শিরোনাম

ফাঁকা হচ্ছে রাজধানী

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ  |  ০৪:৩৫, জুন ০৩, ২০১৯

*ঈদে ঢাকা ছাড়ছে এক কোটি ৪৭ লাখ মানুষ
*ঘরমুখো মানুষের ঢল সদরঘাটে
*চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ যাত্রীরা
*ট্রেনের শিডিউলে হ-য-ব-র-ল কাটছেই না
*৫ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। সে আনন্দকে প্রিয়জনদের সাথে ভাগাভাগি করতে গত ৩১ মে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ইট-পাথরের নগরী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। যাত্রা পথের চরম দুর্ভোগ ও কষ্ট মেনে নিয়েই ঢাকা ছাড়ছে তারা।

তবে এবছর সবচয়ে বেশি দুর্ভোগ হচ্ছে ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে। প্রতিদিনই কর্তৃপক্ষরা বলছেন আগামীকাল থেকে আর শিডিউল বিপর্যয় হবে না। পরের দিন আবার যেই সেই। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের হ-য-ব-র-ল কাটছেই না।

তার পরও সব দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেই ঢাকা ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ। জানা গেছে, এ বছর ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের চারটি সিটি কর্পোরেশনসহ এ তিন জেলা ছেড়ে যাচ্ছে এক কোটি ৪৭ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও জেলার অন্যান্য স্থান থেকে যাচ্ছে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ।

গাজীপুর থেকে যাচ্ছে ২৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। আর ১১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ থেকে। এই বিপুলসংখ্যক ঘরমুখী যাত্রীর ৫৫ শতাংশ সড়কপথে ও ২৫ শতাংশ নৌপথে যাবে। বাকি ২০ শতাংশ যাচ্ছে রেলপথে।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ-পূর্ব বার্ষিক প্রতিবেদনে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংগঠনগুলো এ সংক্রান্ত ‘পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ’ সংরক্ষণ না করায় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিবছর ঈদের আগে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় এবং এতে প্রতিবেদনটিও ‘শতভাগ তথ্য-নির্ভর কিংবা বস্তুনিষ্ঠ’ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি ঈদে আনুমানিক ৫০ শতাংশ মানুষ ঢাকা মহানগরী ছেড়ে যায়। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ শহর ছাড়ে ৩০ শতাংশ মানুষ। এই হিসেবে এবার ঈদে এক কোটি মানুষ ঢাকা শহর ছাড়ছে আর গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ শহর ছাড়ছে যথাক্রমে ১৯ লাখ ৫০ হাজার ও ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ- চারটি সিটি কর্পোরেশনের বাইরে এ তিন জেলার অন্যান্য স্থান থেকে আরও ২০ লাখ মানুষ ঈদে ঘরমুখী হয়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার ১০ লাখ, গাজীপুরের ৬ লাখ ও নারায়ণগঞ্জের ৪ লাখ মানুষ। সব মিলিয়ে তিন জেলার এক কোটি ৪৭ লাখ মানুষ এবার ঈদযাত্রায় শামিল হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্য এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদ-পূর্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে বলে জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে, নৌ ও সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণপরিবহন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তিপর্যায়ের গবেষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে বেসরকারি এই সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ৮০ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ সড়কপথে ও ৩৬ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ নৌপথে ঘরমুখী হবে। বাকি ২৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ যাবে রেলপথে। এই হিসেবে ঈদে ঘরমুখী মানুষের ৫৫ শতাংশ সড়ক, ২৫ শতাংশ নৌ ও ২০ শতাংশ রেলপথ ব্যবহার করবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বরাত দিয়ে জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংখ্যা যথাক্রমে এক কোটি ৬ লাখ ২৭ হাজার ১৭ জন এবং ৭৫ লাখ ৫৮ হাজার ২৫ জন।

দুটি কর্পোরেশন মিলিয়ে ঢাকা মহানগরীর মোট জনসংখ্যা এক কোটি ৮১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১ এবং সম্মিলিত আয়তন ২৭০ বর্গকিলোমিটার। তবে জীবন-জীবিকার তাগিদে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী প্রবণতার কারণে গত নয় বছরে রাজধানীর জনসংখ্যা অন্তত দুই কোটি।

একই কারণে ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (এনসিসি) জনসংখ্যা বেড়ে যথাক্রমে ৬৫ লাখ ও ২৫ লাখ হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন শহরের বর্তমান লোকসংখ্যা দুই কোটি ৯০ লাখ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, ঈদে স্বজনদের সান্নিধ্য-প্রত্যাশীরা গত কয়েকদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে ঘরমুখী হতে শুরু করলেও আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে ৩১ মে শুক্রবার থেকে এবং এই যাত্রা চলবে ৫ জুন বুধবার (সম্ভাব্য ঈদের দিন) দুপুর পর্যন্ত।

এ যাত্রায় সবচয়ে বেশি দুর্ভোগ হচ্ছে রেল শিডিউল বিপর্যয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ট্রেন স্টেশনে। বিশেষ করে ঈদ যাত্রার প্রথমদিন থেকেই উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলো দেরিতে ছাড়ছে। গতকাল রোববারও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। উত্তরবঙ্গের ট্রেনগুলো দুই থেকে চারঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে। ঈদের আগে শিডিউল বিপর্যয় কাটবেনা বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তবে স্বস্তির খবর সড়কপথে। নারায়ণগঞ্জে নবনির্মিত মেঘনা ও গোমতী সেতু এলাকা পরিদর্শন করে এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই, কমলাপুর রেলস্টেশনে কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের অপেক্ষায় হাজারো যাত্রী। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও ট্রেন না আসায় আনন্দের ঈদ যাত্রা শুরু হয় বিড়ম্বনা দিয়ে।

গতকালও রাজশাহীগামী ট্রেনগুলো ২ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৯টি ট্রেনের মধ্যে ৪টিই বিলম্ব করে আসে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে যথাসময়ে স্টেশনে যাত্রীরা পৌঁছতে না পারায় প্লাটফর্মে থাকার পরও ৪০ মিনিট দেরীতে ছাড়ে চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি।

এদিকে হবিগঞ্জের রশিদপুর এলাকায় গতকাল রোববার সকাল নয়টা ৪০ মিনিটে ‘কুশিয়ারা এক্সপ্রেস’ নামের একটি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। বেলা তিনটা থেকে পুনরায় এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী লোকাল ট্রেন কুশিয়ারা সকাল নয়টা ৪০ মিনিটে হবিগঞ্জের রশিদপুর স্টেশনের অদূরে পৌঁছলে হঠাৎ করে ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এসময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী জালালাবাদ এক্সপ্রেস শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে এবং সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস কুলাউড়ায় আটকা পড়ে।

এতে ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে লাইনচ্যুত হওয়া বগি উদ্ধারের কাজে যোগ দেয় রেল বিভাগের একটি রিলিফ ট্রেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা তিনটা থেকে এ রুটে পুনরায় ট্রেন যোগাযোগ শুরু হয়। ট্রেনে অস্বস্তি থাকলেও সড়কের চিত্র স্বস্তিদায়ক। বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক পথে যাত্রী চাপ কম।

তবে, যানজটের কারণে ফিরতি বাস পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তিতে রয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগ ও উত্তরবঙ্গের যাত্রীরা। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়তের সবচেয়ে আলোচিত যাত্রা পথ লঞ্চ যোগে।

সে পথে সকাল দিকে চাপ কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে চাপ বাড়তে থাকে। অন্যদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঢাকার ব্যস্ততম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সকাল ১১টা থেকে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। দেড় ঘণ্টা পর দুপুর ১২টা থেকে সদরঘাটে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।

এর আগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরসমূহে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়। মূলত সে কারণে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা এড়াতে ঢাকা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। এদিকে গতকাল সকাল থেকেই সদরঘাটে ঈদে ঘরমুখী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। লঞ্চে জায়গা পেতে অনেকেই ফজরের নামাজ পড়েই ছুটে আসেন সদরঘাটে।

তবে লঞ্চ বন্ধ হওয়ার খবরে অনেক যাত্রীই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৩টি রুটে লঞ্চ চলাচল করে। ঈদের সময় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ লোক সদরঘাট দিয়ে নদীপথে গ্রামের বাড়িতে যান।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা জানান, রোববার থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব যাত্রীর চাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। এবার সদরঘাটে সবচেয়ে বেশি যাত্রীর ভিড় হবে আগামীকাল বলে মনে করছেন তারা।

অন্যদিকে গতকাল সকালের দিকে যাত্রী চাপ কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথেই যাত্রী চাপ বাড়তে থাকে। রায় সাহেব বাজার মোড় থেকেই চোখে পড়ে নৌপথের যাত্রীদের। হাতে ও কাঁধে একাধিক ব্যাগ, কারো মাথায় বস্তা, মালামাল নিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ চলছেন লঞ্চের দিকে।

তবে দুপুর পর্যন্ত সদরঘাটে যাওয়ার সড়কগুলো ছিল অনেকটাই যানজটহীন, তবে ওইসব সড়কে গাড়ির চাপ ছিল। দুপুরের মধ্যেই সদরঘাটের মূল ঘাটে থাকা ঢাকা-কালাইয়া রুটে চলাচলকারী বন্ধন-৫, ঢাকা-চরফ্যাশন রুটের কর্ণফুলী-১৩, ঢাকা-হাতিয়া রুটের ফারহান-৪, ঢাকা-বোরহানউদ্দিন রুটের প্রিন্স অব জাহিদ-৭, ঢাকা-ভোলা রুটের কর্ণফুলী-৪, ঢাকা রাঙ্গাবালী রুটের জাহিদ-৪ লঞ্চ যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুরের পর সদরঘাটে যাত্রীর চাপ ক্রমেই বাড়ছিল।

অনেককেই লঞ্চের ছাদে চাদর বিছিয়ে বসতে দেখা গেছে। বন্ধন-৫ লঞ্চের যাত্রী শফিকুল ইসলামের সাথে কথা হয়। বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের মৈশাদী গ্রামে। তিনি বলেন, কাজের তাগিদে শহরে থাকি, মা-বাবা গ্রামে থাকেন। তাই গ্রামে যাওয়া ছাড়া আমাদের ঈদ অপূর্ণ। সকালে বৃষ্টিতে ভিজে সদরঘাটে এসেছি। ডেকে কোনো রকমে বসার জন্য একটু জায়গা পেয়েছি।

গতকাল বেলা ১২টার দিকে সদরঘাট পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এরপরই সদরঘাট পরিদর্শনে আসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঈদের সার্বিক প্রস্তুতি যেটা নিয়েছি; শিমুলিয়া, আরিচা ও সদরঘাট যতটুকু পর্যবেক্ষণ করেছি আরও সন্তুষ্ট আছি।

সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হচ্ছে। আরও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিচ্ছি। কর্তৃপক্ষরা স্বস্তি প্রকাশ করলেও যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তারা। পদে পদেই তাদের গুণতে হচ্ছে দিগুণ টাকা। বিশেষ করে সদরঘাটের কুলিদের অত্যাচারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের চাহিদা মতে টাকা না দিলে মারপিটের শিকার হতে হয়।

এমন ঘটনা গতকালও ঘটেছে কয়েকটি। এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বরিশালের যাত্রী বকুল মিয়া। তার ছোট একটি বস্তা কুলিকে মানা করার পরও সে জোর করে লঞ্চে তুলে দিয়ে ৫০০ টাকা দাবি করে। পরে এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরও কয়েকজন কুলি একত্রিত হয়ে তাকে কিল ঘুষি মারে।

পরে অন্যরা এসে মীমাংসা করে। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। অন্যদিকে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর সুরে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও। তিনি বলেছেন, এবারের ঈদযাত্রা হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা।

ঈদযাত্রায় কোনো যানজট কিংবা ভোগান্তি নেই। মানুষ স্বস্তিতে ঘরে ফিরতে পারবে। নারায়ণগঞ্জের দ্বিতীয় মেঘনা সেতু পরিদর্শন শেষে সোনারগাঁয়ে হাইওয়ে পুলিশ কমান্ড অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় ও ঈদকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তায় আরও সর্বোচ্চ সতর্ক আছি, থাকব এবং আমাদের বাহিনীর সদস্যরাও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে যেসব অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে সেগুলো শিগরিরই মীমাংসিত হবে।

অন্যদিকে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। গতকাল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. আবু নাসের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রাজধানীর বনানীস্থ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সদর দপ্তরে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি ৯ জুন পর্যন্ত চালু থাকবে।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর- ৫৫০৪০৭৩৭ এবং মোবাইল নম্বর ০১৫৫০০৫১৬০৬। সড়ক-মহাসড়কে যানজট, ভোগান্তি কিংবা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে অথবা বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানানো যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত