শিরোনাম

ঐক্যফ্রন্টের অবস্থা দেখে করুণা হয় : তথ্যমন্ত্রী

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:০৫, জুন ১১, ২০১৯

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আজ জোটের ঐক্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টে ঐক্য নেই।

অনেক নেতা ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান অবস্থা দেখে হাসি পায়। একইসঙ্গে করুণা হয়। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারা বারবার বলে আসছিলেন, বৃহত্তর ঐক্য, জাতীয় ঐক্য আর ফ্রন্টের নাম ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টেই ঐক্য নেই, ঐক্য ধরে রাখার জন্য তারা আজ মিটিং ডেকেছেন। নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ঐক্য ধরে রাখার জন্য বৈঠক করতে হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের গড়ে তোলার জন্য তাদের যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ঘোষণা— সবগুলোই হাস্যকর। আজকে (গতকাল সোমবার) বৈঠকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যে ঐক্য নেই সেটি আরও স্পষ্ট করে দেখালেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর নিয়ে গত রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নাম নিতেও ঘৃণা লাগে।

তিনি আরও বলেন, আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন তার (তারেক রহমান) শাস্তি কার্যকর হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে নিয়ে করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ বলেছেন এই বক্তব্য শিষ্টাচারবহির্ভূত।

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শিষ্টাচার তো বিএনপির কাছ থেকে আমাদের শিখতে হবে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে বলব, তার নেত্রীকে শিষ্টাচার শেখানোর জন্য।

তিনি এমন একটি দলের মহাসচিব যে দলের চেয়ারপারসনের ছেলে কোকো মারা যাওয়ার পর দেশের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুয়ারের সামনে গিয়ে ১৫-২০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়া দরজা খোলেননি। কোনো শত্রুও যদি সহমর্মিতা জানানোর জন্য কারো বাড়িতে হাজির হয় আমাদের সামাজিক আচার হচ্ছে তার জন্য দরজাটা খুলে দেয়া।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন। টেলিফোনে যে ভাষায় বেগম খালেদা জিয়া কথা বলেছেন, সেটি সব শিষ্টাচারবহির্ভূত ছিল। তাই আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তার নেত্রীকে শিষ্টাচার শেখানোর জন্য বলব।

প্রধানমন্ত্রী গত রোববার বলেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব হচ্ছে কোনো শাস্তিপ্রাপ্ত আসামির শাস্তি কার্যকর করা। এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তারেক রহমান দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত, একুশে আগস্ট গ্রেনেডহামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। তারেক রহমানের শাস্তি কার্যকর করা হচ্ছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সেই কথাই বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক দৈন্যদশা এই পর্যায়ে গেছে যে, হত্যাকাণ্ডের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, দুর্নীতির দায়ে ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসাামি তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। এটি তাদের জন্য প্রচণ্ড লজ্জাকর, রাজনৈতিক দৈন্যের বহিঃপ্রকাশ।

ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, শিষ্টাচারের কথা বলে মির্জা ফখরুল মহাসচিবের পদটি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন তিনি দায়িত্ববোধ থেকেই বলেছেন। নিশ্চয়ই তারেক রহমানের এই শাস্তি একদিন কার্যকর হবে।

বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা শপথ নিয়ে বলেছেন, এই সংসদ অবৈধ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, এই কথার মাধ্যমে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজেকে অবৈধ বলেছেন।

শপথ নিয়ে বলছেন, এই সংসদ অবৈধ। এর মানে এই সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনিও অবৈধ। এটিতে হাসব, নাকি কিছু বলব বুঝে উঠতে পারছি না। তাদের বক্তব্যে সব সময় দ্বৈততা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত