শিরোনাম

আন্তর্জাতিক নারী দিবস বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:২৫, মার্চ ০৮, ২০১৯

‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’। জাতীয় কবির কবিতার এ দু’টি পংক্তিই বুঝিয়ে দেয় এ জগৎ-সংসারে পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকা কতটা গুরুত্ববহ। আর তাই এ অগ্রসরমান পৃথিবীতে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ আজ আর বিস্ময়ের কোনো ব্যাপার নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নারীরা এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। গত তিন দশক ধরে সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নারী। এমনি এক প্রেক্ষাপটে প্রতিবারের মতো এবারও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছর ৮ মার্চ সারা বিশ্বে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ দিবসটি পালন করে থাকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশপাশি তাদের অগ্রগতি কামনা করেছেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও নারী সংগঠন সেমিনার, আলোচনা সভা, র্যালীসহ নানান কর্মসূচি নিয়েছে। পত্রিকাগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ নিবন্ধ, বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে নানা অনুষ্ঠান প্রচার করছে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য আরো বেশি। আমাদের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলা ও তাদের ক্ষমতায়নের জন্য সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রায় সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আজ কল্পনা নয় বাস্তব। মেধা ও দক্ষতায় তারা যে পুরুষের চেয়ে মোটেই কম নয়, তার প্রমাণ ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে। সমাজকর্ম, উন্নয়ন, রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই নারী তার দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। আজ আর নারীকে অবলা বলে অবজ্ঞা করার উপায় নেই।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, নারী জাগরণের এ সময়েও আমাদের দেশে নারীকে লাঞ্ছিত হতে দেখা যায়, নিগৃহিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আজও দেশের আনাচে কানাচে নারী যৌতুকের বলি হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে বিচার না পেয়ে লজ্জায় ঘৃণায় আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে কিশোরী। সাম্প্রতিককালে দেশে অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি নারী নির্যাতনের ঘটনাও যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে তা অস্বীকার করা যাবে না। প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় কোথাও না কোথাও নারী ধর্ষণের খবর বেরোয়। কোথাও একক, কোথাও দলবদ্ধ দুর্বৃত্তদের পাশবিক লালসার শিকার হতে হচ্ছে নারীকে। কখনো কখনো অপরাধীরা ধরা পড়ে। তবে বেশিরবাগ ক্ষেত্রেই ওরা নানা কায়দায় আইনের ফাঁক-ফোকর গলে বেরিয়ে যায়। নারীর প্রতি এই সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। আমাদের সমাজে নারীরা অনেক দূর এগিয়ে গেলেও তারা আজো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। চলতে ফিরতে পথে-ঘাটে যেমন তাদের নানা রকম হেনস্তার শিকার হতে হয়, তেমনি কর্মক্ষেত্রেও অনেককে শিকার হন হয়রানির। এসব অনাচার বন্ধ করতে হলে নারীকে সম্মানের চোখে দেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে পুরুষদের। বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গী। নারীরাও কোনো অংশে কম নয়- এ ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে সর্বত্র। ইসলাম ধর্মে নারীকে অনেক উঁচুতে স্থান দেয়া হয়েছে। নারী পুরুষের সমঅধিকারের কথাও বলা হয়েছে। আমাদের দেশে সাংবিধানিকভাবেও নারীরা সমান অধিকারপ্রাপ্ত। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদানের কথা অবিস্মরণীয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত -নিপীড়িত হয়ে সম্ভ্রম হারিয়েছে প্রায় দুই লাখ নারী। শুধু তাই নয়, তারামন বিবির মতো সাহসী নারীরা হানাদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই করতেও পিছ পা হয়নি। সুতরাং আমাদের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে তাদেরকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তবে, সেজন্য নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা চাই এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, যেখানে নারীরা থাকবে সুরক্ষিত। পুরুষের পাশাপাশি তারাও নির্ভয়ে চলবে পথ। নারীর ক্ষমতায়ন আর তাদের জন্য নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আমরা মনে করি সে অঙ্গীকারকে বাস্তবায়িত করতে হলে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নারীর প্রতি যে কোনো রকমের সংসিতার বিরুেদ্ধে গ্রহণ করতে হবে জিরো টলারেন্স নীতি। যাতে আর কোনো নারীকে দুর্বৃত্তদের লালসার শিকার হয়ে করুণ পরিণতি বরণ করতে না হয়। অসহায় নারীর আর্ত চিৎকারে যেন কেঁপে না ওঠে এ স্বদেশভূমির আকাশ বাতাস।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত