শিরোনাম

বন্যায় নাকাল নদী-তীরবর্তী মানুষ

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ  |  ০১:১৬, জুলাই ১২, ২০১৯

উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা। নদী-তীরবর্তী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সময় মতো অধিকাংশদেরই আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

যে সমস্ত এলাকায় বন্যা হয়েছে সেখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবি— প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ রিলিফের ব্যবস্থা রয়েছে এবং কন্ট্রোল রুম রয়েছে। সার্বক্ষণিক সব পরিস্থিতি দেখভাল করছেন জেলা প্রশাসকরা।

অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

গতকাল নীলফামারী জেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১২টি চরাঞ্চলের প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটের দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে গতকাল তিস্তা নদীর পানি সকাল ছয়টায় বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় ২ সেন্টিমিটার কমলেও দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপরে উঠে।

ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। বেলা একটার দিকে মুঠোফোনে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, গত বুধবার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে।

গতকাল বেলা একটা পর্যন্ত ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেরস্বর ও পূর্ব ছাতনাই মৌজার প্রায় ৯০০ পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি উঠে। পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়ায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পানিবন্দি লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসতে বলা হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার খালিশা চাঁপনীর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ইউনিয়নের ছোট খাতা ও বাইশপুকুর গ্রামের প্রায় সাড়ে চারশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে সকাল থেকে। দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালী করতে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিগত ৫ দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে প্রায় ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিস্তার পানি দোয়ানি পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি কুলাঘাট পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চর ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এর সঙ্গে গত বুধবার মধ্যরাত থেকে তিস্তায় পানি প্রবাহ বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

অনেক পরিবার গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নৌকা বা ভেলা ছাড়া চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধেয়ে আসা পানির স্রোতে সমস্যায় পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। চারদিকে অথৈ পানির কারণে গবাদি পশুপাখি নিয়ে চরম বিপদে পড়েছেন চরাঞ্চলের খামারি ও চাষিরা।

এ বন্যায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউনিয়নের চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এসব ইউনিয়নের প্রায় ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এদিকে তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেব মোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি রক্ষায় বালির বস্তা দিয়ে রাতভর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে নিরন্তর চেষ্টা চালাছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান মামুন।

এছাড়াও জেলার তিস্তার তীরবর্তী বেশকিছু বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। হঠাৎ বন্যায় শিশুখাদ্য ও নিরাপদ পানির সমস্যায় পড়েছেন চরাঞ্চলের পানিবন্দি খেটে খাওয়া মানুষ। তিনদিন পানিবন্দি থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ বা শুকনো খাবার পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন পানিবন্দিরা।

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় জেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। সিন্দুর্না ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে এলাকার প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ত্রাণের জন্য তাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, জেলা ত্রাণ তহবিলে এক হাজার ৯৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৫০ টন জিআর চাল ও আড়াই লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। উপজেলা থেকে তালিকা পেলে বরাদ্দ দেয়া হবে।

এছাড়াও জামালপুরে বকশীগঞ্জে পাঁচ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জানা গেছে, ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি বাঁধ ভেঙে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে মুষলধারে বৃষ্টির সময় হঠাৎ বাঁধটি ভেঙে গেলে এসব এলাকা প্লাবিত হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বাক্কার মোড় নামক স্থানে বন্যা রক্ষা বাঁধের প্রায় ২০ মিটার ভেঙে যায়। এতে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে কামালপুর ইউনিয়নের সাতানীপাড়া, বালুঝুড়ি, কনেকান্দা, সোমনাথ পাড়াসহ ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যার কারণে শতাধিক স্কুল বন্ধ হয়েছে বলেও জানা গেছে।

জেলার সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হাওরে পানি বাড়ছে। এতে পানিতে ভাসছে নতুন নতুন এলাকা।

জেলার আটটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এসব উপজেলার সড়ক, ঘরবাড়ি, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে জেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে আটটি বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার।

এই দুই উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে এখানে সড়ক ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ উপজেলার পুরোটাই বন্যাকবলিত। বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলার চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বলেন, উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যেগুলোতে পানি ওঠেনি, সেগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু কিছু স্কুলে বন্যাকবলিত লোকজন আশ্রয় নিয়েছে। এই মুহূর্তে মানুষের শুকনো খাবার প্রয়োজন। তাঁরা বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

একইভাবে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জেলার দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, ধরমপাশা ও ছাতক উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাড়িঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান জানান, জেলার আটটি উপজেলার ২০০ শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০১টি বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। অবস্থার উন্নতি হলে আবার পাঠদান শুরু হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, বন্যার পানিতে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। আমরা সেগুলোর খোঁজ নিচ্ছি। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাছে গতকাল দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

গত বুধবার এসময় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৬ হাজার পরিবারের ৮০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেছেন, জেলায় নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কেউ চাইলে সেখানে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

এদিকে টানা পাঁচ দিনের ভারি বৃষ্টিতে বান্দরবান শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া জেলা শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

লামা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল বলেন, ভারী বৃষ্টিতে মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পৌর এলাকার আট হাজার ঘর ও দোকানপাট এবং আশপাশে কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধরাণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, পৌর এলাকার ইসলামপুর, কাসেমপাড়া, আর্মিপাড়া, বনানী স মিল, বাসস্টেশন, হাফেজঘোনা ও বালাঘাটা এলাকায় বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। দুর্গত মানুষদের খিচুরি ও শুকনা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কে বাজালিয়া এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের যানচলাচল তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঝন্টু দাশ।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, গতকাল সকাল থেকে রুমা-থানচি-রোয়াংছড়ি সড়কেও যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কে পানি ওঠায় এবং কিছু জায়গায় ধসের কারণে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারছে না।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, শহরে আটটি আশ্রয়কেন্দ্রে পানিবন্দী ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা ২০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

এর বাইরে আরও ৩০০ পরিবার আছে; যাদেরকে মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হচ্ছে। একইভাবে প্লাবিত হয়েছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া ও তাড়াশ।

পাবনার ফরিদপুর, ভাঙ্গুরা ও চাটমোহর উপজেলা। এছাড়াও বন্যা আঘাত হেনেছে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়।

তিন দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকায় দু-একদিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে নদ-নদীর পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের শতাধিক গ্রামের নুািঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিমজ্জিত হয়েছে নিচু এলাকার কিছু কিছু বীজতলা, ভুট্টা ও সবজির ক্ষেত।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাসহ সবকটি উপজেলার শতাধিক চর গ্রামের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। ঘর-বাড়িতে পানি উঠার উপক্রম হয়েছে।

অনেকে বন্যার আশঙ্কায় উঁচু জায়গায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে এবং বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হবে। তবে ব্যাপক বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গেল ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ৩৭ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে ২৯ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৪৫ সেন্টিমিটার এবং তিস্তায় ১৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখনো বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল আমার সংবাদকে বলেন, গত এক সপ্তাহ আগেই আমরা জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছি নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় নিয়ে আসতে।

জেলা প্রশাসকরা ইতোমধ্যেই আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন বাসিন্দাদের। প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ রিলিফ রয়েছে।

প্রায় ৩০০ মেট্রিক টনের মতো সব জেলায় মজুদ রয়েছে। সুতরাং রিলিফ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। জেলা প্রশাসকরা নিয়মিত আমার সাথে যোগাযোগ করছেন। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত