বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (বিএআই) স্থাপিত হয় ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা বিএআইকে রূপান্তরের মাধ্যমে ২০০১ সনের ১৫ জুলাই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) প্রতিষ্ঠা করেন।

আজ শেকৃবি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শেকৃবি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি যে ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছেন সেজন্য আমরা সকল কৃষিবিদ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী তার নিকট চিরকৃতজ্ঞ ও ঋণী।

এদেশের দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষদের বাঁচানোর জন্য শেরেবাংলা একে ফজলুল হক বিএআই স্থাপন করেছিলেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সনের ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদায় উন্নীত করেন।

সেজন্য দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং এর ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে ক্রমান্বয়ে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দিকে অগ্রগামী হচ্ছে। আমরা সেজন্য এ তিন মহান ব্যক্তির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ দিনে আমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি শেকৃবি এলামনাই কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রতি। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, দিক নির্দেশনা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতার মাধ্যমে শেকৃবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আমরা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করছি তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেককে। এ দিনে স্মরণ করি কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি, কৃষিবিদ এম মহবুবউজ্জামান, কৃষিবিদ সমীর চন্দ, কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়নসহ সকল এলামনাইদের যারা বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাবসহ চূড়ান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই প্রফেসর মো. শাদাত উল্লার প্রতি যিনি অধ্যক্ষ হিসেবে সাহসের সাথে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন করেছেন।

সার্বিকভাবে আমরা শিক্ষক, এলামনাই, কর্মকর্তা, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মচারীবৃন্দ ও অন্যান্য শুভানুধ্যায়ী যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি জানাচ্ছি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

২০১৬ সালের ১৪ আগস্ট বর্তমান সরকার আমাকে উপাচার্যের দায়িত্ব প্রদান করে। আমি মহামান্য রাষ্ট্র্রপতি ও চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ। দায়িত্ব নেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

অদ্যাবধি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাসহ সকল কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। যেহেতু আমি এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলাম অতঃপর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি, তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিষয় সম্পর্কে আমার স্পষ্ট ধারণা রয়েছে।

তাই উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সমস্যা চিহূিত করে এর সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দক্ষ কৃষিবিদ এবং কৃষিবিজ্ঞানী তৈরি করার পাশাপাশি কৃষি গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রসার করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ অবদান রেখে চলেছে।

সবচেয়ে বড় বিষয়, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের কৃষি সেক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাখছে কৃতিত্বের স্বাক্ষর। বিসিএসসহ অন্যসব প্রতিযোগিতামূূলক চাকরির পরীক্ষায় বিশেষ করে কৃষি সেক্টরে উত্তীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং তারা কর্মক্ষেত্রে রাখছেন প্রতিভার স্বাক্ষর।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয়- শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরি করা। আমি উপাচার্যের দায়িত্বগ্রহণের পর বিভিন্ন অনুষদে দেশের সবচেয়ে মেধাবী এবং যোগ্যতা সম্পন্ন ১০০ জন শিক্ষক এবং ২৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি।

অনেক শিক্ষক এখন যুক্তরাষ্ট্র্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও চীনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়ন করছেন। অনেকে ডিগ্রি অর্জন করে ফিরে এসেছেন। কাজেই এখন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের মধ্যে ভালো মিথস্ক্রিয়া হচ্ছে এবং হবে।

ভালো ডিগ্রিধারী শিক্ষক এবং মেধাবী শিক্ষার্থী-এই দুটি বিষয়ে যখন সম্মিলন ঘটছে, তখন আমরা আশা করব নিঃসন্দেহে আমাদের শিক্ষার মান বাড়ছে এবং বাড়বে। শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) এর মাধ্যমে প্রায় ৭৫টি ট্রেনিং, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে। সেলফ এসেসমেন্ট ও আউটকাম বেসড কোর্স কারিকিউলা তৈরি করা হয়েছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদ, এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ, এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ এবং ফিসারিজ অনুষদের ৩৫টি বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি তিন ধরণের কোর্স চালু রয়েছে।

রয়েছে সীড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট। তিনটি স্তরে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বমোট শিক্ষক সংখ্যা ৩২২, কর্মকর্তা ২৬৮ ও কর্মচারী ৩৯১। শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার জন্য রয়েছে পাঁচটি খামার। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচটি হল রয়েছে।

এর মধ্যে তিনটি ছেলেদের এবং দুটি মেয়েদের। বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় গবেষণার প্রজননক্ষেত্র। গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান সৃষ্টি, উদ্ভাবনী চিন্তাচেতনার বিকাশ প্রধানত বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মানকে বিশ্ব পযার্য় নেয়ার জন্য কাজ করছি। আমি মনে করি এখন অন্য সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি মানসম্মত গবেষণা হচ্ছে।

শিক্ষকগণ দেশের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের উপায় নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করার জন্য ছাদ বাগান নিয়ে চলছে ব্যাপক গবেষণা। সুন্দরবনের সকল ধরণের প্রাণীর জেনেটিক বার কোড নির্ণয় ও বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক ও ফলিত গবেষণা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এমএস এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীরা গবেষণা করছে এবং শিক্ষকগণ তাদের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ইঁদুরের মধ্যে মানুষের অন্ত:পরজীবী (কৃমি) গনজাইলোনেমা শনাক্ত করতে সফল হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের একদল গবেষক। বাংলাদেশে মূল্যবান ফসল জাফরান উৎপাদনে সাফল্য লাভ করেছে। প্রথমবারের মতো টার্কি মুরগির কৃত্রিম প্রজনন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সূর্যের আলোছাড়া সবজি চাষ, কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে স্বল্প সময়ে সবজির বীজ উৎপাদন কৌশল আবিষ্কার, মৌমাছির কৃত্রিম প্রজনন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে একদল গবেষক। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে সাউ সরিষা-১, সাউ সরিষা-২, সাউ সরিষা-৩, সাউ টমাটিলো-১, সাউ টমাটিলো-২, সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-১, সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-২, সাদা ভুট্টা, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আলুবীজ ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে সফলতা, রুকোলা, বাটন মাশরুম, জামারুসান মূলা, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিভিন্ন বিদেশি ফুলের উৎপাদন সফলতা উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে দেশে প্রথম ল্যাসেনথিরাস গাছের ফুল ফোটান এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, যা বাণিজ্যকভাবে সফলভাবে চাষ হচ্ছে। উদ্যানতত্ত্ব খামারে গোলাপ বাগানে নানা প্রজাতির লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপী, পার্পল, কালো ও সবুজ রঙের গোলাপের ওপর গবেষণা করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষক পেঁয়াজ, পানপাতা, বাসমতি ধান, মুলা নিয়ে গবেষণা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালযের অর্থায়নে গড়ে উঠেছে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। প্রশাসনিক ভবনের ঠিক পূর্ব পাশে ছয়তলা বিশিষ্ট স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রন্থাগার স্থাপন করা হয়েছে। এখানে রয়েছে ডিজিটাল লাইব্রেরি। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং আরএফআইডি টেকনোলজি সমৃদ্ধ এই গ্রন্থাগারে রয়েছে ৪০,০০০ এরও বেশি দেশি বিদেশি বই, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নাল ও ম্যাগাজিনের এক বিশাল সংগ্রহশালা।

এছাড়াও এই গ্রন্থাগারের জন্য একটি অ্যাপ ডেভেলপ করা হয়েছে যার মাধ্যমে যখন তখন যেখানে সেখানে বসে দরকারি বই পড়া ও তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দেশের প্রথম ভার্চুয়াল ক্লাসরুম, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশ বিদেশের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ করতে ও শিখতে পারবে।

গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত শেকৃবিসহ অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল ও থিসিস পেপারের জন্য একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা হয়েছে। যাতে প্লেজেরিয়াজম রোধ করা যাবে।

এদেশের জনগণ তথা সমগ্র জাতির উন্নয়নে এ কৃষিবান্ধব সরকার বরাবরই গণমুখী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ২১ জুলাই ২০১৬ সালে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেক সভায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ৩৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রকল্প পাস করেন।

এ বিশাল অঙ্কের বরাদ্দের কারণে-ভোগান্তি দূর হবে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যার। ত্বরান্বিত হবে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ১ এপ্রিল ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সাল পর্যন্ত। অনুমোদিত এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোসমূহের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে- কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা হলের উর্ধ্বমুখী (৬ষ্ঠতলা থেকে ১০ম তলা) সম্প্রসারণ কাজ , নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের দক্ষিণ ব্লক (৩য়তলা থেকে ১০ম তলা) ও উত্তর ব্লক (৬ষ্ঠ তলা থেকে ১০ম তলা) সম্প্রসারণ কাজ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনের উর্ধ্বমুখী (৪র্থ তলা থেকে ৫ম তলা) সম্প্রসারণ কাজ, ড. ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে ভবনের উর্ধ্বমুখী (৫ম তলা থেকে ৬ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ কাজ।

প্রশাসনিক ভবনের উর্ধ্বমুখী (৫ম তলা থেকে ৬ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ কাজ, শিক্ষকদের আবাসিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ, ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসিক ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ এবং ডরমিটরি ভবনের উর্ধ্বমুখী (তৃতীয় তলা থেকে ৬ষ্ঠতলা) সম্প্রসারণ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ চলছে- শেখ কামাল একাডেমিক ভবনের উর্ধ্বমুখী (দ্বিতীয় তলা থেকে ১০তলা) সম্প্রসারণ কাজ , টিএসসি কমপ্লেক্স ভবনের উর্ধ্বমুখী (দ্বিতীয় তলা থেকে ৬ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ কাজ, কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণ (১০তলা বিশিষ্ট ৩৯ইউনিট) কাজ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণের কাজও চলমান। নতুনভাবে শুরু হচ্ছে ছাত্রীদের জন্য ১০০০ আসন বিশিষ্ট ১০তলা ভিত দিয়ে ১০তলা হল ভবন নির্মাণ, ছাত্রদের জন্য ১০০০ আসন বিশিষ্ট ১০তলা ভিত দিয়ে ১০তলা হল ভবন নির্মাণ, ভেটেরিনারি ক্লিনিক নির্মাণ, পোল্ট্রির শেড নির্মাণ, এছাড়াও গবেষণা প্লটের জন্য ভূমি উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থা, গ্রীন হাউস নির্মাণ, অত্যাধুনিক ২টি গেট নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পানি, গ্যাসের লাইন স্থাপন, বই-পুস্তক ও জার্নাল সংগ্রহ, উচ্চতর কৃষি গবেষণা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হচ্ছে গবেষণাগারের জন্য। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও সংগ্রহের কাজ চলমান।

আমি সবসময় ছাত্রদের উচ্চ শিক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করি। শিক্ষার্থীরা অন্যায় কাজে না জড়িয়ে যাতে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সবসময় নিয়োজিত থাকে, সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চারও আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্বাধীনতা, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ থেকে ৩২ টি সংগঠন এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিলুপ্তপ্রায় গাছ দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসটিকে একটি মিনি বলধা গার্ডেন বানানো হবে। এটা আমার স্বপ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ৬০ফুট উচ্চতার বঙ্গবন্ধুর একটি মনুমেন্ট সম্বলিত স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হবে। কৃষি অনুষদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মুক্তমঞ্চ নির্মাণ করা হবে। প্রবেশধারে দুটি অত্যাধুনিক গেইট নির্মাণ করা হবে। লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হবে।

তাছাড়া আমি উপাচার্য থাকাকালীন এগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে আরও কিছু সময়োপযোগী ডিগ্রি চালু করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে একটি নতুন অনুষদ খোলার বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়েছি। তাছাড়া শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের উন্নয়নের লক্ষে দেশ ও বিদেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছি এবং আরো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শিক্ষার মান বজায় রাখতে হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাটা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসের পরিবেশ সব সময় সুষ্ঠু এবং স্বাভাবিক ছিল। আমাদের শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট, কর্মসংস্থানের দিক দিয়ে তারা কী ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছে, যোগ্যতায় ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে কি না- এসবই পর্যালোচনা করা দরকার।

অবকাঠামো উন্নয়নের নামে দালান-কোঠা বানিয়ে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার স্বপ্ন না দেখে বরং দেশময় কিংবা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে লেখাপড়ার উচ্চ মান; শিক্ষকদের গবেষণা ও প্রকাশনার অভিনবত্ব। গবেষণা ও প্রকাশনা দিয়ে অন্যদের বোঝাতে হবে আমাদের উন্নতি। আমি মনে করি উচ্চ মানসম্মত লেখাপড়া, পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়মিতকরণ এবং শিক্ষকদের জ্ঞান অন্বেষী মনোভাব- আপাতত এটুকু হলেই শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গৌরবের একটি অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হবে।

বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় এবং কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ সংশ্লিষ্ট শুভানুধ্যায়ীদের প্রচেষ্টায় সকল সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কৃষি শিক্ষার সূতিকাগার এ প্রতিষ্ঠানটিকে তার স্বমহিমায় দাঁড় করিয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত করতে আমাদের প্রয়াস দৃঢ়ভাবে অব্যাহত রাখবো বলে আশা করি।

লেখক : উপাচার্য- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত