শিরোনাম

খালেদার মুক্তিতে ছাত্রদলের আগামী নেতৃত্ব ভূমিকা রাখবে

আবদুর রহিম  |  ২১:০৫, আগস্ট ২০, ২০১৯

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ১১০জন মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। প্রথম দফায় ঝরে পড়ে ৩৫ জন! মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন আগ্রাহী ৭৫ জন প্রার্থী। সভাপতি পদে লড়তে ২৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দুই নারীসহ ৪৮ জন ফরম জমা দেন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের মনোনয়ন ফরম বাছাই চলবে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩১ আগস্ট। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ২ সেপ্টেম্বর। প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর মধ্য রাত পর্যন্ত।১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত দুই পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি প্রার্থী আল মেহেদী তালুকদার আমার সংবাদকে বলেন, আসন্ন কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদল ত্যাগী নেতৃত্ব খুঁজে পাবে।

যে নেতৃত্বের কাজ হবে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় সুষ্ঠ ছাত্র রাজনীতি চালু করা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সততা ও ঐক্যবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে খালেদার মুক্তির আন্দোলনে ছাত্রদলের অগ্রণী ভূমিকা থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।

সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক মামুন খান বলেন, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মামুন খান বলেন, ১৯৯২ সালে সর্বশেষ কাউন্সিল হয়। দীর্ঘ ২৮ বছর পর এসে ২০১৯ সালে আবার কাউন্সিল হচ্ছে। এটা নতুন প্রজন্মের জন্য বড় পাওয়া। যুগান্তকারী এ সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাই।

তার এই সিদ্ধান্তে তৃণমূল খুবই উজ্জীবিত। তিনি বলেন, সকল আন্দোলন সংগ্রামে আমি রাজপথে সক্রিয় ও কার্যত প্রদক্ষেপ নিয়ে মাঠে ছিলাম। আমাদের তারুন্যর অহংকার তারেক রহমানের কাছেও আমার রাজপথে থাকার বৃত্তান্ত আছে। আমার দৃঢবিশ্বাস রাজপথের ভূমিকা বিবেচনা করে ভোটাররা এবার প্রার্থীদের ভোট দেবে।

শত প্রতিকুলতার মাঝেও আসন্ন কাউন্সিল ছাত্রদলের পুনর্জাগরণ আনবে এবং মাতৃতুল্য দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন বেগবান হবে বলে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। আমি সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে শুধুমাত্র রাজপথের ত্যাগী ও সাহসীদের দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংগঠন পুনর্গঠন করে সর্বাগ্রে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন শুরু করতে বদ্ধপরিকর।

সদ্য বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বৃত্তি ছাত্রকল্যাণ বিষয় সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ সংগঠনকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ও গণতান্ত্রিক পন্থায় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য ষষ্ঠ কাউন্সিলের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন আমরা ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মী তাকে সাধুবাদ জানাই।

আমি বিশ্বাস করি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান ছাত্রদলের কাউন্সিল পরিচালনার জন্য যে সকল সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দিয়েছেন তা কোনো বলয়ের প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন এবং ছাত্রদলের তৃণমূলের কাউন্সিলর নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে সক্ষম হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ষষ্ঠ কাউন্সিল সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহ নেওয়াজ বলেন,বিশেষ করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই তারুন্যর অহংকার আমাদের অভিভাবক তারেক রহমানকে। তিনি দীর্ঘদিন পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য। নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রদলের আগামী নেতৃত্ব শক্ত ও মজবুত হবে।

গণতন্ত্রের নেত্রীকে আন্দোলনের সংগ্রামের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতৃত্ব ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেনি তিনি। ছাত্রদলের এই সিনিয়র সদস্য আরো বলেন, ষষ্ঠ কাউন্সিলের কাউন্সিলররা যদি ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করে তবে সরকার তার ছাত্রলীগ নামক সংগঠন দিয়ে সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে দখলদারিত্ব কায়েম করেছে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখলদারিত্ব মুক্ত করে স্বাভাবিক শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক তানজিল হাসান বলেন, এবারের কাউন্সিল নিয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যে পরিমাণে ছাত্রদলের নেতারা সরব হয়েছেন। তা অতীতের চাইতে বেশ লক্ষণীয়।

তিনি বলেন, এবার তারেক জিয়ার সঠিক সিদ্ধান্তের জন্যই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দলের সবাই আস্থা রাখছেন আমাদের অভিভাবক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ওপর। তিনি অবশ্যই সুন্দর একটা কমিটি উপহার দেবেন।

ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডালিয়া রহমান বলেন, এবারের কাউন্সিলে ছেলে মেয়ের কোনো প্রার্থক্য নেই। আমি যদি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস হবে। মেয়েদের বিজয় হবে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে এখন নারী নেতৃত্ব কমে যাচ্ছে।

আমি প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে এটা নারীদের জন্য বড় ম্যাসেজ। বিজয় হওয়ার আশা নিয়ে ডালিয়া রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী বিগত সময়ে টানা সরকারবিরোধী আন্দোলন, সংগ্রামে, ভোটবাক্স লুটের প্রতিবাদে আমি সব সময় রাজপথে সরব ছিলাম।

ঢাকায় পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে আমি সবার দৃষ্টিতে ছিলাম। যারা এবার ভোটার হচ্ছে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের স্থান থেকে পরীক্ষিত। তারাও বিচার বিশ্লেষণ করবেন আসলে কারা প্রকৃতপক্ষে রাজপথের সৈনিক।

এআর-এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত