শিরোনাম

খালেদার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১১:১৮, আগস্ট ১৬, ২০১৯

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনর্নিবাচন দাবি ও সম্প্রতি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি সহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ফের বিভাগীয় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

উক্ত দাবিতে ইতিমধ্যে তিনটি বিভাগীয় সমাবেশ করেছে দলটি। এই তিনটি সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের বিপুল সংখ্যক জমায়েত নিয়ে বিএনপির তৃণমূল উজ্জীবিত। এভাবে বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে চায় দলটি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় বলে তাঁরা দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের অর্থনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থার ক্ষতি করে যাচ্ছেন। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়।

তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। এ কারণে সরকার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ক্ষতি করছে। দেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল- আওয়ামী লীগ এমন দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তা জনগণকে ভুল বোঝানোর একটি কৌশল মাত্র। এটি অনেক অর্থনীতিবিদ এরইমধ্যে প্রমাণ করে দিয়েছেন।'

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির অভিযোগ করেছেন, খালেদা জিয়াকে শুধু অন্যায়ভাবে সাজাই দেয়া হয়নি, এখন তার ওপর চলছে নানা কায়দায় অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন। তার শারীরিক অসুস্থতার যাতে যথাযথ চিকিৎসা না হয়, তার জন্য সরকার এমন কোনো ফন্দি নেই যা আঁটছে না।

রিজভী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজ দেশেরই একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চাচ্ছেন যেখানে তাঁর যথাযথ চিকিৎসা হবে বলে তিনি মনে করেন। আর এই জন্য রাষ্ট্রের কোনো টাকা লাগবে না - তাঁর আত্মীয়স্বজনরাই চিকিৎসার ব্যয় বহন করবে বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। ১৮৯৪ সালে কারাবিধি যখন তৈরি হয় তখন ইউনাইটেড বা স্কয়ার হাসপাতাল ছিল না।

এদিকে, কোরবানি ঈদের আগেই সব বিভাগের সমাবেশ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল বিএনপির হাইকমান্ডের। কিন্তু রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ জেলাগুলোয় বন্যা কবলিত হওয়ায় বিভাগীয় সমাবেশ শেষ করতে পারেনি দলটি। বরং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায় দলটি।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার মুক্তি এবং অবিলম্বে পুনর্নির্বাচনের দাবি ও গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, অব্যাহত গুম-খুন-ধর্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলার ক্রমাবনতির প্রতিবাদে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

পাশাপাশি পুঁজিবাজারে আমানতকারীসহ ব্যাংকিং তথা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বেহাল দশার বিষয়ে ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচি দেয়া হবে। ইতোমধ্যে গত ১৮ জুলাই বরিশালে, ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনায় সমাবেশ করেছে বিএনপি।

এই তিনটি সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের জমায়েত নিয়ে বিএনপির তৃণমূল উজ্জীবিত। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে বাকি বিভাগীয় সমাবেশগুলো দ্রুত শেষ করতে চায় বিএনপি। যদিও ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরগুলোয় সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দলের হাইকমান্ড।

বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতারা। পাশাপাশি আগামী অক্টোবরের মধ্যে দলের জাতীয় কাউন্সিলের আগে দল পুনর্গঠনের কাজও সেরে নিতে চান তারা। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে শুন্য পদসমূহ পূরণ, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন এবং জেলা কমিটিগুলো গঠন করা হচ্ছে।

সমাবেশ শেষে জেলা পর্যায়ে সমাবেশেরও চিন্তাভাবনা রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের। কুরবানির ঈদের আগেই সবগুলো বিভাগীয় শহরে সমাবেশ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল কিন্তু বন্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন অবশিষ্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক সম্পাদকদেরকে সমাবেশের তারিখ ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজেরা আলোচনা করে তারিখ চ‚ড়ান্ত করে কেন্দ্রকে জানাবেন।

জানা যায়, গত ২২ জুন রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি সহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মসূচী দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যার অংশ হিসেবে প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করবে বিএনপি। এরপর ১৩ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির ফের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কর্মসূচী প্রণয়ন সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিশদ আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়া মাঠ প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক। ওইদিনই তাকে কারাগারে নেয়া হয়। কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একাধিকবার ভর্তি করা হয়।

সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে বিএনপি। একইসাথে আইনী লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন দলের সিনিয়র আইনজীবীরা।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত