শিরোনাম

স্বস্তির বৃষ্টিতে নগরবাসীর অস্বস্তি

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ১১:২৭, জুন ১৪, ২০১৯

রাজধানীতে টানা কয়েক দিনের অস্বস্তিকর গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল জনজীবন। প্রচণ্ড গরমের পর দমকা হাওয়ার সঙ্গে স্বস্তির বৃষ্টি হলেও রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।

গতকাল একটু বৃষ্টিতেই মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ২ নম্বর গেটের সামনে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। এতে বরাবরের মতো এ বছরও লাখ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতে কয়েক ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হয় এ সড়কে। এতে স্বস্তির বৃষ্টি অস্বস্তিতে রূপ নেয়।

এলাকাবাসীদের মতে, সহজে নিরসন হচ্ছে না জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টি হলেই বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিস-আদালতমুখী পেশাজীবী শ্রেণির মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের পড়তে হয় নানা সংকটে।

রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাক, মালিবাগ লেভেলক্রসিং, চৌধুরীপাড়া, মৌচাক থেকে শান্তিনগর, সেখান থেকে রাজারবাগ, শান্তিনগর থেকে কাকরাইলে আর মগবাজার ওয়্যারলেস থেকে মৌচাক এলাকায় নেমে এসেছে এ রকমের ‘নরক যন্ত্রণা’।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নিচের সড়কের আশপাশের এলাকাগুলো হয়ে উঠেছে ‘দুর্ভোগ-ফাঁদ’। অথচ এই এলাকার ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পানি নিষ্কাশন পাম্প ব্যবহারে প্রতিবছর ঢাকা ওয়াসা প্রায় কোটি টাকা খরচ করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের বেশকটি স্থানে পানি জমে আছে। ফ্লাইওভারের চৌধুরীপাড়ার অংশের কয়েকটি স্থানে পানি জমেছে। মগবাজার ওয়ারলেস গেট সংলগ্ন উপরের অংশেও পানি জমে আছে। সোনারগাঁওমুখী লুপেও জমে ছিল পানি। রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে মূল কর্তৃপক্ষ ঢাকা ওয়াসা।

সংস্থাটির হিসাব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার, খাল খনন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পানি নিষ্কাশন পাম্প ব্যবহারে বছরে গত বছর ৪০ কোাটি টাকা খরচ করা হয়। এর মধ্যে কাকরাইল মোড় থেকে মালিবাগ মোড়, শান্তিবাগ, গুলবাগ, মধুবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এলাকা থেকে চামেলীবাগ হয়ে শান্তিনগর মোড়, সার্কিট হাউস রোড, বেইলি রোড ও আশপাশের এলাকার ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার না করায় বৃষ্টিতে পানি জমে যায়।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ফ্লাইওভারে জলাবদ্ধতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার নয়। নকশায় ত্রুটি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা না নিয়ে একের পর এক ফ্লাইওভার নির্মাণ করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

মগবাজার এলাকার বাসিন্দা খালিকুজ্জামান আমার সংবাদকে বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ফ্লাইওভার নির্মাণ করায় অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে যাচ্ছে। একটু ভারি বর্ষণ হলেই ফ্লাইওভারটির বিভিন্ন অংশে জ্যামের সৃষ্টি হয়। পানি অপসারণের বিভিন্ন সংযোগ লাইন বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক আমার সংবাদকে বলেন, পরিকল্পনার অভাবে ফ্লাইওভারের উপর ও মুখে পানি জমে যাওয়া। আমরা শুধু উন্নয়নের মহড়ায় আছি। কিন্তু উন্নয়ন কাজের রক্ষণাবেক্ষণে মোটেও নজর নেই। কাজ শেষে জবাবদিহিতার কোনো লক্ষ্য না থাকায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ইচ্ছায় কাজ করে চলে যায়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানাসের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান আমার সংবাদকে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রকল্প নেয়া হয়। কিন্তু প্রকল্প নেয়ার আগে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না।

অনেক সময় দেখা যায় যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, তাতে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ে। এছাড়া বিগত বছরগুলোয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নামে ঢাকাকে বালতির মতো করে ফেলা হয়েছে। এখন বালতি থেকে পাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। সেচে সেচে জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ।

প্রসঙ্গত, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে মাটির ওপরে (সারফেস) প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার ড্রেনেজ লাইন এবং মাটির নিচে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার ড্রেনেজ পাইপলাইন রয়েছে। এসব রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসার তত্ত্বাবধানে রয়েছে মাটির নিচে সাড়ে তিনশ কিলোমিটার মূল ড্রেনেজ লাইন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত