শিরোনাম

সেই সাহসী কন্যা ইতিহাস গড়তে চায়

আবদুর রহিম  |  ২০:৪৭, আগস্ট ১৮, ২০১৯

ডালিয়া রহমান। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সহ-সম্পাদক। এবার ছাত্রদলের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়ে রোববার ফরম তুলেছেন।

২০০৬ সালে বড় ভাইয়ের হাত ধরে কুমিল্লা বরুড়া কলেজ থেকে রাজনীতি শুরু করেন। অল্প সময়ের রাজনীতিতে সরাসরি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ পেয়েছেন। রাজনীতি ছাড়াও ডালিয়া একজন ব্যাটমিন্টন তারকা। ন্যাশনাল টিমের ৪৬ সদস্যের মধ্যে তার র‍্যাঙ্কিং ১৮।

এছাড়া বিএনসিসি ক্যাডেটের সদস্যও তিনি। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে এখন ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে চোখে চশমা, শার্ট, জিনসের প্যান্ট পরে স্কুটি নিয়ে সামনে থেকে সবার কাছ থেকে পেয়েছেন সাহসী কন্যার স্বীকৃতি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ দলের কেউ তাকে আটকাতে পারেনি। খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরের একমাত্র নারী বাইকার ছিলেন তিনি। ‘মোটরসাইকেল প্রটোকল রাইড’ দৃষ্টি কেড়েছিলো সবার। গাড়ি বহরের ঠিক সামনে থেকে একাই লুকিং গ্লাসে দেখতেন নেত্রীকে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে নয়াল্টনে বিএনপির কার্যালয় থেকে ছাত্রদলের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে ফরম তুলে মুখোমুখি হোন দৈনিক আমার সংবাদের। বলেছেন, এবারের কাউন্সিলে ছেলে মেয়ের কোনো প্রার্থক্য নেই। আমি যদি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস হবে। মেয়েদের বিজয় হবে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে এখন নারী নেতৃত্ব কমে যাচ্ছে। আমি প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে এটা নারীদের জন্য বড় ম্যাসেজ।

বিজয় হওয়ার আশা নিয়ে ডালিয়া রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী বিগত সময়ে টানা সরকারবিরোধী আন্দোলন, সংগ্রামে, ভোটবাক্স লুটের প্রতিবাদে আমি সব সময় রাজপথে সরব ছিলাম। ঢাকায় পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে আমি সবার দৃষ্টিতে ছিলাম। যারা এবার ভোটার হচ্ছে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের স্থান থেকে পরীক্ষিত। তারাও বিচার বিশ্লেষণ করবেন আসলে কারা প্রকৃতপক্ষে রাজপথের সৈনিক।

কারণ তারাও তাঁদের যায়গা থেকে কাজ করেছে আর আমরাও ঢাকায় আন্দোলন করেছি। সেই যায়গা থেকে আমি খুবই আশাবাদী- যারা মূলত রাজপথে থাকেন এবং এবারের কাউন্সিলে ভোট দেবেন তাঁরা মূলত রাজপথের ভূমিকা বিচার করেই ভোট দেবেন। ওরা কোনো বড় ভাইয়ের সুপারিশে ভোট দেবে না। পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। যে যায়গায় থেকে আমি সবার পরিচিত মুখ, আমাকে বিগত সময়ে রাজপথে দেখেছেন।

ডালিয়া বলেন, কুমিল্লার বরুড়া থানায় আমার বাড়ি। বরুড়া কলেজ থেকে আমার রাজনীতি শুরু। ২০০৬ সালে আমার আপন বড় ভাই ওই কলেজের ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন। ওর মাধ্যমেই ছাত্রদলে আমার হাতেখড়ি। আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বরুড়া থানায় আমার বাবা ছিলেন যুবদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

খালেদা জিয়ার সরাসরি আশীর্বাদ পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে ম্যাডাম (বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া) এর সাথে আমার অসংখ্যবার সরাসরি দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। আমার যে কোনো সুবিধা, অসুবিধা ম্যাডামকে সরাসরি বলতে পারতাম এটাই ছিলো আমার বড় সৌভাগ্য।

কখনো টানা প্রোগ্রাম হলে, আমার পরীক্ষার কারণে কিংবা অন্যকোনো সমস্যার কারণে কখনো পোগ্রামে যেতে না পারলে ম্যাডাম নিজেই জিজ্ঞেস করতেন, ‘আজ ডালিয়া কোথায় ও আসেনি, ওর কি শরীর খারাপ করলো নাকি’।

বিষয়গুলো পরে আমি অন্যদের মাধ্যমে জানতাম। ওরাই তখন আমার সমস্যার কথা ম্যাডামকে বলতো। আমার এই অল্প রাজনীতিতেই এটাই বড় প্রাপ্য। ম্যাডাম, আমাকে চেনেন, আমার সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ম্যাডামের সঙ্গে যখন তখন গিয়ে কথা বলার সুযোগটা ম্যাডাম আমায় করে দিয়েছেন। মেয়েরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, মেয়েদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়- ম্যাডাম বিষয়গুলোতে সব সময় খোঁজখবর নিতেন। এই জন্যই আমি সতেস্ফূর্তভাবে রাজনীতি করে যাচ্ছি। ছেলেমেয়ে এক সাথে সংগঠন করতে গেলে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়, কিন্তু আমাকে সেই ঝামেলায় কখনো পড়তে হয়নি।

এখন পর্যন্ত আটক না হলেও বর্তমান সময়ে তার ভালো সময় যাচ্ছে না জানিয়ে বলেন, আমি এখন পর্যন্ত আটক হইনি। ম্যাডাম আটক হওয়ার পর থেকে আমি দীর্ঘ সময় ঢাকায় থাকতে পারিনি, বাসায় থাকতে পারিনি, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে লুকিয়ে গিয়ে। পুলিশ, ডিবি আমাকে আটক করার জন্য তন্নতন্ন করে খুঁজেছে।

ঢাকায় আসার পর কিছুদিন পরপর আমাকে বাসা পরিবর্তন করতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে , ম্যাডাম আটক হওয়ার পর আমাকে নিয়ে যখন একটু লেখালেখি হলো, ম্যাডামের গাড়ির সামনে যখন একমাত্র আমিই সাহস নিয়ে সামনে ছিলাম এরপর আমি টানা দুই মাস ঢাকায় থাকতে পারিনি। আমাকে আন্ডাগ্রাউন্ডে চলে যেতে হয়েছে। আমি কোনোভাবেই প্রকাশ্যে আসতে পারিনি। আমাকে বাসা ছেড়ে, ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত এরেস্ট হইনি, তবে একটা ব্যাগ সব সময় গোছানো থাকে, এরপরও বলাতো যায় না কখন এরেস্ট হয়ে যাই।

সবার কাছে দোয়া চেয়ে ডালিয়া বলেন, একমাত্র মেয়ে হিসেবে আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লিডার ছিলাম, বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের রাজনীতিটা শুরু আমার মাধ্যমে। সবার দোয়া পেলে আমি আরো এগিয়ে যাবো।

এআর/আরআর

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত