শিরোনাম

জিয়া-এরশাদ অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:১৯, আগস্ট ১৬, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছিল। চালের দাম ১০টাকা থেকে ৩ টাকায় নেমে এসেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যখন ব্যাহত করা যাচ্ছিল না, তখনই ষড়যন্ত্র করে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। এরপর ক্ষমতায় এলো জিয়াউর রহমান। তিনি সামরিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এলেন। বন্দুকের নলের জোরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেন।

‘তিনি হ্যাঁ/না ভোটের আয়োজন করে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। এরপর জিয়া রাজনৈতিক দল গঠন করলেন। জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল ছিল অবৈধ। হাইকোর্ট রায় দিয়ে তাদের শাসন কে অবৈধ ঘোষণা করেছে। সুতরাং তাদের রাষ্ট্রপতি বলা যায় না। তারা হলেন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী।’

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচির অংশ হিসাবে আলোচনা সভা হয়। সভার শুরুতে ১৫ আগস্ট শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করেন নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের যোগাযোগ ছিল। খুনিরা জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে ইশারা পেয়েছিল। ইশারা পেয়ে খুনিদের এমন মনোভাব ছিল যে তাদের কিছুই হবে না।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্য ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) ৭ মার্চের ভাষণে শেষ কথা বলেছেন, প্রয়োজনে বুকের রক্ত দেব। আর সেই রক্তই তিনি দিয়ে গেছেন। আমাদের সেই রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তার স্বপ্নপূরণ হবে। আজকের দিনে পিতা তোমাকে কথা দিলাম, তোমার স্বপের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, আজ অন্তত এইটুকু বলতে পারি। তার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) আদর্শ নিয়ে আমরা চলেছি। কৃতজ্ঞতা জানাই দেশবাসীর প্রতি। বাবা-মা, ভাই সব একদিনে হারিয়ে নিঃস্ব- হয়েছিলাম। দেশ ছেড়ে যখন যাই সবই ছিল, যখন ফিরে আসি শূন্য। কেউ নেই। সব হারিয়ে পেয়েছিলাম লাখো মানুষ। তাদের আপন করে নিয়েছি। আর আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী মুজিব আদর্শের সৈনিক, তারাই আমাকে আপন করে নিয়েছে। সেখানেই পেয়েছি বাবা-মা ভাইয়ের ভালবাসা, এখানেই আমার সব থেকে বড় শক্তি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হলেও সেদিন বিদেশে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

সপরিবারে স্বজন হারানোর পরবর্তী দিনগুলোর কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আমরা মনে করি এটা আমাদের দুর্ভাগ্য ছিল যে, মাত্র ১৫ দিন আগে ২টি বাচ্চাসহ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে আমি দেশ ছেড়ে গিয়েছিলাম স্বামীর কর্মস্থলে, সে কারণেই আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম। সে বাঁচাটা বাঁচা না, সে বাঁচার যন্ত্রণাটা মৃত্যু থেকেও অনেক বেশি। ছয় বছর দেশে আসতে পারিনি। অন্য দেশে রিফিউজি হয়ে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হয়েছিল।

১৫ আগস্টের বর্বর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, একই দিনে আমাদের বাসা, মেজ ফুপুর বাসা, সেজ ফুপুর বাসা, ছোট ফুপুর বাসা, এমনকি ৩২ নম্বরে যে বাসায় আমি থাকাতাম সে বাসাতেও তারা গিয়েছিল। আমাদের বাড়িতে যে কয়জন থাকত সবাই খুনের শিকার। কামালকে হত্যা করেছে। আমার আব্বা যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, জাতির জনক তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বোধ হয় বিশ্বাসই করতে পারেননি যে, কখনও বাংলাদেশের মানুষ তাকে আঘাত করতে পারে।

এভাবে হত্যা করতে পারে। আমার মা কিন্তু জীবন ভিক্ষা চাননি। আমার মা যখন জেনেছেন আমার আব্বাকে হত্যা করেছে সোজা বলে দিয়েছেন, ওনাকে হত্যা করেছ, আমাকেও হত্যা কর। আমি এখান থেকে এক পা-ও নড়ব না।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, ভাবখানা এরকম হয়েছিল যে, এটা শুধু একটা পরিবারের ওপর আঘাত। এখানেই বোঝার ভুল ছিল, এটা একটা পরিবারের ওপর না, যাদের হত্যা করেছিল তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা, সরাসরি হাতে বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ করেছে। এই হত্যাকাণ্ড ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা যে বিজয় অর্জন করেছি, সেই বিজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া এবং সে বিজয়কে ধুলিস্যাৎ করে দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের আবার ক্ষমতায় পুনর্বাসিত করা।

সভায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনে অনুঘটক হিসবে ৭২ থেকে ৭৫ সময়কালীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সরকারপ্রধান। তাদের বোধের অভাবকে দায়ী করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ড লীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সদস্য অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান প্রমুখ।

যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

আরএফ/আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত