শিরোনাম

কুষ্টিয়ায় অবাধে চলছে অবৈধ যান তৈরি, প্রশাসন নীরব

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া   |  ১০:০৯, জুলাই ১৭, ২০১৯

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া বাজার এলাকার কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে প্রকাশ্যে তৈরি হচ্ছে অবৈধ নসিমন-করিমনসহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহন। অনেকটা প্রশাসনের নাকের ডগায় এইসব অবৈধ যান তৈরি হচ্ছে।

পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব কারখানায় দেশীয় লোহা-লক্কর ও সেচকাজে ব্যবহৃত ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে অবাধে তৈরি হচ্ছে নসিমন-করিমনসহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহন। জেলার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত ভাদালিয়া বাজার, বটতৈল, আইলচারা বাক্সব্রিজ ও বারখাদা ত্রিমোহনী এলাকার অন্তত ৫০টি ওয়ার্কশপে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হচ্ছে অবৈধ নসিমন-করিমন, আলমসাধু আগলামন ও ট্রলিসহ অন্যান্য যানবাহন। মোটরযান আইন ও স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে অবাধে প্রস্তুত করা হচ্ছে জনজীবনের জন্য চরম হুমকি ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন।

মোটরযান আইনে স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব যানবাহনের কোনো বৈধতা নেই। লোহার এঙ্গেল ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারে চেসিসসহ তৈরিকৃত এ যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ যানবাহনের ব্রেক সিস্টেম ও ইঞ্জিনের গতি তাৎক্ষণিক কমানোর যান্ত্রিক পদ্ধতিও ত্রুটিপূর্ণ। সেচকাজে ব্যবহার্য ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন সংযুক্ত বেপরোয়া গতির এ যানবাহন অহরহ ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা।

অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা অদক্ষ চালকরাই এসব যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, ইট, কাঠ, পাথর, বালু, রড-সিমেন্ট ও অন্যান্য মামলামালসহ সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দেড় থেকে আড়াই টন পর্যন্ত ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এসব যানবাহনের চালকের লাইসেন্স কিংবা গাড়ি চালনায় নেই কোনো দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি জেলায় গড়ে ওঠা প্রায় আড়াইশ’ ইটভাটায় ইট প্রস্তুতের মাটি, বালু ও কাঠ সরবরাহ এবং ইমারত নির্মাণে তৈরি ইট সরবরাহে অবৈধ এ যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমনকি সরকারি কাজে ব্যবহৃত বালি, সিমেন্ট, খোয়া, ইট ইত্যাদি বহন করছে ওইসব অবৈধ যানবাহন। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সত্তেও জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মহাসড়কে এসব অবৈধ যানবাহন কীভাবে চলাচল করছে তা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ।

কুষ্টিয়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যকে মাসোহারার বিনিময়ে অবৈধ যানবাহন মহাসড়কে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নসিমন-করিমনের চালকরা জানান। হাইওয়েতে চলাচলকারী এসব যানবাহনের কিছুসংখ্যক জব্দ করা হলেও অধিকাংশ অবৈধ গাড়িপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা ট্রাফিক পুলিশের অসাধু সদস্যরা আদায় করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে।

ফলে জেলায় অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত ভাদালিয়া বাজারে রশিদের সর্ববৃহৎ ওয়ার্কশপে প্রতিমাসে দুই’শ’ থেকে আড়াইশ’ নসিমন-করিমন তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ভাদালিয়া বাজারেই রয়েছে আরও অনন্ত ২০টি ওয়ার্কশপ। এসব ওয়ার্কশপে তৈরি অবৈধ যানবাহন আশপাশের জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।

জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে। ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতাসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলেও অবৈধ যানবাহনের উৎপাদন বন্ধে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রেজাউল করীম অবৈধ যানবাহন চালকদের কাছ থেকে আর্থিক কোনো সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন।

নসিমন-করিমন মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ জানান, যানবাহন তৈরিতে সরকারি স্বীকৃতি না মিললেও কৃষিপণ্য সরবরাহের সুবিধার্থে তিনি দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে নছিমন-করিমন গাড়ি প্রস্তুত করে আসছেন।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত জানান, হাইওয়েতে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে পুলিশি অভিযান ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ যানবাহন হাইওয়েতে চলাচল বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান, হাইওয়েতে কোনো অবৈধ যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। অবৈধ যানবাহন প্রস্তুতকারক ওয়ার্কশপগুলোর বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত