শিরোনাম

মুসলমানদের দুই ঈদে চাঙ্গা হয় দেশের অর্থনীতি

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৫:৩৪, আগস্ট ১৯, ২০১৯

জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা— দুই পবিত্র ঈদের কোনটির অবদান বেশি ও ব্যাপক, তা একটি মধুর আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে। এর তুলনামূলক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিয়ে রীতিমতো গবেষণায়ও রত হতে পারেন অর্থশাস্ত্রের নবীন শিক্ষার্থীরা।

অস্বীকার করার উপায় নেই, দুই ঈদকে ঘিরেই বিশেষভাবে গত কয়েক বছর ধরে প্রবলভাবে আবর্তিত ও স্ফীত হয়ে উঠছে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি। মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ঈদ উৎসবকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আমদানি-রপ্তানিও বাড়ছে ক্রমশ।

মোটা দাগে বলা যায়, ঈদুল- ফতরের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি যদি হয় পোশাককেন্দ্রিক, তাহলে ঈদুল আজহার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পশুকেন্দ্রিক। অর্থাৎ গবাদিপশুসহ ছাগল-ভেড়ার খামার প্রতিষ্ঠা, লালন-পালন, দুধ ও মাংসজাত পণ্যদ্রব্য বিপণন সর্বোপরি চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাদুকা শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি ইত্যাদি।

এই ঈদে মাংস বিতরণের মাধ্যমে গরিবের প্রোটিনের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হয়। দুটোতেই কমবেশি সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হয় বটে, তবে দ্বিতীয়টিতে প্রান্তিক গোষ্ঠীর অধিক উপকার সাধিত হয়ে থাকে।

মনে রাখতে হবে যে, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে বিদ্যুত উৎপাদনসহ নানাবিধ শিল্পকারখানার বিকাশ ও উন্নয়ন সত্ত্বেও জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি অদ্যাবধি কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য

। খাদ্য উৎপাদন বিশেষ করে ধান-চাল উৎপাদনে দেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। এবার ঈদে এক কোটির বেশি গবাদি পশু কুরবানি হয়েছে, যার ৯৯ শতাংশের বেশি দেশীয় গরু। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে এই ঈদকে ঘিরে।

ব্যবসায়ীদের কারসাজিসহ সরকারের হঠকারী নীতির জন্য কাঁচা চামড়া আহরণে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হলেও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনা অত্যুজ্জল, প্রায় ১০৯ কোটি ডলার। এ খাতে আরো আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

মোট কথা, দুই ঈদকে ঘিরে ক্রমশ চাঙ্গা হয়ে উঠছে দেশের অর্থনীতি। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও এর অবদান কম নয়। আরো যা আশার কথা, এর পরিমাণ বাড়ছে দিন দিন। আবহমানকাল থেকেই ঈদ কিংবা পূজা উপলক্ষে বাঙালির নাড়ির টানে ঘরে ফেরার প্রবল আগ্রহ ছিলই।

এখন সে ঈদের ছুটিতে বাড়ি না গিয়ে সপরিবারে বেড়াতেও যায়— কক্সবাজার, কুয়াকাটা, কলকাতা, ব্যাংকক, হংকং, সিঙ্গাপুর এমনকি ইউরোপ-আমেরিকা পর্যন্ত। এবারো লঞ্চ স্টিমার-ট্রেন-বাসের পাশাপাশি আকাশপথেও টিকিটের হাহাকার লক্ষ করা গেছে। প্রতি বছর এ নিয়ে হয়ে থাকে ব্যাপক বাণিজ্য। অনেকেই দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া সত্ত্বেও টিকিট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, এমন খবরও মিলেছে।

বলতেই হয়, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও প্রবৃদ্ধির জন্য এসবই শুভ লক্ষণ। এত বিপুল ব্যয় ও অর্থ খরচের পেছনে মূল নিয়ামক হিসেবে যেটি কাজ করেছে তা হলো ইতোমধ্যে মানুষের আয়-উপার্জন বেড়েছে বহুগুণ।

সরকারি-আধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উৎসব-ভাতা বেড়েছে। বেড়েছে প্রবাসী আয়। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হারও যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক, আট শতাংশের ওপরে। বেড়েছে মাথাপিছু আয়। গ্রাম ও শহরের অর্থনীতির পাশাপাশি চাঙ্গা হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি। এতে বহির্বিশ্বে সমুজ্জ্বল হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদাও।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত