শিরোনাম

ঈদ শেষে ফিরছে মানুষ নিরাপদ হোক কর্মক্ষেত্রে ফেরা

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৭:৩৭, আগস্ট ১৭, ২০১৯

এবারের ঈদ-উল-আজহায় গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার তাগিদে প্রায় সর্বস্তরের মানুষের ভোগান্তির অন্ত ছিলো না। পথে পথে দেশের প্রায় সর্বত্র অসহনীয় ও তীব্র যানজট তো ছিলোই; সেইসঙ্গে ছিলো টিকিট পেতেও ভয়াবহ ভোগান্তি। সত্যি বলতে কি, রেলপথ, সড়ক ও নৌপথ- প্রায় সব ক্ষেত্রেই তীব্র টিকিট সংকট পরিলক্ষিত হয়েছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্চমূল্যে টিকিট বিক্রি অথবা অত্যধিক হারে কালোবাজারে টিকিট প্রাপ্তির সত্যতা মিলেছে। অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রির ব্যাপারে ব্যবস্থা তথা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মেলেনি। সর্বাধিক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে ট্রেনের টিকিট প্রাপ্তিসহ যথাসময়ে ছাড়ার ক্ষেত্রে।

এমনকি সকালের ট্রেন রাতে ছেড়ে যাওয়ার প্রমাণও মিলেছে। এর পাশাপাশি প্রায় সবক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকিসহ বিলম্ব গন্তব্যে পৌঁছার অভিযোগও আছে। যে জন্য বৃদ্ধ-বৃদ্ধা-নারী ও শিশুর দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৫ জনের অধিক মৃত্যুর খবর আছে। এসবের সঙ্গে ডেঙ্গু আতঙ্ক যোগ করেছে বাড়তি ভীতির মাত্রা।

যোগাযোগমন্ত্রী গত ঈদ-উল-ফিতরে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে যানজট ও ভোগান্তি কিছু কমাতে সক্ষম হলেও এবারে বলা চলে ব্যর্থ হয়েছেন। তদুপরি অতিবৃষ্টি ও বর্ষণে সড়কপথগুলো ছিল খানা- খন্দকে পরিপূর্ণ, জল- কাদায় ভর্তি, ভাঙা চোরা এবং ঝুঁকিপূর্ণ। যে কারণে দুর্ঘটনা কমছে না, বাড়ছেই। নৌপথেরও কোনো সুসংবাদ ছিলো না বললেই চলে।

অধিকাংশ নৌযান তথা লঞ্চ- স্টিমার চলেছে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বোঝাই করে। আগামীতে যাত্রীদের এই মহাদুর্ভোগ কিভাবে কমানো যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে যোগাযোগমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, নৌমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের। এর পাশাপাশি ঈদের ছুটির শেষে রাজধানী ও অন্যত্র কর্মস্থলে নিরাপদে সবাই যেন ফিরে আসতে পারে পরিবার- পরিজন নিয়ে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সমপ্রতি বিদ্যমান সড়ক- মহাসড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথের ওপর সমধিক গুরুত্বারোপ করে বিপুল আশার সঞ্চার করেছেন জনমনে। গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে গড়ে উঠেছে এক সুবিশাল সড়ক নেটওয়ার্ক। তাই বলে সড়কপথে ভোগান্তিও কিছু কম নেই কোনো অংশে। সড়ক বিশেষ করে মহাসড়কগুলো এক একটা মৃত্যুফাঁদ।

সড়কে মৃত্যুহারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম। মেয়াদোত্তীর্ণ জরাজীর্ণ যানবাহন, অদক্ষ চালক, হেল্পার ইত্যাদি তো রয়েছেই। যানবাহনগুলোতে লোডও কম নয়, যা সহজেই উপলব্ধি করা যায় দুই ঈদ ও অন্যান্য উৎসব উপলক্ষে। কালের বিবর্তনে দেশের অধিকাংশ নদ-নদী প্রায় শুকিয়ে গেছে। অন্তত নাব্য হারিয়েছে। প্রায় নিয়মিত দখল-দূষণে অধিকাংশ নদীই মৃতপ্রায়।

দেশের নৌ-চলাচল ব্যবস্থা ও নৌ-যোগাযোগ অনেকটাই সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। অথচ মানুষের চলাচল ও মালামাল পরিবহনের জন্য নৌপথ এবং নৌযান একটি অত্যন্ত স্বল্পব্যয়ের নিরাপদ যোগাযোগের উপায়। রেলপথ এবং রেলভ্রমণ অপেক্ষাকৃত নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আরামপ্রদ।

দুঃখজনক হলো, স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলোর অমনোযোগ ও অবহেলা এবং সড়ক পরিবহন এবং যানবাহন মালিক সমিতির চাপে, সর্বোপরি রাজনৈতিক কারণেও রেলপথের পরিবর্তে অধিক গুরুত্বারোপ করা হয় সড়ক-মহাসড়কের উন্নয়নে।

এতে একশ্রেণির আমলা-কর্মকর্তা- কর্মচারী ও ঠিকাদারের প্রায় অবাধ লুটপাট ও দুর্নীতির সুযোগ ঘটে। রেলেও যে দুর্নীতি নেই বা হয় না তা বলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে এটা সত্যি যে, সড়কপথের তুলনায় এতদিন অবহেলিত ছিলো রেলপথ।

তবে এর জন্য দেশব্যাপী রেলওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে সর্বাগ্রে। সর্বত্র গড়ে তুলতে হবে আপ এন্ড ডাউন ডাবল লাইন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রেল এবং নৌপথের উন্নয়নে যথাযথ মহাপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবে বলেই প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত