শিরোনাম

ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ   |  ১১:৫৫, জুলাই ৩০, ২০১৯

দেশে শিশুশ্রম নিষিদ্ধসহ সরকারের নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপ সত্ত্বেও শিশুশ্রম কমছে না। বরং বাড়ছে। এরকমই তথ্য-পরিসংখ্যান উঠে এসেছে ২৬৭টি শিশু সংগঠনের মোর্চা বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিবেশিত প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু এমনি ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। এসব শিশু প্রধানত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট শিল্প-কারখানায়, লেদ মেশিনে, ইটভাটিতে, বিড়ি-সিগারেট তৈরিসহ নানা ক্ষেত্রে যেখানে শুধু উদায়স্ত পরিশ্রমই নয়, সমূহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ নিরাপত্তা ঝুঁকিও বিদ্যমান।

শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যানুযায়ী শুধু গৃহকর্মেই নিয়োজিত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা চার লাখ ২১ হাজার। এই শ্রমও এই কারণে ঝুঁকিপূর্ণ যে, অধিকাংশ শিশুর গৃহকর্মের কাজেও কমপক্ষে ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হয় এক নাগাড়ে। সেই অনুপাতে না আছে পেটপুরে খাবার ও পুষ্টি। বরং প্রতিনিয়ত জোটে বকাঝকা-লাঞ্ছনা-গঞ্জনা-মারধর।

নির্মম অত্যাচারে একাধিক মৃত্যুর খবরও আছে। এর পাশাপাশি নারী গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে রয়েছে অহরহ যৌন নিপীড়ন-নির্যাতনসহ হত্যার ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রে মামলা- মোকদ্দমা হলেও সুবিচার তথা ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না বললেই চলে। আর কল-কারখানায় কর্মরত শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমদানের বিষয়টি তো সুবিদিত।

চুরির অপরাধে অথবা ছুতানাতায় শিশু শ্রমিককে অকথ্যভাবে মারধরসহ পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগও রয়েছে একাধিক। অথচ সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম নিরসনে অঙ্গীকারবদ্ধ। তা না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।

শিশুশ্রম নিরসনে সরকার বাধ্যতামূলক সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা, মিড ডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ ২৮৫ কোটি টাকার বহুমুখী প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতির হার আশাব্যঞ্জক নয়। অন্যদিকে আর্থ- সামাজিক বাস্তবতাও শিশুশ্রম নিরসনে প্রতিবন্ধক। শিশুদের সঠিক বিকাশের সুযোগ করে দেয়া রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক এবং মানবিক দায়িত্ব।

তাদের পুষ্টিকর খাদ্য, পানীয়, চিকিৎসা, শিক্ষা, আশ্রয় ও জীবনের নিরাপত্তার বিধান করা অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর এমনই বাস্তবতা যে, অধিকাংশ শিশু অবহেলা ও অনাদরের শিকার।

আমাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন এবং আধা-সামন্তবাদী সমাজের বদলে আধুনিক সমাজের বিকাশ সাধন করে এই সঙ্কট কিছুটা হলেও দূর করা যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধ না হওয়ার মূল কারণ আসলে দারিদ্র্য।

কেননা অনেক শিশু শ্রমিকের আয়েই চলে তাদের পরিবার। অভাবের তাড়নায় নিরুপায় হয়ে শিশুরা এসব কাজ করছে। সস্তা শ্রমের কারণেও মালিকপক্ষ সুযোগ নিচ্ছে। এমতাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ- অঝুঁকিপূর্ণ উভয় শ্রমে শিশুদের নিরস্ত করা কঠিন বৈকি।

দেশে যতদিন দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থাকবে ততদিন এসব কাজে শিশুদের বিরত রাখা সম্ভব হবে না। এজন্য সেসব শিশুর অভিভাবকের কর্মসংস্থানসহ জীবনমানের উন্নয়ন প্রয়োজন। ক্ষেত্রবিশেষে বিধবা বা দুস্থ ভাতার মতো ওই শিশুদের জন্যও বিশেষ ভাতা চালু করার চিন্তা-ভাবনা করা যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত